
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে আপন চাচাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি ভাতিজা সামুয়েলকে (২০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ১১টায় উপজেলার ‘আওয়াল মহল’ এলাকায় তার খালার বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা সামুয়েল রাতে হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে তার খালা সামসুন্নাহারের বাড়ির দিকে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মামলার বাদী ও নিহতের পরিবারকে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে বাদীর পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী বাড়িটি ঘেরাও করে ফেলে এবং থানায় খবর দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ এসে ঘেরাও করা বাড়ি থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আটকের সময় আসামি খাবার খাচ্ছিল এবং তার খালাতো ভাই কায়েস সেখানে উপস্থিত ছিল।
উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল সকাল ৭টায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে চাচা আব্দুর রউফকে (৭০) কাঠের শক্ত শাবল বা লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে ভাতিজা সামুয়েল। ভিকটিমের ছোট মেয়ে আঁখি আক্তার ঘটনাটি দেখে চিৎকার শুরু করলে সামুয়েল পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুর রউফকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ঐদিন রাত ১১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ২০ এপ্রিল নিহতের ছেলে মাওলানা আশিকুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে বানিয়াচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আগামীকাল আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
শাব্বীর আহমদ শিবলী নোমানী, বানিয়াচং থেকে। 







