
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হবিগঞ্জের পৈল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা-পুলিশ। আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ হবিগঞ্জের পৈল সড়ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কামাল উদ্দিনকে আটক করে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মৃত আব্দুছ ছাত্তারের ছেলে। বর্তমানে তিনি হবিগঞ্জ শহরতলীর শায়েস্তানগর এলাকায় বসবাস করছেন।
পুলিশ, আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি চার লাখ এক টাকা দেনমোহরে কামাল উদ্দিনের সঙ্গে এক নারীর বিয়ে হয়। বর্তমানে ওই নারী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ব্যবসার জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া স্ত্রীর উপার্জনের অর্থ দীর্ঘদিন ধরে স্বামী নিজেই উত্তোলন করতেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
নির্যাতনের অভিযোগে ভুক্তভোগী গত ১০ জুন হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন। আদালত প্রথমে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরে তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
তবে মামলার অভিযোগ সম্পর্কে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
উল্লেখ্য, মামলার এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
স্বপন রবি দাশ,হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। 
















