সিলেট ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
News Title :
‎জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বালুচাপা দেওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার শান্তিগঞ্জে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক সভা মধুপুর মাস্টারপাড়া সড়কের বেহাল দশা: চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী গ্রামীণফোনের টাওয়ারের যন্ত্রাংশ চুরির চেষ্টা:  আটক ৩ জন মৌলভীবাজারে হাওর রক্ষা আন্দোলনের মানববন্ধন ও কৃষক প্রতিবাদ সমাবেশ ‎চুনারুঘাটে ১০০ বোতল Eskuf ফেন্সিডিলসহ মাদক কারবারি আটক ‎টাঙ্গাইলে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ ‎ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের সন্ধানে: মির্জাবাড়ী ইউনিয়নে আলোচনায় মানিক মিয়া ‎সুনামগঞ্জে বাস-লেগুনা মুখোমুখি সংঘর্ষ: ঝরল ২ প্রাণ, আহত ১০ প্রান্তিক খামারিদের মুখে হাসি ॥ বানিয়াচংয়ে ব্র্যাকের বিনামূল্যে ভ্যাকসিন ক্যাম্প

মৌলভীবাজারে হাওর রক্ষা আন্দোলনের মানববন্ধন ও কৃষক প্রতিবাদ সমাবেশ





বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বচ্ছ তালিকার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান, অকাল বন্যা প্রতিরোধে কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রাণ-আরএফএল, ইসলাম এগ্রোভেটসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির হাওর দখল ও শিল্পায়নের অপচেষ্টা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও কৃষক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে হাওর রক্ষা আন্দোলন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‎আ স ম ছালেহ সোহেলের সভাপতিত্বে এবং এম খছরু চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রনজিৎ দেবনাথ, সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু, মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ খায়রুল ইসলাম, শাহীন ইকবাল, হোসাইন আহমদ, সোনা মিয়া, শিপন মিয়া ও দেওয়ান মুনাকিব চৌধুরীসহ হাওরপাড়ের কৃষক নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন,বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতিতে হাওরাঞ্চলের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকালে হাওর দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্যভাণ্ডারে পরিণত হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ শস্যভাণ্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখে। অথচ সরকারি অবহেলা এবং প্রভাবশালী মহলের দখল-দূষণের কারণে কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

‎সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, শিল্পায়নের নামে প্রাণ-আরএফএল, ইসলাম এগ্রোভেটসহ বিভিন্ন কোম্পানি হাওরের ভূমি ও জলাভূমি দখলের চেষ্টা করছে। ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন, জলাভূমি ভরাট এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই হাওরের মাঝখানে পরিবেশবিধ্বংসী শিল্পায়ন ও অবৈধ দখল মেনে নেওয়া হবে না।

‎বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় হাজার হাজার একর পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে নানা অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষক, বর্গাচাষী ও দিনমজুরদের অনেকেই ক্ষতিপূরণের তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

‎সমাবেশ থেকে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওরকে সংরক্ষিত জলাভূমি ঘোষণা এবং হাওর দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

‎পরিশেষে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর দুটি পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বালুচাপা দেওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

মৌলভীবাজারে হাওর রক্ষা আন্দোলনের মানববন্ধন ও কৃষক প্রতিবাদ সমাবেশ

সময় ০৭:৩৮:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬





বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বচ্ছ তালিকার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান, অকাল বন্যা প্রতিরোধে কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রাণ-আরএফএল, ইসলাম এগ্রোভেটসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির হাওর দখল ও শিল্পায়নের অপচেষ্টা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও কৃষক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে হাওর রক্ষা আন্দোলন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‎আ স ম ছালেহ সোহেলের সভাপতিত্বে এবং এম খছরু চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রনজিৎ দেবনাথ, সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু, মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ খায়রুল ইসলাম, শাহীন ইকবাল, হোসাইন আহমদ, সোনা মিয়া, শিপন মিয়া ও দেওয়ান মুনাকিব চৌধুরীসহ হাওরপাড়ের কৃষক নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন,বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতিতে হাওরাঞ্চলের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকালে হাওর দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্যভাণ্ডারে পরিণত হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ শস্যভাণ্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখে। অথচ সরকারি অবহেলা এবং প্রভাবশালী মহলের দখল-দূষণের কারণে কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

‎সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, শিল্পায়নের নামে প্রাণ-আরএফএল, ইসলাম এগ্রোভেটসহ বিভিন্ন কোম্পানি হাওরের ভূমি ও জলাভূমি দখলের চেষ্টা করছে। ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন, জলাভূমি ভরাট এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই হাওরের মাঝখানে পরিবেশবিধ্বংসী শিল্পায়ন ও অবৈধ দখল মেনে নেওয়া হবে না।

‎বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় হাজার হাজার একর পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে নানা অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষক, বর্গাচাষী ও দিনমজুরদের অনেকেই ক্ষতিপূরণের তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

‎সমাবেশ থেকে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওরকে সংরক্ষিত জলাভূমি ঘোষণা এবং হাওর দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

‎পরিশেষে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর দুটি পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।