
সিলেটের বালাগঞ্জে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভাতিজার হাতে চাচা খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
ঘটনার মাত্র ৭ দিনের মাথায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৯ (সিলেট) ও এসআরবি-৭ (চট্টগ্রাম)-এর যৌথ দল রোববার ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর থানার ব্রিকফিল্ড রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—মির্জা টিটু (৩৫), মির্জা জেনি (৩৮) (উভয় পিতা- মৃত মির্জা ফরিদ) এবং সালমা বেগম (২৫) (স্বামী- মির্জা টিটু)। তাদের সবার বাড়ি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব মুসলিমাবাদ এলাকায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসআরবি জানায়, বালাগঞ্জ থানার পূর্ব মুসলিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা নিহত মির্জা আব্দুল লতিফ আবুল (৬৫) ও তাঁর ভাই মির্জা আব্দুল কাদির যৌথভাবে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকায় বসতবাড়ির একটি জায়গা কেনার জন্য টাকা দেন। তবে জায়গা রেজিস্ট্রি না দেওয়া এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা ফেরত না দেওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টায় ভিকটিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এতে বাধা দিলে প্রধান আসামি মির্জা টিটুর হুকুমে অন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মির্জা আব্দুল লতিফের ওপর হামলা চালায় ও তাঁকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর ছেলে মির্জা জাহাঙ্গীর ও ভাই মির্জা আব্দুল কাদিরও হামলায় গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মির্জা আব্দুল লতিফ আবুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁর ভাই মির্জা আব্দুল কাদিরকে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
উক্ত ঘটনার পর নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বালাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং- ০৯, তারিখ- ২৬/১০/২০২৬) দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে ছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বালাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৯, সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
স্টাফ রিপোর্টার 












