সিলেট ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
‎গাজীপুরে দাওয়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ইজতিমায় জিকির ও নাত মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে র‍্যাবের যৌথ অভিযান: মদ ও এসকাফসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার শান্তিগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর খালে মিলল যুবকের মরদেহ ‎মৌলভীবাজারের শেরপুরে ১৬ লাখ ৭২ হাজার টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ, আটক-৩ ‎শান্তিগঞ্জে নৌকা বাইচ নিয়ে সংঘাতের শঙ্কা, বন্ধ চেয়ে আবেদম, প্রশাসনের নজরদারি! ‎রক্তের সংকটে প্রসূতির পাশে ইউএনও, নিজেই দিলেন রক্ত কাতারে ভবন থেকে পড়ে কুলাউড়ার নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ছাতকে সড়ক যোগাযোগে নতুন দিগন্ত, ৯৯ কোটি টাকার ৪ লেনের কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি মিলন।। ‎জামালপুরে মাদক ও মোবাইল গেমসের কবল থেকে রক্ষায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ‎ শান্তিগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের সম্মেলন, আংশিক কমিটি ঘোষণা

‎মৌলভীবাজারের শেরপুরে ১৬ লাখ ৭২ হাজার টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ, আটক-৩


‎মৌলভীবাজারের শেরপুরে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে এমন ঘটনা ঘটছে মাঝে মধ্যেই। তবে প্রতিবারই অভিযানের পর সামনে আসে একই প্রশ্ন—যে পণ্যের বাজারমূল্য লাখ লাখ টাকা, সেই পণ্যের প্রকৃত মালিক কে? কার নির্দেশে সীমান্ত পেরিয়ে এসব পণ্য আসছে? আর কোথায় যাচ্ছে এসব চালান? এসব প্রশ্নের উত্তর অনেক ক্ষেত্রেই থেকে যাচ্ছে আড়ালে। অভিযোগ রয়েছে, পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত চালক-সহযোগীরা ধরা পড়লেও চোরাচালানের নেপথ্যের মূল কারবারিরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

‎সর্বশেষ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজারের প্রবেশদ্বার শেরপুরের গোলচত্তর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় তৈরি বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য ও ফুসকাসহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ টাকা।

‎গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—যশোরের কোতোয়ালি থানার বসুন্দিয়া (কালীবটতলা) এলাকার আমিনুর রহমান (৪০), একই এলাকার সাগর হোসেন (২৪) এবং সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার বিছনাকান্দি এলাকার রুবেল মিয়া (২৮)।

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে ভারতীয় তৈরি বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য ও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। জব্দ পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ টাকা। এসব পণ্য বৈধ আমদানি প্রক্রিয়া ও সরকারি রাজস্ব পরিশোধ ছাড়া দেশে আনা হয়েছে বলে পুলিশের অভিযোগ।



‎এ ঘটনায় মৌলভীবাজার সদর থানায় ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মামলা নম্বর-২২ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় The Special Powers Act, 1974-এর ২৫(ডি)/২৫(বি)(বি) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে পরে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

‎শেরপুর-মৌলভীবাজার-সিলেট মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য পরিবহনের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় পণ্য, মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য জব্দের ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনায় অনেক সময় পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হলেও পণ্যের মূল মালিক বা চালান নিয়ন্ত্রণকারীদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসে না।

‎স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন চালক বা সহযোগীর পক্ষে লাখ লাখ টাকার পণ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাত করার পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করা কতটা সম্ভব? তাদের মতে, পণ্য কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কার মাধ্যমে পরিবহন করা হয়েছে এবং কোথায় সরবরাহের কথা ছিল—এসব তথ্যের অনুসন্ধান করা হলে চোরাচালানের নেপথ্যের ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব।

‎চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও শুধু পরিবহনকারীদের গ্রেপ্তার করে মূল চক্রকে শনাক্ত করা না গেলে চোরাচালান বন্ধ করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ একজন চালক বা বাহক গ্রেপ্তার হওয়ার পরও নতুন চালান একই পথে আসার সুযোগ থাকে।

‎সর্বশেষ অভিযানে জব্দ হওয়া ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ টাকার পণ্যের উৎস, প্রকৃত মালিক এবং সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে পুলিশ তদন্ত করছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে এর সঙ্গে জড়িত অর্থদাতা, সরবরাহকারী ও স্থানীয় বাজারের সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা গেলে চোরাচালানের পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

