
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সিলেট সফরে এসে এক ব্যস্ততম দিন পার করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সফরকালে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিসিক প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, হুইপ আলহাজ্ব জি গউছ সহ সিলেট বিভাগের সংসদ সদস্যবৃন্দ।

বিমানবন্দর থেকে মোটরকেডযোগে রাষ্ট্রপতি সুরমাপাড়ের সিলেট সার্কিট হাউসে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতিকে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়।
সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছান। সেখানে অবস্থান করে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর রওজা জিয়ারত ও ফাতিহা পাঠ করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেন। এরপর তিনি হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং সেখানেও জিয়ারত সম্পন্ন করেন।
সিলেট নগর ভবনে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়োজনে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং তা রক্ষা করাই দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে, কিন্তু বিভিন্ন সময়ে সেই পথে বাধা এসেছে। এবার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই অবহেলায় হারানো যাবে না। সিলেটকে নিজের অত্যন্ত ভালোবাসার স্থান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সিলেটের মানুষ একদিন বাংলাদেশ চালাবে।
গত এক দশকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলীয় কাউন্সিল, বিভাগীয় গণসমাবেশ, বন্যাপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কিংবা মাজার জিয়ারতসহ নানা কর্মসূচিতে অন্তত ১০ বার সিলেটে এসেছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের সূচনা পর্যন্ত তাঁর এই সফরগুলোতে রাজনৈতিক উদ্দীপনা থাকলেও, এবার তিনি সিলেটে পা রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ ‘রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে।

এ বিষয়ে সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী এবং সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, মির্জা ফখরুলের সঙ্গে সিলেটের মানুষের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। মহাসচিব থেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর এই আগমন সিলেটবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের।
রাষ্ট্রপতির প্রথম সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে মাজার এলাকা, নগরী ও সফরসূচির পাঁচটি ভেন্যুতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় ১,০০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ২০০ জন অতিরিক্ত ও সাদা পোশাকের সদস্য মিলে মোট ১,২০০ পুলিশ সদস্য এবং বিশেষ ইউনিট দায়িত্ব পালন করেন।
নাগরিক সংবর্ধনা ও সার্কিট হাউসের কর্মসূচি শেষে রাতে বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি।
বিশেষ প্রতিনিধি।। 



















