
টাঙ্গাইলে সাড়ে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ এবং ইট দিয়ে মুখ ও নাক থেঁতলে দেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. রুবেলকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল থানা পুলিশ।
রবিবার (১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের রিকশা শ্রমিক অফিসের সামনে ‘গৌর ঘোষ’ মিষ্টান্ন ভান্ডারের পাশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলায় এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের নাম কখনো ‘রুবেল’ এবং কখনো ‘বিপ্লব’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা শহরের ক্যাপসুল মার্কেট এলাকার একটি বিউটি পার্লারে কাজ করেন। অভিযুক্ত বখাটে যুবক প্রায়ই ওই পার্লারে যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে শিশুটি মায়ের কাছে নিচে নামে। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত যুবক শিশুটির মায়ের কাছে তিনটি চিপস নিয়ে আসেন এবং মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে নানা টালবাহানা শুরু করেন।
পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে এক রিকশাচালক গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে স্বজনরা সেখানে ছুটে যান।
পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবক শিশুটিকে কৌশলে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটি কান্নাকাটি ও বাধা দিলে ইট দিয়ে তার মুখ ও নাকে উপর্যুপরি আঘাত করে থেঁতলে দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গভীর রাতে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান এবং চিকিৎসাধীন শিশুটিকে দেখেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি শিশুটির সুচিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে এই মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা বখাটে রুবেলের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 







