সিলেট ০২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে জয়নাল নামে এক কয়েদির মৃত্যু কুলাউড়ায় পৌরসভা সেলুন সমিতির আয়োজনে বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত ‎সিলেটে ব্যাপক আলোচিত নিখোঁজ দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী উদ্ধার ‎শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স ও ডেগ খুলে মিলল ৮৮ লক্ষাধিক টাকা ও সোনা ‎কোম্পানীগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত শীর্ষ ডাকাত হাবিবুর রহমান গ্রেফতার। চুনারুঘাটে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কৃষক লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার শান্তিগঞ্জে মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম স্মরণে দোয়া মাহফিল ‎নালুয়া চা-বাগান থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার ‎পারিবারিক কলহের জেরে জামাতার ওপর হামলা: শ্বশুর-শাশুড়িসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ‎শান্তিগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন‎সভাপতি রানা, সম্পাদক ফয়জুল

‎পারিবারিক কলহের জেরে জামাতার ওপর হামলা: শ্বশুর-শাশুড়িসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ


‎জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের বিলবালিয়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে জামাতা মো. আলহাজ্ব উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জামাতার মা মোছা. আছিয়া বেগম বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ নিয়ে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিলবালিয়া গ্রামের মো. আনিছুর রহমান ফকিরের ছেলে মো. আলহাজ্ব উদ্দিনের সঙ্গে একই গ্রামের মোছা. হিয়া খাতুনের প্রায় তিন বছর আগে প্রেমঘটিত বিষয়ের জেরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিলবালিয়া এলাকার ইসমাইল হোসেন লিটন মাস্টারের বসতবাড়ির সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

‎​ঘটনার দিন সমাধানের আশায় স্থানীয় মাতাব্বরদের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ১নং বিবাদী হিয়া খাতুনের  বাবা-মা ও চাচা-চাচি দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে জামাতা আলহাজ্ব উদ্দিনের ওপর হামলা চালান। অভিযুক্তরা তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলফুলা জখম করেন। এ সময় তাঁর গলায় থাকা ১১ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত জামাতাকে উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
‎​
‎ভুক্তভোগী আলহাজ উদ্দিন বলেন,বিয়ের পর থেকেই আমার শ্বশুর হাফিজুর আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর স্ত্রীর সাথে চাকরির ট্রান্সফার সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে আমি বাজারে চলে যাই। পরে বাড়ি ফিরে দেখি স্ত্রী বাড়িতে নেই। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে প্রতিবেশী ইসমাইল হোসেন লিটন মাস্টারের বাড়িতে অবস্থান করছে। আমি সেখানে গিয়ে লিটনের মেয়েকে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে বললে তারা বলেন,আমার বাবা আসুক, মীমাংসা করে তারপর নিয়ে যাও। এর মধ্যে আমার শ্বশুর-শাশুড়ি এবং চাচা শ্বশুর ও চাচী শাশুড়ি এসে হাজির হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে স্টিলের লাইট ও লোহার পাইপ দিয়ে আমার মাথায় ও পিঠে আঘাত করেন।

‎​প্রত্যক্ষদর্শী ইসরাত জাহান লিমা জানান, তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার পর আলহাজ্বের স্ত্রী আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে আলহাজ্ব তাকে নিতে এলে তার স্ত্রী যেতে অস্বীকৃতি জানান পরে হিয়া খাতুনের মা বাবা আসলে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আলহাজকে মারধর করেন তারা।

‎​অপরদিকে, অভিযুক্ত হাফিজুর রহমানের বাড়িতে তাকে বা তার ভাই মুখলেসুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। তবে হাফিজুরের স্ত্রী (শাশুড়ি) জামাতার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জামাই খারাপ, আমার মেয়েকে মারধর করে, তাই আমরা মেরেছি।
‎​
‎এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
‎​এই নেককারজনক ঘটনার সুস্থ সমাধান ও আইনের সঠিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে জয়নাল নামে এক কয়েদির মৃত্যু

‎পারিবারিক কলহের জেরে জামাতার ওপর হামলা: শ্বশুর-শাশুড়িসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

সময় ০৮:৫৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‎জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের বিলবালিয়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে জামাতা মো. আলহাজ্ব উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জামাতার মা মোছা. আছিয়া বেগম বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ নিয়ে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিলবালিয়া গ্রামের মো. আনিছুর রহমান ফকিরের ছেলে মো. আলহাজ্ব উদ্দিনের সঙ্গে একই গ্রামের মোছা. হিয়া খাতুনের প্রায় তিন বছর আগে প্রেমঘটিত বিষয়ের জেরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিলবালিয়া এলাকার ইসমাইল হোসেন লিটন মাস্টারের বসতবাড়ির সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

‎​ঘটনার দিন সমাধানের আশায় স্থানীয় মাতাব্বরদের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ১নং বিবাদী হিয়া খাতুনের  বাবা-মা ও চাচা-চাচি দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে জামাতা আলহাজ্ব উদ্দিনের ওপর হামলা চালান। অভিযুক্তরা তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলফুলা জখম করেন। এ সময় তাঁর গলায় থাকা ১১ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত জামাতাকে উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
‎​
‎ভুক্তভোগী আলহাজ উদ্দিন বলেন,বিয়ের পর থেকেই আমার শ্বশুর হাফিজুর আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর স্ত্রীর সাথে চাকরির ট্রান্সফার সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে আমি বাজারে চলে যাই। পরে বাড়ি ফিরে দেখি স্ত্রী বাড়িতে নেই। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে প্রতিবেশী ইসমাইল হোসেন লিটন মাস্টারের বাড়িতে অবস্থান করছে। আমি সেখানে গিয়ে লিটনের মেয়েকে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে বললে তারা বলেন,আমার বাবা আসুক, মীমাংসা করে তারপর নিয়ে যাও। এর মধ্যে আমার শ্বশুর-শাশুড়ি এবং চাচা শ্বশুর ও চাচী শাশুড়ি এসে হাজির হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে স্টিলের লাইট ও লোহার পাইপ দিয়ে আমার মাথায় ও পিঠে আঘাত করেন।

‎​প্রত্যক্ষদর্শী ইসরাত জাহান লিমা জানান, তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার পর আলহাজ্বের স্ত্রী আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে আলহাজ্ব তাকে নিতে এলে তার স্ত্রী যেতে অস্বীকৃতি জানান পরে হিয়া খাতুনের মা বাবা আসলে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আলহাজকে মারধর করেন তারা।

‎​অপরদিকে, অভিযুক্ত হাফিজুর রহমানের বাড়িতে তাকে বা তার ভাই মুখলেসুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। তবে হাফিজুরের স্ত্রী (শাশুড়ি) জামাতার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জামাই খারাপ, আমার মেয়েকে মারধর করে, তাই আমরা মেরেছি।
‎​
‎এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
‎​এই নেককারজনক ঘটনার সুস্থ সমাধান ও আইনের সঠিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।