সিলেট ০১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
News Title :
বানিয়াচংয়ের ব্যবসায়ী নেতা মোঃ মোস্তফা মিয়া আর নেই, এলাকায় শোকের ছায়া ছুটির পরও আটকে রাখা হল শিক্ষার্থীদের‎, অভিভাবকদের ক্ষোভ! লাখাই উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের উদ্যোগে সচেতনতা মূলক সভা ‎বাবার গায়ে হাতুড়ির আঘাত: বকশীগঞ্জে মাদকাসক্ত ছেলের ৬ মাসের কারাদণ্ড ‎বিয়ানীবাজারে জালালিয়া মহিলা আলিম মাদরাসায় অভিভাবক সমাবেশ সম্পন্ন ‎ধনবাড়িতে ইটভাটার মালিক হিমেলের প্রতারণার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন মাধবপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের অভিযান, ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন আটক জাফলংয়ে হাজী সোহরাব আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির পরিচিতি সভা ‎গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ শেষে ফেরার পথে সারজিস আলমের বহরে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ‎স্টেলিন থারিয়াংকে ঘিরে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রত্যাহারের দাবি, গোয়াইনঘাটে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে র‍্যাব সদস্য নিহত, শিশু জিম্মি করা ঘাতক গ্রেপ্তার



‎সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে এক মাদক ব্যবসায়ীর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ইমন আচার্য্য নামে এক র‍্যাব সদস্য নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত ইমন আচার্য্য র‍্যাব-৯, সিলেটে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।

‎এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর তোপখানা এলাকার একটি বাসায় ঢুকে শিশুকে জিম্মি করা ঘাতক মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পিকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাপ্পি নগরীর কাজীরবাজার মোগলটুলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোঃ মাসুক আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল কোতোয়ালী থানার ক্বীন ব্রিজের নিচে দিবাকালীন ডিউটি করছিলেন। দুপুর আনুমানিক ১২টার সময় ব্রিজের নিচে কয়েকজন মাদকসেবী ও কারবারিকে মাদক কেনাবেচা করতে দেখে পুলিশ তাদের আটকের চেষ্টা চালায়। এ সময় মাদক কারবারিরা দৌড়ে পালাতে শুরু করে।

‎মাদক কারবারিরা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত র‍্যাব-৯ এর কনস্টেবল ইমন আচার্য্য ঘাতক বাপ্পিকে জাপটে ধরে আটক করার চেষ্টা করেন। এ সময় বাপ্পি তার কাছে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে কনস্টেবল ইমনের বুকের বাম পাশে সজোরে আঘাত করে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় ইমনকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎হত্যাকাণ্ডের পর কিলো-১ মোবাইল ডিউটিতে নিয়োজিত এএসআই মোঃ জামাল মিয়া ফোর্সসহ ঘাতক বাপ্পিকে ধাওয়া করেন। পুলিশের তাড়া খেয়ে বাপ্পি তোপখানা এলাকার একটি বাসায় ঢুকে পড়ে। সেখানে সে একটি শিশুর গলায় চাকু ধরে পুরো পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালায়।

‎পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত কৌশলে ও সাহসিকতার সাথে অভিযান চালিয়ে বাপ্পির হাত থেকে চাকু ফেলে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। এ সময় ধস্তাধস্তিতে এএসআই জামাল মিয়া ও কনস্টেবল হাকিম উজ্জ্বলসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি জব্দ করেছে।

‎ডিউটিরত অবস্থায় র‍্যাব সদস্য ইমন আচার্য্যের এমন নির্মম মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। এক শোকবার্তায় এসএমপি কর্তৃপক্ষ নিহতের আত্মার শান্তি কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়।

‎কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচংয়ের ব্যবসায়ী নেতা মোঃ মোস্তফা মিয়া আর নেই, এলাকায় শোকের ছায়া

সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে র‍্যাব সদস্য নিহত, শিশু জিম্মি করা ঘাতক গ্রেপ্তার

সময় ০৫:১৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬



‎সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে এক মাদক ব্যবসায়ীর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ইমন আচার্য্য নামে এক র‍্যাব সদস্য নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত ইমন আচার্য্য র‍্যাব-৯, সিলেটে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।

‎এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর তোপখানা এলাকার একটি বাসায় ঢুকে শিশুকে জিম্মি করা ঘাতক মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পিকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাপ্পি নগরীর কাজীরবাজার মোগলটুলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোঃ মাসুক আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল কোতোয়ালী থানার ক্বীন ব্রিজের নিচে দিবাকালীন ডিউটি করছিলেন। দুপুর আনুমানিক ১২টার সময় ব্রিজের নিচে কয়েকজন মাদকসেবী ও কারবারিকে মাদক কেনাবেচা করতে দেখে পুলিশ তাদের আটকের চেষ্টা চালায়। এ সময় মাদক কারবারিরা দৌড়ে পালাতে শুরু করে।

‎মাদক কারবারিরা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত র‍্যাব-৯ এর কনস্টেবল ইমন আচার্য্য ঘাতক বাপ্পিকে জাপটে ধরে আটক করার চেষ্টা করেন। এ সময় বাপ্পি তার কাছে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে কনস্টেবল ইমনের বুকের বাম পাশে সজোরে আঘাত করে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় ইমনকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎হত্যাকাণ্ডের পর কিলো-১ মোবাইল ডিউটিতে নিয়োজিত এএসআই মোঃ জামাল মিয়া ফোর্সসহ ঘাতক বাপ্পিকে ধাওয়া করেন। পুলিশের তাড়া খেয়ে বাপ্পি তোপখানা এলাকার একটি বাসায় ঢুকে পড়ে। সেখানে সে একটি শিশুর গলায় চাকু ধরে পুরো পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালায়।

‎পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত কৌশলে ও সাহসিকতার সাথে অভিযান চালিয়ে বাপ্পির হাত থেকে চাকু ফেলে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। এ সময় ধস্তাধস্তিতে এএসআই জামাল মিয়া ও কনস্টেবল হাকিম উজ্জ্বলসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি জব্দ করেছে।

‎ডিউটিরত অবস্থায় র‍্যাব সদস্য ইমন আচার্য্যের এমন নির্মম মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। এক শোকবার্তায় এসএমপি কর্তৃপক্ষ নিহতের আত্মার শান্তি কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়।

‎কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।