সিলেট ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
‎সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের দায়িত্ব গ্রহণ ‎কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই ক্লোজ! ‎নান্দিনা-লক্ষীরচর সেতুর উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন এমপি ওয়ারেছ আলী মামুন‎ শেরপুর ও সরকার বাজারে প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ: ‘ইয়াবা মজনু’ আটকের পরও থামছে না মাদক ব্যবসা! ‎গোপালপুরকে হারিয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চ্যাম্পিয়ন বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি ইসলামপুরে ৫০০ পরিবারের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ‎ ‎জামালপুর এর সরিষাবাড়িতে “ঝিনাই বৈরান সাহিত্য পরিষদ” এর ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গুণীজন সংবর্ধনা -২০২৬ অনুষ্ঠিত ‎অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেন না থাকায় দিগপাইতে জলাবদ্ধতা: চরম ভোগান্তিতে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা শ্রীমঙ্গল স্টেশনে আকস্মিক পরিদর্শনে শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী‎

শেরপুর ও সরকার বাজারে প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ: ‘ইয়াবা মজনু’ আটকের পরও থামছে না মাদক ব্যবসা!

জনতা আটক করে ইয়াবা মজনু কে পুলিশে সোপর্দ করে


‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর, সরকার বাজার ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের হাতে কথিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ‘ইয়াবা মজনু’ আটক হওয়ার ঘটনায় যেমন মাদকবিরোধী জনঅসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি পুলিশের তৎপরতা, নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকের অবাধ কেনাবেচা দীর্ঘদিন ধরে চললেও তা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক কোনো কার্যকর অভিযান দেখা যায়নি। বরং একাধিকবার অভিযোগ জানানোর পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যেই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

‎শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে কয়েকজন কথিত মাদকসেবীকে আটক করেন এলাকাবাসী। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শত শত মানুষ বাদে ফতেপুর এলাকায় মজনু মিয়ার বাড়ি ঘেরাও করেন। স্থানীয়রা তাকে আটক করে রাখলে খবর পেয়ে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনকে নিজেদের হেফাজতে নেন।



‎আটক ব্যক্তিরা হলেন—মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোজাফফরাবাদ গ্রামের জুনাই মিয়ার ছেলে আল-আমিন (২৫), বাদেফতেপুর গ্রামের আমির মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৩০), একই গ্রামের মৃত কুসাই মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া (৪০) এবং হবিগঞ্জের আজমীরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের হাকিম মিয়ার ছেলে জুবায়ের হোসেন (৩০)।

‎পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ গ্রাম গাঁজা ও পাঁচটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

‎তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ‘ইয়াবা মজনু’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং যার বিরুদ্ধে বারবার মাদক কারবারের অভিযোগ উঠেছে, তিনি কীভাবে এতদিন নির্বিঘ্নে সক্রিয় ছিলেন?

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, শেরপুর ও সরকার বাজারের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি ও সেবন চলে আসছে। তাদের দাবি, এর ফলে কিশোর-তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়ছে এবং চুরি, ছিনতাইসহ নানা সামাজিক অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‎এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করতেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই শফিকুল ইসলাম (শফিক) এবং পুলিশের কথিত সোর্স বারিক মিয়ার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন মাদক ব্যবসার অভিযোগে আটক মজনু মিয়াও।

‎অভিযুক্ত মজনু মিয়ার বাড়িতে প্রশাসনের কিছু সদস্যের যাতায়াতের অভিযোগ প্রসঙ্গে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, অভিযুক্ত মজনু মিয়ার বাড়িতে প্রশাসনের কে বা কারা যেত, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির একজন অফিসারকে ইতোমধ্যে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

‎সচেতন নাগরিকদের মতে, নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষকে নিজেরাই অভিযুক্তদের আটক করার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।

‎তাদের দাবি, শেরপুর, সরকার বাজার ও আশপাশের এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে তা-ও খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তারের সঙ্গে জড়িত যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

‎এ বিষয়ে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, আমি অল্প কিছুদিন আগে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদান করেছি। যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছি এবং আলামতসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

