সিলেট ০৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
News Title :
শেরপুর নতুন বস্তিতে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর: নীরব প্রশাসন? আতঙ্কে স্থানীয়রা! ‎শ্রীমঙ্গলে পুকুরে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার ‎​কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় ফুসকা উদ্ধার ‎টাঙ্গাইলে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত‎ ‎মৌলভীবাজারে ৩০ লাখ টাকার ভারতীয় লজেন্স ও কসমেটিক জব্দ! ‎সিলেটে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন অফিসের ৫০ লাখ টাকা ডাকাতি: জড়িত সন্দেহে সহকর্মীসহ আটক ৯! হবিগঞ্জে তিন থানায় ওসি রদবদল, নতুন দায়িত্বে তিন কর্মকর্তা ‎সিলেটে যাত্রীবাহী বাসে র‍্যাবের তল্লাশি: ভারতীয় চকলেট ও মদসহ গ্রেফতার ৩ ‎যুক্তরাজ্যে কাউন্সিলর নির্বাচিত নবীগঞ্জের রানা রহমান সিলেটে সাংবাদিকের বাসায় ডাকাতি মামলার  আসামি শান্ত মিয়া র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার‎

‎মৌলভীবাজারে ৩০ লাখ টাকার ভারতীয় লজেন্স ও কসমেটিক জব্দ!


‎মৌলভীবাজারে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে সীমান্ত পথে ভারতীয় চোরাচালানের পণ্য। এবার মুরগির খাঁচার নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা হচ্ছিল প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় লজেন্স ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক সামগ্রী। পুলিশের অভিযানে এসব পণ্য জব্দ হলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন—এ ধরনের চালান কি শুধু একটি, নাকি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে বড় কোনো সিন্ডিকেট?

শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের ইসলামপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান আটক করে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ। পরে তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে অভিনব কৌশলে লুকানো বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য

‎মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুমন চন্দ্র সরকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পিকআপ ভ্যানটি আটক করা হয়। গাড়িটি সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকা থেকে পণ্য নিয়ে মৌলভীবাজার শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসে বুকিং দিতে আসছিল।

পুলিশ জানায়, গাড়িতে উপরে রাখা ছিল মুরগির খাঁচা। নিচে গোপন স্থানে রাখা হয় ভারতীয় লজেন্স, ফেইসক্রিম, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন কসমেটিক সামগ্রী। প্রাথমিকভাবে জব্দকৃত পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিলেট অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকা বিশেষ করে জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ হয়ে ছোট ছোট চালানে নিয়মিত ভারতীয় পণ্য দেশে প্রবেশ করছে। পরে সেগুলো কুরিয়ার, পিকআপ বা যাত্রীবাহী যানবাহনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

‎জানা গেছে, চোরাকারবারিরা এখন আর একসঙ্গে বড় চালান পরিবহন করছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা ব্যবহার করছে মুরগির খাঁচা, সবজির ঝুড়ি কিংবা মাছ পরিবহনের গাড়ি। এতে বাহ্যিকভাবে গাড়িগুলো সাধারণ পণ্যবাহী মনে হলেও ভেতরে থাকে কোটি টাকার অবৈধ মালামাল।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধভাবে আসা ভারতীয় কসমেটিক ও খাদ্যপণ্য বাজার দখল করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বৈধ আমদানিকারক ও দেশীয় ব্যবসায়ীরা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য বাজারে আসায় সরকারও হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জব্দ হওয়া পণ্য মৌলভীবাজার শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অন্যত্র পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চোরাই পণ্য পরিবহনে কুরিয়ার নেটওয়ার্ক ব্যবহার নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে

‎এ ঘটনায় গাড়িচালককে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে চোরাচালান চক্রের অন্য সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালান আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার না হলে এ ধরনের চোরাচালান বন্ধ করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে চোরাই পণ্য বিপণনে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে।


ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুর নতুন বস্তিতে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর: নীরব প্রশাসন? আতঙ্কে স্থানীয়রা!

‎মৌলভীবাজারে ৩০ লাখ টাকার ভারতীয় লজেন্স ও কসমেটিক জব্দ!

সময় ০৬:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬


‎মৌলভীবাজারে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে সীমান্ত পথে ভারতীয় চোরাচালানের পণ্য। এবার মুরগির খাঁচার নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা হচ্ছিল প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় লজেন্স ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক সামগ্রী। পুলিশের অভিযানে এসব পণ্য জব্দ হলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন—এ ধরনের চালান কি শুধু একটি, নাকি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে বড় কোনো সিন্ডিকেট?

শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের ইসলামপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান আটক করে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ। পরে তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে অভিনব কৌশলে লুকানো বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য

‎মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুমন চন্দ্র সরকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পিকআপ ভ্যানটি আটক করা হয়। গাড়িটি সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকা থেকে পণ্য নিয়ে মৌলভীবাজার শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসে বুকিং দিতে আসছিল।

পুলিশ জানায়, গাড়িতে উপরে রাখা ছিল মুরগির খাঁচা। নিচে গোপন স্থানে রাখা হয় ভারতীয় লজেন্স, ফেইসক্রিম, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন কসমেটিক সামগ্রী। প্রাথমিকভাবে জব্দকৃত পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিলেট অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকা বিশেষ করে জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ হয়ে ছোট ছোট চালানে নিয়মিত ভারতীয় পণ্য দেশে প্রবেশ করছে। পরে সেগুলো কুরিয়ার, পিকআপ বা যাত্রীবাহী যানবাহনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

‎জানা গেছে, চোরাকারবারিরা এখন আর একসঙ্গে বড় চালান পরিবহন করছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা ব্যবহার করছে মুরগির খাঁচা, সবজির ঝুড়ি কিংবা মাছ পরিবহনের গাড়ি। এতে বাহ্যিকভাবে গাড়িগুলো সাধারণ পণ্যবাহী মনে হলেও ভেতরে থাকে কোটি টাকার অবৈধ মালামাল।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধভাবে আসা ভারতীয় কসমেটিক ও খাদ্যপণ্য বাজার দখল করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বৈধ আমদানিকারক ও দেশীয় ব্যবসায়ীরা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য বাজারে আসায় সরকারও হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জব্দ হওয়া পণ্য মৌলভীবাজার শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অন্যত্র পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চোরাই পণ্য পরিবহনে কুরিয়ার নেটওয়ার্ক ব্যবহার নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে

‎এ ঘটনায় গাড়িচালককে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে চোরাচালান চক্রের অন্য সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালান আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার না হলে এ ধরনের চোরাচালান বন্ধ করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে চোরাই পণ্য বিপণনে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে।