
টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী। এই উপলক্ষে আজ শুক্রবার ৮ মে ২৫ শে বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি টাঙ্গাইল জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে আলোচনা সভা, রবীন্দ্রসংগীত আবৃত্তি, নৃত্য ও নাট্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিশ্বকবির কর্মময় জীবন, সাহিত্যকীর্তি ও মানবতাবাদী দর্শন তুলে ধরা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের কবি নন তিনি বিশ্বমানবতার প্রতীক। তাঁর সাহিত্য গান ও দর্শন যুগে যুগে বাঙালির চেতনা সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার প্রেরণা জুগিয়েছে। বর্তমান প্রজন্মকে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে রবীন্দ্র চর্চার কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে নতুন প্রজন্মকে বই সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও সংগীত মানুষের হৃদয়ে সৌন্দর্যবোধ দেশপ্রেম ও মানবিকতা জাগ্রত করে। তাই তাঁর আদর্শ ও সৃষ্টিকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে জেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাহিত্যিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ অংশগ্রহণ করেন শিল্পীরা পর্যায়ক্রমে পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যনাট্য। প্রতিটি পরিবেশনায় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল বাঙালির ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও আবেগের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। অনুষ্ঠানের শেষাংশে সম্মিলিত কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
মো: সাজিদ পিয়াল, টাংগাইল থেকে 



















