
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর নতুন বস্তি এলাকায় দিনের আলো থেকে গভীর রাত—প্রায় নিয়মিতভাবেই বসছে জুয়ার আসর। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চললেও রহস্যজনক কারণে বন্ধ হচ্ছে না এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড। ফলে এলাকাজুড়ে বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা, অপরাধ ও তরুণদের বিপথগামিতা।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন বস্তির কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিদিন বিকেলের পর থেকে তাস ও টাকার বিনিময়ে জুয়ার আসর বসে। সন্ধ্যা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভিড় বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশপাশের এলাকা নয়, শহরের বিভিন্ন স্থান থেকেও জুয়ারীরা এখানে এসে অংশ নেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, প্রায় প্রতিদিনই এখানে জুয়া হয়। পুলিশ মাঝে মধ্যে আসে, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার আগের মতো শুরু হয়ে যায়। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
আরেকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে এলাকায় মাদক সেবন, চুরি ও ঝগড়া-বিবাদও বেড়েছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সী কিশোর ও যুবকদের একটি অংশ সহজে টাকা আয়ের আশায় জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, জুয়ার আসরের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনের অভিযানও দৃশ্যমান ফল দিচ্ছে না। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়ার আসর চললেও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেই? প্রশাসনের নীরবতা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দ্রুত কঠোর অভিযান ও নিয়মিত নজরদারি না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা অবৈধ জুয়ার আসর বন্ধে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার নিয়ন্ত্রণাধীন শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মসমুনের, বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আব্দুস সামাদ আজাদ,মৌলভীবাজার থেকে 


















