
টাঙ্গাইলে সাংবাদিকদের দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) আয়োজিত দুই দিনের ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা পণ্ড হয়ে গেছে। সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই কর্মশালা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তালিকা নিয়ে বিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করে পিআইবি কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিআইবি সারা দেশে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতার ওপর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে ৫০ জন সাংবাদিককে নিয়ে এই কর্মশালা আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু প্রশিক্ষণার্থীর তালিকা নিয়ে বিবাদ শুরু হয়।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব তাদের পক্ষ থেকে ৫০ জনের একটি তালিকা পাঠানো হয়। সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন এই দুই সংগঠন যৌথভাবে পৃথক ৫০ জনের আরেকটি তালিকা পাঠায়।
উভয় পক্ষ নিজেদের তালিকায় অনড় থাকায় এবং কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সমাধান না পেয়ে পিআইবি কর্তৃপক্ষ প্রশিক্ষণটি বাতিল ঘোষণা করে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, গত ১৭ বছর টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব আওয়ামী লীগের আশীর্বাদপুষ্টদের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং তারাই একক আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দৃশ্যপট বদলে যায় এবং প্রগতিশীল ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অনুসারী সাংবাদিকরা সংগঠিত হতে শুরু করেন। ফলে পুরোনো আধিপত্যের সঙ্গে নতুন ধারার সাংবাদিকদের এক ধরণের স্নায়ুযুদ্ধ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানেও প্রেসক্লাব অংশ নেয়নি, তবে টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের নিয়ে সফলভাবে কাজ শেষ করে প্রেস কাউন্সিল।
সে সময় প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেছিলেন, প্রেস কাউন্সিলের কাছে কোনো ক্লাব নয়, বরং সাংবাদিকরাই মুখ্য। কোনো ক্লাবের সদস্য হওয়া সাংবাদিকদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
তবে পিআইবি’র ক্ষেত্রে সমঝোতা না হওয়ায় টাঙ্গাইলের সাধারণ সাংবাদিকরা প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হলেন।
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি 


















