সিলেট ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
News Title :
‎হবিগঞ্জ–সিলেট রুটে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার, আংশিকভাবে স্বাভাবিক চলাচল‎ ‎সিলেটে ৫ লাখ টাকার জালনোটসহ ৪ জন গ্রেফতার‎ নবীগঞ্জে জলমহাল কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন মৌলভীবাজারে বাস আটকে রাখার অভিযোগে অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রী ‎লাখাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ওসির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত‎ ‎মির্জাপুর থানার অভিযানে আতিক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২ ‎টাঙ্গাইলের ইতিহাসে এক বিষাদময় দিন: ভয়াল ১৩ মে’র ৩০ বছর‎ ‎সিলেটে প্রতিবন্ধী নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার ৩, ভিকটিম উদ্ধার‎ নাগরপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৩ ট্রাক্টর জব্দ‎ হবিগঞ্জে দুই কোটি টাকার ভারতীয় গলদা চিংড়ি রেণু পোনা আটক করল বিজিবি‎

‎টাঙ্গাইলের ইতিহাসে এক বিষাদময় দিন: ভয়াল ১৩ মে’র ৩০ বছর‎


‎আজ ১৩ মে,টাঙ্গাইলবাসীর হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত ও শোকাবহ স্মৃতির দিন। আজ থেকে ঠিক ৩০ বছর আগে ১৯৯৬ সালের এই দিনে এক ভয়াবহ টর্নেডো লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ জনপদ। মাত্র কয়েক মিনিটের সেই তাণ্ডবে কেড়ে নিয়েছিল শত শত প্রাণ, গৃহহীন করেছিল হাজার হাজার পরিবারকে।

‎১৯৯৬ সালের এই দিনে বিকাল ৪টা ১৭ মিনিটে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রাম থেকে শুরু হওয়া সেই টর্নেডোটি ক্রমান্বয়ে পাঁচটি উপজেলা—গোপালপুর, কালিহাতী, ঘাটাইল, বাসাইল এবং সখীপুর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। মাত্র ২-৩ মিনিটের স্থায়ী এই দুর্যোগে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সাজানো গোছানো গ্রামগুলো।

‎সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেই দিনের ধ্বংসযজ্ঞ ছিল বর্ণনাতীত, সরকারি হিসাবে ২৩৭ জন (বেসরকারি মতে সংখ্যাটি আরও বেশি) এবং আহত ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়াও
‎ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৮৫ হাজার ঘরবাড়ি,৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৭টি মসজিদ এবং ১৪টি মন্দির মাটির সাথে মিশে যায়।

‎টর্নেডোটি গোপালপুর উপজেলার বেলুয়া গ্রাম থেকে শুরু হয়ে আলমনগর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের ১৬টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড করে দেয়। এতে ১০৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশু প্রাণ হারান। একই দিন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে কালিহাতীর রামপুর ও কুকরাইল গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে আরও ১০৫ জন প্রাণ হারান। পরিস্থিতি এমন শোচনীয় ছিল যে, অনেক পরিবারে দাফন করার মতো কেউ বেঁচে ছিল না, অনেককে গণকবরে দাফন করা হয়।

‎বাসাইল উপজেলার মিরিকপুরে তখন ছিল ধান কাটার মৌসুম। ধান কাটতে আসা একদল শ্রমিক মিরিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু টর্নেডোর প্রচণ্ড আঘাতে বিদ্যালয় ভবনটি ধসে পড়লে সেখানেই চাপা পড়ে মৃত্যু হয় অনেকের। পরদিন আশপাশের খাল, বিল ও পুকুর থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। বাসাইল উপজেলার ১৭টি গ্রামের প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে সর্বস্ব হারান।

‎৩০ বছর পার হলেও টাঙ্গাইলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের মন থেকে সেই ভয় মুছে যায়নি। আজও আকাশে কালো মেঘ জমলে বা বাতাসের বেগ বাড়লে আতঙ্কে কেঁপে ওঠে এ অঞ্চলের মানুষ। সেই দিনের কথা মনে পড়লে আজও গা শিউরে ওঠে। চোখের সামনে সবকিছু শেষ হয়ে যেতে দেখেছি,—স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজও কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনহারা অনেক মানুষ।


