সিলেট ১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
News Title :
‎কোম্পানীগঞ্জে র‍্যাব-৯ ও বিজিবির যৌথ অভিযান: ২৭ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা ও ট্রাক জব্দ টাঙ্গাইলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর নিপীড়নের অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা ‎হবিগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য, গরু ও যানবাহন জব্দ ‎পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন, ধান তলিয়ে সংকটে দ্রুত সহায়তা দাবি‎ ‎ছাতক এসিল্যান্ড অফিসের গাড়িচালকের কম্পিউটার ব্যবহার, তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ‎সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৮: শনাক্ত ৬ জনের পরিচয় মিলল ‎সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ছিনতাইয়ের ছক নারায়ণগঞ্জ ও হবিগঞ্জের ১০ জন গ্রেফতার ‎শ্রীমঙ্গলে ফজরের নামাজে মসজিদের ভেতরে বৃদ্ধকে হত্যা ‎জাতিসংঘের অভিবাসন ফোরামে যোগ দিতে আজ যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ‎টাঙ্গাইলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর জেলা পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধন
ছাতকে অকাল বন্যা....

‎পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন, ধান তলিয়ে সংকটে দ্রুত সহায়তা দাবি‎



সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা।সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারায় অনেক কৃষকের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট।

‎জানা গেছে, উপজেলার কালারুকা ঝাওয়া বিল, ভাতগাঁও ইউনিয়ন ও চরমহল্লা ইউনিয়নের কয়েকটি হাওরে অন্তত অর্ধশত হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
‎শুক্রবার ঝাওয়া বিল পরিদর্শন করে ইউনিয়নের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা,বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, উপজেলার দেখার হাওরের নলুয়া, কপলা ও জলসী অংশে ইতোমধ্যে কয়েকশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে।
‎এছাড়াও উপজেলার ছোট-বড় ৬৩টি হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান কাটার সব প্রস্তুতি ভেস্তে গেছে।
‎চরমহল্লা ইউনিয়নের দেখার হাওর এলাকার নলুয়া, কপলা ও জলসী অংশে কয়েকশ বিঘা জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করেও ফসল তুলতে মরিয়া কৃষকরা। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করছেন।
‎কালারুকা ইউনিয়নের নৌকাকান্দি গ্রামের কৃষক আলমাছ আলী জানান, তার ১৭ বিঘা জমিসহ গ্রামের অন্যান্য কৃষকের প্রায় ২০০ বিঘা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একইভাবে চরমহল্লা ইউনিয়নের কৃষক সুরত মিয়া, বসন্ত বাবু ও ছালিক মিয়া জানান, তাদের ইউনিয়নের কয়েকশ বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে রয়েছে।



‎এদিকে, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ইতোমধ্যে এ দুর্দশার বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। অপরদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য আগামী তিন মাস সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমন তথ্য স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

‎এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌফিক হোসেন বলেন, উপজেলার ছোট-বড় ৬৩টি হাওরের মধ্যে এখন পর্যন্ত চরমহল্লা, কালারুকা ও ভাতগাঁওসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হেক্টর বোরো ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। আমরা মাঠ পর্যায়ে থেকে কৃষকদের ধান কাটার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
‎৮০ শতাংশ ধান পাকলেই দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্যা সতর্কতা ও আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও শ্রমিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা প্রদান করা না হলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎কোম্পানীগঞ্জে র‍্যাব-৯ ও বিজিবির যৌথ অভিযান: ২৭ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা ও ট্রাক জব্দ

ছাতকে অকাল বন্যা....

‎পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন, ধান তলিয়ে সংকটে দ্রুত সহায়তা দাবি‎

সময় ০৭:২৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬



সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা।সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারায় অনেক কৃষকের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট।

‎জানা গেছে, উপজেলার কালারুকা ঝাওয়া বিল, ভাতগাঁও ইউনিয়ন ও চরমহল্লা ইউনিয়নের কয়েকটি হাওরে অন্তত অর্ধশত হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
‎শুক্রবার ঝাওয়া বিল পরিদর্শন করে ইউনিয়নের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা,বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, উপজেলার দেখার হাওরের নলুয়া, কপলা ও জলসী অংশে ইতোমধ্যে কয়েকশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে।
‎এছাড়াও উপজেলার ছোট-বড় ৬৩টি হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান কাটার সব প্রস্তুতি ভেস্তে গেছে।
‎চরমহল্লা ইউনিয়নের দেখার হাওর এলাকার নলুয়া, কপলা ও জলসী অংশে কয়েকশ বিঘা জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করেও ফসল তুলতে মরিয়া কৃষকরা। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করছেন।
‎কালারুকা ইউনিয়নের নৌকাকান্দি গ্রামের কৃষক আলমাছ আলী জানান, তার ১৭ বিঘা জমিসহ গ্রামের অন্যান্য কৃষকের প্রায় ২০০ বিঘা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একইভাবে চরমহল্লা ইউনিয়নের কৃষক সুরত মিয়া, বসন্ত বাবু ও ছালিক মিয়া জানান, তাদের ইউনিয়নের কয়েকশ বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে রয়েছে।



‎এদিকে, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ইতোমধ্যে এ দুর্দশার বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। অপরদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য আগামী তিন মাস সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমন তথ্য স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

‎এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌফিক হোসেন বলেন, উপজেলার ছোট-বড় ৬৩টি হাওরের মধ্যে এখন পর্যন্ত চরমহল্লা, কালারুকা ও ভাতগাঁওসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হেক্টর বোরো ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। আমরা মাঠ পর্যায়ে থেকে কৃষকদের ধান কাটার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
‎৮০ শতাংশ ধান পাকলেই দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্যা সতর্কতা ও আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও শ্রমিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা প্রদান করা না হলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।