সিলেট ০৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
News Title :
সচেতন নাগরিক পরিষদের সংবর্ধনায় সিক্ত শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ‎জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ‎নবীগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশাচালক নিহত, মহাসড়ক অবরোধ ‎লস্করপুর থেকে উদ্ধার তক্ষক সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত ‎জামালপুরে টেকসই কৃষি,পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়ােপেস্টিসাইডের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত।‎ মাধআপুরে ৩০ বছরের জরাজীর্ণ ভবন, ছাদ ধসে আহত দপ্তরি, বন্ধ পাঠদান ১০ দফা দাবিতে শান্তিগঞ্জে কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবীদের বৈঠক‎,আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা ‎সিলেটে র‍্যাব-বিজিবির যৌথ অভিযান: ১৩ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্যসহ ট্রাক জব্দ ‎ছাতকে মাদকবিরোধী ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ‎আদালতে অভিযোগ- বিশ্বনাথে সংবাদ সম্মেলন,‎ বিদেশে যেতে দালালের খপ্পরে সর্বস্বান্ত ২১ পরিবার‎
হবিগঞ্জের হাওরে কৃষকের দিশেহারা...

‎ঋণ নিয়ে চাষাবাদ, পানিতে শেষ ২০ হাজার কৃষকের স্বপ্ন

হাওরে জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, একজন নারীর ঋণ করে চাষ করিয়েছিলেন। এখন কান্না তার সম্বলং!

‎টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে হাওর সহ মোট ১১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৬২৩ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং ৫ হাজার ৯১৫ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‎হাওর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। কোথাও কাটা ধান শুকানোর আগেই বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমের ফসল ঘরে তুলতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

‎তাড়ানগাঁও গ্রামের কৃষক সন্ধ্যা রানী দাশ বলেন, ঋণ নিয়ে চাষ করা প্রায় ১০ কিয়ার জমির ধানল ঘরে তোলার আগেই তলিয়ে গেছে। এতে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন হাওরাঞ্চলের আরও অনেক কৃষক।

‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দ্বীপক কুমার পাল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন। তালিকা চূড়ান্ত হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎প্রতি বছরই হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে। তবে এবারের বৃষ্টি ও ঢলে ফসলহানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়বে কৃষকেরা!

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচেতন নাগরিক পরিষদের সংবর্ধনায় সিক্ত শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ

হবিগঞ্জের হাওরে কৃষকের দিশেহারা...

‎ঋণ নিয়ে চাষাবাদ, পানিতে শেষ ২০ হাজার কৃষকের স্বপ্ন

সময় ০২:০৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
হাওরে জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, একজন নারীর ঋণ করে চাষ করিয়েছিলেন। এখন কান্না তার সম্বলং!

‎টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে হাওর সহ মোট ১১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৬২৩ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং ৫ হাজার ৯১৫ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‎হাওর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। কোথাও কাটা ধান শুকানোর আগেই বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমের ফসল ঘরে তুলতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

‎তাড়ানগাঁও গ্রামের কৃষক সন্ধ্যা রানী দাশ বলেন, ঋণ নিয়ে চাষ করা প্রায় ১০ কিয়ার জমির ধানল ঘরে তোলার আগেই তলিয়ে গেছে। এতে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন হাওরাঞ্চলের আরও অনেক কৃষক।

‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দ্বীপক কুমার পাল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন। তালিকা চূড়ান্ত হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎প্রতি বছরই হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে। তবে এবারের বৃষ্টি ও ঢলে ফসলহানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়বে কৃষকেরা!