
সিলেটের ওসমানীনগরে আলোচিত সাবেক মেম্বার আতিক মিয়া হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১ টা ৫৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিশ্বনাথ থানার অলংকারী ইউনিয়নের টোকে কান্দি গ্রামের একটি বসতবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মামুন মিয়া (৩৭)। তিনি ওসমানীনগর থানার পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের আত্তর আলীর ছেলে।
এসআরবি-৯ সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম আতিক মিয়া সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানাধীন ৪ নং বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) এবং এলাকার একজন মান্যগণ্য সালিশ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১ নং বিবাদী সৈয়দ আব্দুল ওয়াহাবের সাথে তার আপন ভাই সৈয়দ আব্দুর রশিদ আখলিছ মিয়ার বসত ভিটার জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল।
গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আব্দুর রশিদ আখলিছ মিয়ার বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে এই ঘটনা নিষ্পত্তির জন্য আব্দুর রশিদ ভিকটিম আতিক মিয়ার শরণাপন্ন হলে তিনি বিষয়টি মীমাংসার জন্য ২ নং বিবাদী আতর মিয়ার বাড়ির উঠানে একটি সালিশি বৈঠক আহ্বান করেন।
সালিশি বৈঠকে আতিক মিয়া বিবাদীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন এবং অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক করেন। বৈঠক শেষে আতিক মিয়া তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিরাজনগরে চলে যান।
ঐ দিনই (৩১ ডিসেম্বর) বিকাল ৫ টায় আতিক মিয়া নিজ বাড়িতে ফেরার পথে ২ নং বিবাদী আতর মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে রাস্তায় পৌঁছালে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তারা দা ও কাঠের বর্গা দিয়ে আতিক মিয়ার মাথা, কপাল ও বুকে সজোরে কোপ মেরে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত আতিক মিয়ার ভাই বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে।
অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-৯, সিপিএসসি সিলেটে একটি আভিযানিক দল মামলার ৪ নং আসামি মামুন মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই মামলার আরও দুই পলাতক আসামিকে এসআরবি-৯ (তৎকালীন র্যাব-৯) কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটের ওসমানীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে এসআরবি-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এসআরবি-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
স্টাফ রিপোর্টার 

















