সিলেট ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
‎শুধু দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ নয়, গোটা জামালপুর আমার: জামালপুর সমিতির সংবর্ধনায় মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ‎মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন তিন সাংবাদিক, কুলাউড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা ‎৮ মাসে ৯১৩ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ: জুড়ীতে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাফল্যের তথ্য জানালো ৫২ বিজিবি বালাগঞ্জে দিনব্যাপী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে সিলেটের জেলা প্রশাসক ওসমানীনগরে সাবেক মেম্বার আতিক হত্যা: বিশ্বনাথ থেকে এজাহারনামীয় আসামি গ্রেফতার করল এসআরবি-৯ ‎নবীগঞ্জে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনও সুলতানা জেরিন এর মতবিনিময় মাধবপুরে সরকারি চাল পাচারের অভিযোগ, শাহপুর বাজারে চালভর্তি পিকআপ আটক কুলাউড়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে বাউন্ডারি নির্মাণ, ১০ হাজার টাকা জরিমানা যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে কম্প্রেসার বিস্ফোরণ, নিহত ১, আহত ২ সিলেটে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ঢাকায় পুলিশ সদস্যকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি
ওসমানীনগরে আব্দুস সামাদ হত্যা:

‎প্রধান আসামিসহ ২ জন নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করল র‍্যাব




‎সিলেটের ওসমানীনগরে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী ‘আব্দুস সামাদ’ হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ এজাহারনামীয় দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

‎আজ সোমবার (০৮ জুন) দুপুর আনুমানিক ১টা ০৫ মিনিটের দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন আনন্দবাজার ও বৈদ্যর বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হল, সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানার কিত্তে কমরপুর এলাকার আব্দুস জব্বারের ছেলে শাকিল মিয়া (২৪) এবং একই এলাকার মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে রুবেল মিয়া (২২)। তারা এই হত্যা মামলার যথাক্রমে ১ ও ৩ নম্বর আসামি।

‎র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ওসমানীনগর থানাধীন কিত্তে কমরপুর এলাকার বাসিন্দা ভিকটিম আব্দুস সামাদ মিয়া (২৮) এবং বিবাদীদের বাড়ি একই এলাকায়। বিবাদীদের বাড়ির দক্ষিণ পাশের রাস্তা দিয়ে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন দীর্ঘ দিন ধরে যাতায়াত করে আসছিলেন।

‎গত ৫ মার্চ বিকেলে ভিকটিমের চাচা আব্দুল বারিক বাড়ি নির্মাণের ইট-বালু উক্ত রাস্তা দিয়ে আনার সময় বিবাদী রফিকুল ইসলাম ও সফিক মিয়া বাধা প্রদান করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন।
‎এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ মার্চ রাতে স্থানীয় মাসুক মিয়ার উঠানে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক চলাকালীন রাস্তার বিষয়টি নিয়ে কথা শুরু হতেই বিবাদীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং দেশীয় অস্ত্র (চাকু, ছুরি, লোহার পাইপ ইত্যাদি) নিয়ে ভিকটিমের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

‎এ সময় ভিকটিম আব্দুস সামাদ তার পরিবারকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আসামিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই নৃশংস ঘটনার পর ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

‎হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। ঘটনার ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র‍্যাব-৯।
‎অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সোমবার দুপুরে র‍্যাব-৯ (সিপিএসসি, সিলেট) এবং র‍্যাব-১১ (সিপিসি-১, নারায়ণগঞ্জ) এর একটি চৌকস যৌথ আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ১ ও ৩ নম্বর পলাতক আসামি শাকিল ও রুবেলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

‎র‍্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় (ওসমানীনগর থানা) হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য র‍্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎শুধু দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ নয়, গোটা জামালপুর আমার: জামালপুর সমিতির সংবর্ধনায় মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

ওসমানীনগরে আব্দুস সামাদ হত্যা:

‎প্রধান আসামিসহ ২ জন নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করল র‍্যাব

সময় ০৯:০৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬




‎সিলেটের ওসমানীনগরে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী ‘আব্দুস সামাদ’ হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ এজাহারনামীয় দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

‎আজ সোমবার (০৮ জুন) দুপুর আনুমানিক ১টা ০৫ মিনিটের দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন আনন্দবাজার ও বৈদ্যর বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হল, সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানার কিত্তে কমরপুর এলাকার আব্দুস জব্বারের ছেলে শাকিল মিয়া (২৪) এবং একই এলাকার মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে রুবেল মিয়া (২২)। তারা এই হত্যা মামলার যথাক্রমে ১ ও ৩ নম্বর আসামি।

‎র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ওসমানীনগর থানাধীন কিত্তে কমরপুর এলাকার বাসিন্দা ভিকটিম আব্দুস সামাদ মিয়া (২৮) এবং বিবাদীদের বাড়ি একই এলাকায়। বিবাদীদের বাড়ির দক্ষিণ পাশের রাস্তা দিয়ে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন দীর্ঘ দিন ধরে যাতায়াত করে আসছিলেন।

‎গত ৫ মার্চ বিকেলে ভিকটিমের চাচা আব্দুল বারিক বাড়ি নির্মাণের ইট-বালু উক্ত রাস্তা দিয়ে আনার সময় বিবাদী রফিকুল ইসলাম ও সফিক মিয়া বাধা প্রদান করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন।
‎এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ মার্চ রাতে স্থানীয় মাসুক মিয়ার উঠানে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক চলাকালীন রাস্তার বিষয়টি নিয়ে কথা শুরু হতেই বিবাদীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং দেশীয় অস্ত্র (চাকু, ছুরি, লোহার পাইপ ইত্যাদি) নিয়ে ভিকটিমের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

‎এ সময় ভিকটিম আব্দুস সামাদ তার পরিবারকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আসামিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই নৃশংস ঘটনার পর ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

‎হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। ঘটনার ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র‍্যাব-৯।
‎অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সোমবার দুপুরে র‍্যাব-৯ (সিপিএসসি, সিলেট) এবং র‍্যাব-১১ (সিপিসি-১, নারায়ণগঞ্জ) এর একটি চৌকস যৌথ আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ১ ও ৩ নম্বর পলাতক আসামি শাকিল ও রুবেলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

‎র‍্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় (ওসমানীনগর থানা) হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য র‍্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।