সিলেট ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
News Title :
‎র‍্যাবের অভিযানে অনলাইন জুয়া চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার ‎সিলেটে তরুণদের ফাঁদে ফেলে অশ্লীল ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা আদায়ের সিলেটে পৈত্রিক সম্পত্তির জেরে ভাইকে হত্যার একমাত্র আসামি শরীয়তপুর থেকে গ্রেফতার টাঙ্গাইলের‎ ভূঞাপুর থানার বিশেষ অভিযানে ডাকাত দলের ৪ সদস্য গ্রেফতার ‎অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদকে নদ-নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করেছে বাপা ‎মৌলভীবাজারে ২০ বছর পর ডাকাতি মামলার রায়: ১৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ‎মৌলভীবাজারে পুলিশ সুপারের পদে রদবদল, নতুন এসপি রিয়াজুল ইসলাম ‎চাঁনপুরে স্পার্ক ইউথ ফর চেঞ্জ-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্প অনুষ্ঠিত খেলাধুলা মানুষের মননশীল চিন্তার বিকাশ করে -এমপি লুনা‎ পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে পুনর্মিলনীআইজিপর উপহার সামগ্রী বিতরণ‎

‎​ধনবাড়ীতে মারিয়া হত্যার বিচার দাবিতে আজাদী কালচারাল সেন্টারের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

মানববন্ধনে ছাত্র-জনতার অংশ গ্রহণ।


‎টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে শিশু মারিয়াকে নিখোঁজের ৭ দিন পর নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

‎সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের সামনে ‘আজাদী কালচারাল সেন্টার’ নামক একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।


‎মানববন্ধনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,একটি নিষ্পাপ শিশুকে ৭ দিন আগে অপহরণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি পৈশাচিক ঘটনা। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ফাঁসির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।


‎মানববন্ধন শেষে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এলাকাকে নিরাপদ করার দাবি জানানো হয়।


‎উল্লেখ্য, নিখোঁজের সাত দিন পর মারিয়া মিম (৭) নামে এক শিশুর অর্ধগলিত বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার সকালে যদুনাথপুর বারইপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রবিউল ইসলাম রাফি ও সুমন নামে দুই তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।

‎আটককৃত রাফি (২২) রহিম মিয়া পুত্র ও সুমন (৩০) ময়ান মিয়ার ছেলে। তাদের বাড়ী একই এলাকায়। আটকৃত সুমন (৩০) বিবাহিত ও কয়েক সন্তানের পিতা!


‎পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিন ধরে শিশু মারিয়া নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে নিখোঁজ শিশু মারিয়ার পিতা উজ্জল মিয়া ধনাবড়ী থানায় জিডি করেন।


‎আজ ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে ফেরার সময় কয়েকজন পথচারীরা নান্নু মিয়া দপ্তরীর একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। তারা পুলিশ কে খবর দেন। খবর পেয়ে এলাকাবাসী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

‎পরে নিহত শিশু মারিয়ার পিতা উজ্জল মিয়া ও মাতা জবেদা বেগম তার মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন।

‎যদিও নান্নু দপ্তরী বাড়ীটি পরিত্যক্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন পরে আছে, তিনি অনেক আগেই মারা গেছেন। তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে থাকেন না বলে প্রতিবেশীরা জানান।

‎মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

‎তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


‎নিহত মারিয়ার খালাত ভাই মোহাম্মদ জুবায়ের হোসেন অনলাইন সিলেট নিউজ পোর্টালের সাথে আলাপ কালে তিনি অভিযোগ করেন, তার বোনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে ফেলে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, এই ঘটনার সাথে শুধু আটক সুমন ও রাফি নয়, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে? আমি আমার বোন হত্যার বিচার ও দোষীদের ফাঁসি চাই। নিহত শিশুর মা জবেদা বেগম মেয়ের লাশের পাশে বার-বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। তিনি সন্তান হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবী করেন।


‎ধনবাড়ী থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করছে পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত তা শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মারিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎র‍্যাবের অভিযানে অনলাইন জুয়া চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

‎​ধনবাড়ীতে মারিয়া হত্যার বিচার দাবিতে আজাদী কালচারাল সেন্টারের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

সময় ০৪:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মানববন্ধনে ছাত্র-জনতার অংশ গ্রহণ।


‎টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে শিশু মারিয়াকে নিখোঁজের ৭ দিন পর নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

‎সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের সামনে ‘আজাদী কালচারাল সেন্টার’ নামক একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।


‎মানববন্ধনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,একটি নিষ্পাপ শিশুকে ৭ দিন আগে অপহরণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি পৈশাচিক ঘটনা। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ফাঁসির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।


‎মানববন্ধন শেষে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এলাকাকে নিরাপদ করার দাবি জানানো হয়।


‎উল্লেখ্য, নিখোঁজের সাত দিন পর মারিয়া মিম (৭) নামে এক শিশুর অর্ধগলিত বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার সকালে যদুনাথপুর বারইপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রবিউল ইসলাম রাফি ও সুমন নামে দুই তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।

‎আটককৃত রাফি (২২) রহিম মিয়া পুত্র ও সুমন (৩০) ময়ান মিয়ার ছেলে। তাদের বাড়ী একই এলাকায়। আটকৃত সুমন (৩০) বিবাহিত ও কয়েক সন্তানের পিতা!


‎পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিন ধরে শিশু মারিয়া নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে নিখোঁজ শিশু মারিয়ার পিতা উজ্জল মিয়া ধনাবড়ী থানায় জিডি করেন।


‎আজ ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে ফেরার সময় কয়েকজন পথচারীরা নান্নু মিয়া দপ্তরীর একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। তারা পুলিশ কে খবর দেন। খবর পেয়ে এলাকাবাসী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

‎পরে নিহত শিশু মারিয়ার পিতা উজ্জল মিয়া ও মাতা জবেদা বেগম তার মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন।

‎যদিও নান্নু দপ্তরী বাড়ীটি পরিত্যক্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন পরে আছে, তিনি অনেক আগেই মারা গেছেন। তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে থাকেন না বলে প্রতিবেশীরা জানান।

‎মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

‎তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


‎নিহত মারিয়ার খালাত ভাই মোহাম্মদ জুবায়ের হোসেন অনলাইন সিলেট নিউজ পোর্টালের সাথে আলাপ কালে তিনি অভিযোগ করেন, তার বোনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে ফেলে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, এই ঘটনার সাথে শুধু আটক সুমন ও রাফি নয়, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে? আমি আমার বোন হত্যার বিচার ও দোষীদের ফাঁসি চাই। নিহত শিশুর মা জবেদা বেগম মেয়ের লাশের পাশে বার-বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। তিনি সন্তান হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবী করেন।


‎ধনবাড়ী থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করছে পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত তা শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মারিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।