সিলেট ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার কুলাউড়ায় নতুন আঙ্গিকে গোবিন্দাস রেস্টুরেন্ট, সাশ্রয়ী মূল্যে মিলবে তিন বেলার খাবার নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল মাহবুবের সঙ্গে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের শুভেচ্ছা বিনিময় ‎হবিগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ‎লাখাইয়ে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজাঁ‎ উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।    ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অলিপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু হবিগঞ্জ কারাগারে মাদক মামলার এক বন্দির মৃত্যু ‎লাখাইয়ে পুলিশের উদ্যোগে মাদক ও অপরাধবিরোধী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি মানিক,সম্পাদক সুধা রঞ্জন
হবিগঞ্জের হাওরে কৃষকের দিশেহারা...

‎ঋণ নিয়ে চাষাবাদ, পানিতে শেষ ২০ হাজার কৃষকের স্বপ্ন

হাওরে জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, একজন নারীর ঋণ করে চাষ করিয়েছিলেন। এখন কান্না তার সম্বলং!

‎

‎টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে হাওর সহ মোট ১১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৬২৩ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং ৫ হাজার ৯১৫ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‎হাওর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। কোথাও কাটা ধান শুকানোর আগেই বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমের ফসল ঘরে তুলতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

‎তাড়ানগাঁও গ্রামের কৃষক সন্ধ্যা রানী দাশ বলেন, ঋণ নিয়ে চাষ করা প্রায় ১০ কিয়ার জমির ধানল ঘরে তোলার আগেই তলিয়ে গেছে। এতে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন হাওরাঞ্চলের আরও অনেক কৃষক।

‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দ্বীপক কুমার পাল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন। তালিকা চূড়ান্ত হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎প্রতি বছরই হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে। তবে এবারের বৃষ্টি ও ঢলে ফসলহানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়বে কৃষকেরা!

‎

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা

হবিগঞ্জের হাওরে কৃষকের দিশেহারা...

‎ঋণ নিয়ে চাষাবাদ, পানিতে শেষ ২০ হাজার কৃষকের স্বপ্ন

সময় ০২:০৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
হাওরে জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, একজন নারীর ঋণ করে চাষ করিয়েছিলেন। এখন কান্না তার সম্বলং!

‎

‎টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে হাওর সহ মোট ১১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৬২৩ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং ৫ হাজার ৯১৫ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‎হাওর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। কোথাও কাটা ধান শুকানোর আগেই বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমের ফসল ঘরে তুলতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

‎তাড়ানগাঁও গ্রামের কৃষক সন্ধ্যা রানী দাশ বলেন, ঋণ নিয়ে চাষ করা প্রায় ১০ কিয়ার জমির ধানল ঘরে তোলার আগেই তলিয়ে গেছে। এতে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন হাওরাঞ্চলের আরও অনেক কৃষক।

‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দ্বীপক কুমার পাল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন। তালিকা চূড়ান্ত হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎প্রতি বছরই হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে। তবে এবারের বৃষ্টি ও ঢলে ফসলহানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়বে কৃষকেরা!

‎