‎মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওবায়দুল্লাহ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় তৈরি চোরাচালানের পণ্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ টাকা। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

‎তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু চালক ও সহযোগীদের গ্রেপ্তার নয়—চোরাচালানের অর্থদাতা, সরবরাহকারী, পণ্যের প্রকৃত মালিক এবং নেপথ্যের মূল কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তবেই শেরপুরকে ব্যবহার করে চলমান চোরাচালানের নেটওয়ার্কে কার্যকরভাবে লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎গাজীপুরে দাওয়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ইজতিমায় জিকির ও নাত মাহফিল অনুষ্ঠিত

‎মৌলভীবাজারের শেরপুরে ১৬ লাখ ৭২ হাজার টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ, আটক-৩

সময় ১১:০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‎মৌলভীবাজারের শেরপুরে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে এমন ঘটনা ঘটছে মাঝে মধ্যেই। তবে প্রতিবারই অভিযানের পর সামনে আসে একই প্রশ্ন—যে পণ্যের বাজারমূল্য লাখ লাখ টাকা, সেই পণ্যের প্রকৃত মালিক কে? কার নির্দেশে সীমান্ত পেরিয়ে এসব পণ্য আসছে? আর কোথায় যাচ্ছে এসব চালান? এসব প্রশ্নের উত্তর অনেক ক্ষেত্রেই থেকে যাচ্ছে আড়ালে। অভিযোগ রয়েছে, পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত চালক-সহযোগীরা ধরা পড়লেও চোরাচালানের নেপথ্যের মূল কারবারিরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

‎সর্বশেষ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজারের প্রবেশদ্বার শেরপুরের গোলচত্তর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় তৈরি বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য ও ফুসকাসহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ টাকা।

‎গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—যশোরের কোতোয়ালি থানার বসুন্দিয়া (কালীবটতলা) এলাকার আমিনুর রহমান (৪০), একই এলাকার সাগর হোসেন (২৪) এবং সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার বিছনাকান্দি এলাকার রুবেল মিয়া (২৮)।

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে ভারতীয় তৈরি বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য ও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। জব্দ পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ টাকা। এসব পণ্য বৈধ আমদানি প্রক্রিয়া ও সরকারি রাজস্ব পরিশোধ ছাড়া দেশে আনা হয়েছে বলে পুলিশের অভিযোগ।



‎এ ঘটনায় মৌলভীবাজার সদর থানায় ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মামলা নম্বর-২২ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় The Special Powers Act, 1974-এর ২৫(ডি)/২৫(বি)(বি) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে পরে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

‎শেরপুর-মৌলভীবাজার-সিলেট মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য পরিবহনের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় পণ্য, মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য জব্দের ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনায় অনেক সময় পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হলেও পণ্যের মূল মালিক বা চালান নিয়ন্ত্রণকারীদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসে না।

‎স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন চালক বা সহযোগীর পক্ষে লাখ লাখ টাকার পণ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাত করার পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করা কতটা সম্ভব? তাদের মতে, পণ্য কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কার মাধ্যমে পরিবহন করা হয়েছে এবং কোথায় সরবরাহের কথা ছিল—এসব তথ্যের অনুসন্ধান করা হলে চোরাচালানের নেপথ্যের ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব।

‎চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও শুধু পরিবহনকারীদের গ্রেপ্তার করে মূল চক্রকে শনাক্ত করা না গেলে চোরাচালান বন্ধ করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ একজন চালক বা বাহক গ্রেপ্তার হওয়ার পরও নতুন চালান একই পথে আসার সুযোগ থাকে।

‎সর্বশেষ অভিযানে জব্দ হওয়া ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ টাকার পণ্যের উৎস, প্রকৃত মালিক এবং সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে পুলিশ তদন্ত করছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে এর সঙ্গে জড়িত অর্থদাতা, সরবরাহকারী ও স্থানীয় বাজারের সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা গেলে চোরাচালানের পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

‎মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওবায়দুল্লাহ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় তৈরি চোরাচালানের পণ্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ টাকা। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

‎তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু চালক ও সহযোগীদের গ্রেপ্তার নয়—চোরাচালানের অর্থদাতা, সরবরাহকারী, পণ্যের প্রকৃত মালিক এবং নেপথ্যের মূল কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তবেই শেরপুরকে ব্যবহার করে চলমান চোরাচালানের নেটওয়ার্কে কার্যকরভাবে লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।