
রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক সদস্যকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোর্শেদকে (২৫) সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর থানাধীন ফতেহপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বালিচাপড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসআরবি-৯, সিলেট এবং এসআরবি-৭, চট্টগ্রামের একটি যৌথ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেফতারকৃত মোর্শেদ কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানার তুতিগঙ্গা উত্তরপাড়া (মাস্টার বাড়ি) এলাকার শাহিদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো.ওসমান গনি (৩২) ঢাকায় পুলিশের এসবি শাখায় কর্মরত। গত ২২ জুলাই সকাল ৭টার দিকে মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং এলাকার নিজের বাসার সামনে ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি এসে তার কাছে পাসপোর্টের ঠিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া জানতে চায়। তিনি তাদের পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে ঘরে ফিরে যান।
পরদিন ২৩ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওসমান গনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাজার শেষে বাসায় ফেরার পথে কাদেরাবাদ হাউজিং বি-ব্লক, ৪ নম্বর রোডের ৩ নম্বর বাসার সামনে পৌঁছালে ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে পেছন থেকে এক হামলাকারী ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করে। তিনি সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ছুরিটি তার পিঠের বাম পাশে লেগে কোমর পর্যন্ত মারাত্মকভাবে কেটে রক্তাত ক্ষত হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে প্রথমে মমতাজ ট্রমা সেন্টারে ও পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার পিঠে ৪৫টি সেলাই দেওয়া হয়। পরে তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় ওসমান গনি বাদী হয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা (মামলা নং-৭৭, তারিখ: ২৪ জুলাই) দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর জৈন্তাপুর থেকে মূল অভিযুক্ত মোর্শেদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় যৌথ বাহিনী।
এসআরবি-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহীদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















