সিলেট ০৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬
News Title :
মধুপুরে আউশনারা ইউপি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মাহবুব আনাম। ‎সিলেটে ২৩ কিলোমিটার ‘বাসিয়া খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‎টাঙ্গাইলে ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন ‎ঋণ নিয়ে চাষাবাদ, পানিতে শেষ ২০ হাজার কৃষকের স্বপ্ন ‎জেন্ডার স্টেরিওটাইপ নিরসনে জামালপুরে স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটি সদস্যদের আলোচনা সভা। ‎বিয়ানীবাজারে র‍্যাবের অভিযান: ওয়ানশুটার গান উদ্ধার ‎টাঙ্গাইলে র‍্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৯ বোতল ফায়ারডিল সহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার সিলেটে ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী; প্রস্তুতি পরিদর্শন করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ‎মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজন বানিয়াচংয়ে চাচা খুনের প্রধান আসামি সামুয়েল গ্রেফতার‎
হবিগঞ্জের হাওরে কৃষকের দিশেহারা...

‎ঋণ নিয়ে চাষাবাদ, পানিতে শেষ ২০ হাজার কৃষকের স্বপ্ন

হাওরে জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, একজন নারীর ঋণ করে চাষ করিয়েছিলেন। এখন কান্না তার সম্বলং!

‎টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে হাওর সহ মোট ১১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৬২৩ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং ৫ হাজার ৯১৫ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‎হাওর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। কোথাও কাটা ধান শুকানোর আগেই বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমের ফসল ঘরে তুলতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

‎তাড়ানগাঁও গ্রামের কৃষক সন্ধ্যা রানী দাশ বলেন, ঋণ নিয়ে চাষ করা প্রায় ১০ কিয়ার জমির ধানল ঘরে তোলার আগেই তলিয়ে গেছে। এতে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন হাওরাঞ্চলের আরও অনেক কৃষক।

‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দ্বীপক কুমার পাল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন। তালিকা চূড়ান্ত হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎প্রতি বছরই হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে। তবে এবারের বৃষ্টি ও ঢলে ফসলহানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়বে কৃষকেরা!

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুপুরে আউশনারা ইউপি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মাহবুব আনাম।

হবিগঞ্জের হাওরে কৃষকের দিশেহারা...

‎ঋণ নিয়ে চাষাবাদ, পানিতে শেষ ২০ হাজার কৃষকের স্বপ্ন

সময় ০২:০৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
হাওরে জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, একজন নারীর ঋণ করে চাষ করিয়েছিলেন। এখন কান্না তার সম্বলং!

‎টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে হাওর সহ মোট ১১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৬২৩ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং ৫ হাজার ৯১৫ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‎হাওর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। কোথাও কাটা ধান শুকানোর আগেই বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমের ফসল ঘরে তুলতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

‎তাড়ানগাঁও গ্রামের কৃষক সন্ধ্যা রানী দাশ বলেন, ঋণ নিয়ে চাষ করা প্রায় ১০ কিয়ার জমির ধানল ঘরে তোলার আগেই তলিয়ে গেছে। এতে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন হাওরাঞ্চলের আরও অনেক কৃষক।

‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দ্বীপক কুমার পাল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন। তালিকা চূড়ান্ত হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎প্রতি বছরই হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে। তবে এবারের বৃষ্টি ও ঢলে ফসলহানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়বে কৃষকেরা!