
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কৃতী ছাত্রী মাশফিহা মাহি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক অনন্য গৌরব অর্জন করেছেন। তিনি আমেরিকার খ্যাতনামা ‘টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটি’-তে এমএস ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) কোর্সে মর্যাদাপূর্ণ ‘ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ’ লাভ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, স্টাইপেন্ড এবং ফেলোশিপের মাধ্যমে তার মাস্টার্সের পড়াশোনা, উচ্চতর গবেষণা ও আমেরিকার জীবনযাত্রার যাবতীয় ব্যয় বহন করবে।
জানা গেছে, মাশফিহার গবেষণার মূল বিষয় ‘সেমিকন্ডাক্টর অ্যান্ড চিপস ডিজাইন’। এই উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে তিনি বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্ভাবনী ও যুগান্তকারী অবদান রাখতে চান।
মাশফিহা মাহি বানিয়াচং ৪নং ইউনিয়নের অন্তর্গত ঐতিহাসিক সাগর দিঘীর পশ্চিম পাড় এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মো. মামুনুর রশিদ বর্তমানে ঢাকায় ‘বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর হেড অব বিজনেস অপারেশন হিসেবে কর্মরত এবং মাতা আসমা পারভীন সিদ্দীকা কেয়া। এই দম্পতির বড় মেয়ে মাশফিহা।
ছাত্রজীবনের প্রতিটি ধাপেই মাশফিহা মাহি মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ২০১৮ সালে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘স্কলার্সহোম স্কুল’ থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন এ+ এবং ২০২০ সালে ঢাকার ‘আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ’ থেকে এইচএসসিতেও গোল্ডেন এ+ অর্জন করেন। এরপর ২০২৬ সালে ঢাকার ‘আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ থেকে কৃতিত্বের সাথে ‘ডিন অ্যাওয়ার্ড’সহ বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন।
কেবল প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনাতেই নয়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নিয়ে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছেন মাশফিহা। তিনি ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে (Huawei) আয়োজিত বিখ্যাত ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। চীনের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত ১০ দিনব্যাপী ওই প্রতিযোগিতায় এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ দলের গৌরবোজ্জ্বল জয়ে তিনি অন্যতম নেতৃত্বদানকারী (লিড) ভূমিকা পালন করেন।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে আমেরিকার টেক্সাসের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করবেন মাশফিহা মাহি। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে বানিয়াচং এলাকাবাসীসহ পুরো জেলাজুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।
বানিয়াচং প্রতিনিধি 
















