
জামালপুরের দিগপাইতের ইপিজেড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় পাওয়া পরিচয়হীন সেই নারী অবশেষে নিজের সন্তানদের কোলে ফিরে গেছেন। তার নাম মোছাঃ রোকেয়া বেগম। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি গ্রামের মৃত সানজব আলী ও আবচান বিবির কন্যা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জামালপুরের দিগপাইত থেকে সন্তানরা গিয়ে তাদের মাকে উদ্ধার করে নিজ গৃহে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছু দিন ধরে দিগপাইত এলাকার স্থানীয় এক হৃদয়বান ব্যক্তি পরিচয়হীন এই নারীকে নিজের কাছে রেখে লালন-পালন ও দেখাশোনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে আসে। জামালপুর জেলার দিগপাইত এলাকার দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মানবাধিকার সংগঠক খোরশেদ আলম এবং ‘জামালপুর ভয়েস’-এর সাংবাদিক এস আলম প্রথম বিষয়টির ওপর প্রতিবেদন তৈরি করেন।
পরবর্তীতে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘অনলাইন সিলেট’-এ সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা রোকেয়া বেগমের সন্তানদের দৃষ্টিগোচর হয়। সংবাদ দেখে সন্তানেরা তাদের মা কে সনাক্ত করেন। এবং জামালপুরের দিগপাইতে উপস্থিত হয়ে তাদের নিখোঁজ মাকে সাথে নিয়ে বাড়িতে ফিরেন।
মাকে ফিরে পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে তার সন্তান মনির “অনলাইন সিলেট” দিগপাইতের আশ্রয়দাতা এবং স্থানীয় সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী সহ সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া মাকে এত দ্রুত ফিরে পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর পরিচয় সনাক্ত করতে মানবাধিকার সংগঠক ও সাংবাদিক খোরশেদ আলম ও পুলিশের সহায়তায় জামালপুর জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে রোকেয়া বেগমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।..এনিয়ে গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর জামালপুরে বিভিন্ন মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন পেজে রোকেয়া বেগমের সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন অসহায় নারী কীভাবে নিজ এলাকা ছেড়ে এত দূরে এসে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছিলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানামুখী প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সচেতন মহল এই অমানবিক পরিস্থিতি বা তার নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে কোনো নির্যাতন কিংবা কোনো অপতৎপরতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের দ্রুত প্রচার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি পরিবার তাদের হারানো স্বজনকে ফিরে পাওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
অবশেষে আপন ঠিকনায় পৌছলেন রোকেয়া বেগম। তার সন্তানেরার জামালপুরে পৌঁছে মা’কে নিয়ে ফিরলেন আপন গৃহে।
এস আলম.জামালপুর থেকে। 

















