সিলেট ০৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
News Title :
‎হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ, দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা চুনারুঘাট সংরক্ষিত বন থেকে ২৭ ঘনফুট কাঠ জব্দ, আটক ২ জিন্নী হুজুরের নামে প্রতারণা, ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার; গ্রেপ্তার ৪ ‎বালাগঞ্জে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে চাচাকে হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩ হবিগঞ্জের বাহুবলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পিকআপ-কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ ‎কোম্পানীগঞ্জে এসআরবি-৯ এর অভিযান: ২২৯ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার লাকসামের চাঞ্চল্যকর কাউছার হত্যা: সিলেট থেকে গ্রেফতার ১ ‎উন্নয়নের সুফল সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবেঃ ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক ‎লাখাইয়ে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক পুরস্কার পেলেন বালাগঞ্জের শেখ জুয়েল রানা

জিন্নী হুজুরের নামে প্রতারণা, ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার; গ্রেপ্তার ৪

‎মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছে একটি প্রতারক চক্র। কথিত ‘জিন্নী হুজুর’-এর নাম ব্যবহার করে এ প্রতারণার ঘটনায় চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা সব স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে

‎গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা (৬০), হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫) এবং জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য (৪৮) ও হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া (৩৮)।

‎পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর বড়লেখা ও জুড়ী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাতনামা এক নারী ফোন করে বড়লেখা উপজেলার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে জানান, তাঁর অসুস্থ ছেলেকে কথিত ‘জিন্নী হুজুর’ সুস্থ করে দিতে পারবেন। তবে এ জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না। কাউকে জানালে ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।

‎ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথায় বিশ্বাস করেন রোকেয়া বেগম। পরে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী বসতঘরের পেছনে ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর সেখানে গিয়ে দেখেন, বাটিতে রাখা স্বর্ণালংকার নেই।

‎পরে ফোনে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, ‘জিন্নী মুমিন’ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। এক মাসের মধ্যে তাঁর ছেলে সুস্থ হবে এবং স্বর্ণালংকার ফেরত দেওয়া হবে।

‎এরপর গত ১৬ অক্টোবর একই নারী আবারও ফোন করে আগের স্থানে আরও স্বর্ণালংকার রাখতে বলেন। এবার স্বর্ণালংকার না রাখলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে এবং রাখলে এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত পাওয়া যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। ছেলের ক্ষতির আশঙ্কায় ভুক্তভোগী দ্বিতীয় দফায়ও স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। কিন্তু এবারও ফিরে গিয়ে সেগুলো পাননি।

‎এভাবে দুই দফায় তাঁর কাছ থেকে মোট ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়।

‎পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলাম, এএসআই প্রসেন কান্তি দাস, এএসআই সন্তোষ কুমার বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। প্রথমে বড়লেখার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকা থেকে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি। ভুক্তভোগী নিজেই উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার শনাক্ত করেছেন।

‎এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনকে ২ নভেম্বর বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


‎

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ, দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা

জিন্নী হুজুরের নামে প্রতারণা, ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার; গ্রেপ্তার ৪

সময় ০৫:৩৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

‎মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছে একটি প্রতারক চক্র। কথিত ‘জিন্নী হুজুর’-এর নাম ব্যবহার করে এ প্রতারণার ঘটনায় চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা সব স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে

‎গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা (৬০), হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫) এবং জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য (৪৮) ও হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া (৩৮)।

‎পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর বড়লেখা ও জুড়ী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাতনামা এক নারী ফোন করে বড়লেখা উপজেলার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে জানান, তাঁর অসুস্থ ছেলেকে কথিত ‘জিন্নী হুজুর’ সুস্থ করে দিতে পারবেন। তবে এ জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না। কাউকে জানালে ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।

‎ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথায় বিশ্বাস করেন রোকেয়া বেগম। পরে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী বসতঘরের পেছনে ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর সেখানে গিয়ে দেখেন, বাটিতে রাখা স্বর্ণালংকার নেই।

‎পরে ফোনে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, ‘জিন্নী মুমিন’ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। এক মাসের মধ্যে তাঁর ছেলে সুস্থ হবে এবং স্বর্ণালংকার ফেরত দেওয়া হবে।

‎এরপর গত ১৬ অক্টোবর একই নারী আবারও ফোন করে আগের স্থানে আরও স্বর্ণালংকার রাখতে বলেন। এবার স্বর্ণালংকার না রাখলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে এবং রাখলে এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত পাওয়া যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। ছেলের ক্ষতির আশঙ্কায় ভুক্তভোগী দ্বিতীয় দফায়ও স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। কিন্তু এবারও ফিরে গিয়ে সেগুলো পাননি।

‎এভাবে দুই দফায় তাঁর কাছ থেকে মোট ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়।

‎পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলাম, এএসআই প্রসেন কান্তি দাস, এএসআই সন্তোষ কুমার বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। প্রথমে বড়লেখার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকা থেকে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি। ভুক্তভোগী নিজেই উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার শনাক্ত করেছেন।

‎এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনকে ২ নভেম্বর বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


‎