
মৌলভীবাজারের বড়লেখার শান্ত এক জনপদ থেকে উঠে এসেছে এক অনুপ্রেরণার গল্প। বয়সে ছোট হলেও স্বপ্নে বড় আকিলা ফারহা এখন দেশ সেরাদের কাতারে। বাংলাদেশ স্কাউটসের কাব স্কাউট শাখার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা “শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড” অর্জন করে সে শুধু নিজের পরিবার নয়, গর্বিত করেছে পুরো মৌলভীবাজার জেলাকে।
রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আকিলা ফারহার নাম এখন জাতীয় পর্যায়ের সফল কাব স্কাউটদের তালিকায়। গত ১৭ মে প্রকাশিত ফলাফলে সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ১ হাজার ৯৩৭ জনের মধ্যে স্থান করে নেয় এই মেধাবী শিক্ষার্থী। ছোট্ট বয়সে এমন অর্জন তাকে এনে দিয়েছে নতুন পরিচয়—একজন সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে।
আকিলার বেড়ে ওঠা শিক্ষানুরাগী পরিবারে। তার বাবা মোহাম্মদ দিদার হোসেন বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এবং মা হাছিনা আক্তার পাথারিয়া গাংকুল মনসুরিয়া ফাযিল মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা। পরিবার থেকেই শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা পেয়েছে আকিলা। সেই শিক্ষাই তাকে এগিয়ে নিয়েছে জাতীয় স্বীকৃতির মঞ্চে।
“শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড” অর্জনের পথ ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। লিখিত, মৌখিক, ব্যবহারিক ও সাঁতার—প্রতিটি ধাপেই দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়েছে। শিশু বয়সে এমন কঠিন পরীক্ষার ধাপ অতিক্রম করা সহজ নয়। কিন্তু আত্মবিশ্বাস আর নিরলস প্রস্তুতি দিয়ে আকিলা সফলভাবে সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।
স্কাউটিং শুধু একটি সহশিক্ষা কার্যক্রম নয়, এটি একজন শিশুকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দলগত কাজ, মানবসেবা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয় এই আন্দোলন। আকিলার এই অর্জন তাই শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি তার চরিত্র, দক্ষতা ও সম্ভাবনারও স্বীকৃতি।
নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আকিলা বলে, আমি খুব আনন্দিত। এই অর্জনের পেছনে আমার মা-বাবা, শিক্ষক ও স্কাউট নেতাদের সবচেয়ে বেশি অবদান। আমি ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চাই।
মেয়ের এমন সাফল্যে আবেগাপ্লুত পরিবার। স্থানীয় শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝেও আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। অনেকে মনে করছেন, আকিলার এই সাফল্য অন্য শিশুদেরও স্কাউটিং ও সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে যখন অনেক শিশু মোবাইল ও ভার্চুয়াল জগতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, তখন আকিলা ফারহার মতো শিশুরা প্রমাণ করছে—সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিশ্রম থাকলে শিশুরাও পারে দেশকে গর্বিত করতে।
মৌলভীবাজারের এই ছোট্ট কন্যার বড় স্বপ্ন এখন অনেকের অনুপ্রেরণা। তার সাফল্যের গল্প হয়তো আগামী দিনে আরও অনেক শিশুকে এগিয়ে যেতে সাহস জোগাবে।
আব্দুস সামাদ আজাদ,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি। 


















