
গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ, স্থানীয় জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা পূরণে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিভিন্ন প্রজাতির পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার সকালে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আওতায় উপজেলার বেরি বিল,বেরীগাঁও সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পুকুর ও জলাশয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়।
নবীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আসাদ উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফিন হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিদুল করিম মজিদ, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান অলি, শাহিন তালুকদার, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহাগ চৌধুরী, সদস্য ফেরদৌস আহমেদ অনিক, সাজাহান মিয়া ও সাকিল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়া স্থানীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য, জেলে, কৃষক এবং এলাকার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
পোনামাছ অবমুক্তকরণের আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন বলেন, মাছ আমাদের ঐতিহ্যের অংশ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু মাছের উৎপাদন বাড়বে না, জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা হবে। এ ধরনের টেকসই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আসাদ উল্লাহ জানান, কর্মসূচির আওতায় রুই, কাতলা, মৃগেল ও পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক লক্ষ পোনামাছ স্থানীয় জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অবমুক্ত করা পোনামাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পোনা অবস্থায় যাতে কেউ মাছ শিকার না করেন, সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জলাশয় ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় জেলে ও কৃষকরা পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে একদিকে যেমন এলাকার মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে স্থানীয় জেলে ও মৎস্যজীবীদের আয়-রোজগারের সুযোগও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিতভাবে জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ, অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ এবং জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা গেলে নবীগঞ্জে মৎস্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জুয়েল আহমদ, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি 


