‎দিবসটি স্মরণে প্রতি বছরের মতো এবারও স্থানীয়ভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। গোপালপুরের আলমনগর, কালিহাতীর রামপুর খামারবাড়ি এবং বাসাইলের মিরিকপুরে আয়োজন করা হয়েছে, কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিল, কাঙালিভোজ ও তবারক বিতরণ করা হয়।


‎টাঙ্গাইলের আকাশে আজও সেই স্বজনহারাদের দীর্ঘশ্বাস যেন বাতাসে মিশে আছে। এই শোকাতুর দিনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে জেলাবাসী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎হবিগঞ্জ–সিলেট রুটে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার, আংশিকভাবে স্বাভাবিক চলাচল‎

‎টাঙ্গাইলের ইতিহাসে এক বিষাদময় দিন: ভয়াল ১৩ মে’র ৩০ বছর‎

সময় ১০:২১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


‎আজ ১৩ মে,টাঙ্গাইলবাসীর হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত ও শোকাবহ স্মৃতির দিন। আজ থেকে ঠিক ৩০ বছর আগে ১৯৯৬ সালের এই দিনে এক ভয়াবহ টর্নেডো লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ জনপদ। মাত্র কয়েক মিনিটের সেই তাণ্ডবে কেড়ে নিয়েছিল শত শত প্রাণ, গৃহহীন করেছিল হাজার হাজার পরিবারকে।

‎১৯৯৬ সালের এই দিনে বিকাল ৪টা ১৭ মিনিটে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রাম থেকে শুরু হওয়া সেই টর্নেডোটি ক্রমান্বয়ে পাঁচটি উপজেলা—গোপালপুর, কালিহাতী, ঘাটাইল, বাসাইল এবং সখীপুর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। মাত্র ২-৩ মিনিটের স্থায়ী এই দুর্যোগে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সাজানো গোছানো গ্রামগুলো।

‎সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেই দিনের ধ্বংসযজ্ঞ ছিল বর্ণনাতীত, সরকারি হিসাবে ২৩৭ জন (বেসরকারি মতে সংখ্যাটি আরও বেশি) এবং আহত ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়াও
‎ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৮৫ হাজার ঘরবাড়ি,৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৭টি মসজিদ এবং ১৪টি মন্দির মাটির সাথে মিশে যায়।

‎টর্নেডোটি গোপালপুর উপজেলার বেলুয়া গ্রাম থেকে শুরু হয়ে আলমনগর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের ১৬টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড করে দেয়। এতে ১০৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশু প্রাণ হারান। একই দিন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে কালিহাতীর রামপুর ও কুকরাইল গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে আরও ১০৫ জন প্রাণ হারান। পরিস্থিতি এমন শোচনীয় ছিল যে, অনেক পরিবারে দাফন করার মতো কেউ বেঁচে ছিল না, অনেককে গণকবরে দাফন করা হয়।

‎বাসাইল উপজেলার মিরিকপুরে তখন ছিল ধান কাটার মৌসুম। ধান কাটতে আসা একদল শ্রমিক মিরিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু টর্নেডোর প্রচণ্ড আঘাতে বিদ্যালয় ভবনটি ধসে পড়লে সেখানেই চাপা পড়ে মৃত্যু হয় অনেকের। পরদিন আশপাশের খাল, বিল ও পুকুর থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। বাসাইল উপজেলার ১৭টি গ্রামের প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে সর্বস্ব হারান।

‎৩০ বছর পার হলেও টাঙ্গাইলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের মন থেকে সেই ভয় মুছে যায়নি। আজও আকাশে কালো মেঘ জমলে বা বাতাসের বেগ বাড়লে আতঙ্কে কেঁপে ওঠে এ অঞ্চলের মানুষ। সেই দিনের কথা মনে পড়লে আজও গা শিউরে ওঠে। চোখের সামনে সবকিছু শেষ হয়ে যেতে দেখেছি,—স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজও কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনহারা অনেক মানুষ।


‎দিবসটি স্মরণে প্রতি বছরের মতো এবারও স্থানীয়ভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। গোপালপুরের আলমনগর, কালিহাতীর রামপুর খামারবাড়ি এবং বাসাইলের মিরিকপুরে আয়োজন করা হয়েছে, কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিল, কাঙালিভোজ ও তবারক বিতরণ করা হয়।


‎টাঙ্গাইলের আকাশে আজও সেই স্বজনহারাদের দীর্ঘশ্বাস যেন বাতাসে মিশে আছে। এই শোকাতুর দিনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে জেলাবাসী।