‎মজনু মিয়া অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির ব্যক্তি। তিনি নিজের কাছে মাদক রাখতেন না। তাই তাকে আইনের আওতায় আনতে হলে আলামতসহ আটক করা জরুরি ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি এবং আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিকল্পনা করছিলাম। গ্রামবাসী অভিযানে নামার প্রায় ৩০ মিনিট আগেও ওসি স্যারের নেতৃত্বে থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের সমন্বয়ে বড় পরিসরের অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু এর আগেই এলাকাবাসী তাকে আরও তিনজনসহ আটক করে। পরে আমি নিজেই বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছি।”

‎তিনি আরও বলেন, মাদকের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পুলিশকে জানান। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধেও অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্ত করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

‎এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ এবং পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এএসআইকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে বিভাগীয় তদন্ত চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং মাদক সিন্ডিকেট, তাদের পৃষ্ঠপোষক এবং অভিযোগে অভিযুক্ত যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শেরপুরসহ পুরো এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের দায়িত্ব গ্রহণ

শেরপুর ও সরকার বাজারে প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ: ‘ইয়াবা মজনু’ আটকের পরও থামছে না মাদক ব্যবসা!

সময় ০৯:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
জনতা আটক করে ইয়াবা মজনু কে পুলিশে সোপর্দ করে


‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর, সরকার বাজার ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের হাতে কথিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ‘ইয়াবা মজনু’ আটক হওয়ার ঘটনায় যেমন মাদকবিরোধী জনঅসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি পুলিশের তৎপরতা, নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকের অবাধ কেনাবেচা দীর্ঘদিন ধরে চললেও তা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক কোনো কার্যকর অভিযান দেখা যায়নি। বরং একাধিকবার অভিযোগ জানানোর পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যেই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

‎শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে কয়েকজন কথিত মাদকসেবীকে আটক করেন এলাকাবাসী। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শত শত মানুষ বাদে ফতেপুর এলাকায় মজনু মিয়ার বাড়ি ঘেরাও করেন। স্থানীয়রা তাকে আটক করে রাখলে খবর পেয়ে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনকে নিজেদের হেফাজতে নেন।



‎আটক ব্যক্তিরা হলেন—মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোজাফফরাবাদ গ্রামের জুনাই মিয়ার ছেলে আল-আমিন (২৫), বাদেফতেপুর গ্রামের আমির মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৩০), একই গ্রামের মৃত কুসাই মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া (৪০) এবং হবিগঞ্জের আজমীরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের হাকিম মিয়ার ছেলে জুবায়ের হোসেন (৩০)।

‎পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ গ্রাম গাঁজা ও পাঁচটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

‎তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ‘ইয়াবা মজনু’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং যার বিরুদ্ধে বারবার মাদক কারবারের অভিযোগ উঠেছে, তিনি কীভাবে এতদিন নির্বিঘ্নে সক্রিয় ছিলেন?

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, শেরপুর ও সরকার বাজারের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি ও সেবন চলে আসছে। তাদের দাবি, এর ফলে কিশোর-তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়ছে এবং চুরি, ছিনতাইসহ নানা সামাজিক অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‎এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করতেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই শফিকুল ইসলাম (শফিক) এবং পুলিশের কথিত সোর্স বারিক মিয়ার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন মাদক ব্যবসার অভিযোগে আটক মজনু মিয়াও।

‎অভিযুক্ত মজনু মিয়ার বাড়িতে প্রশাসনের কিছু সদস্যের যাতায়াতের অভিযোগ প্রসঙ্গে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, অভিযুক্ত মজনু মিয়ার বাড়িতে প্রশাসনের কে বা কারা যেত, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির একজন অফিসারকে ইতোমধ্যে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

‎সচেতন নাগরিকদের মতে, নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষকে নিজেরাই অভিযুক্তদের আটক করার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।

‎তাদের দাবি, শেরপুর, সরকার বাজার ও আশপাশের এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে তা-ও খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তারের সঙ্গে জড়িত যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

‎এ বিষয়ে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, আমি অল্প কিছুদিন আগে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদান করেছি। যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছি এবং আলামতসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

‎মজনু মিয়া অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির ব্যক্তি। তিনি নিজের কাছে মাদক রাখতেন না। তাই তাকে আইনের আওতায় আনতে হলে আলামতসহ আটক করা জরুরি ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি এবং আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিকল্পনা করছিলাম। গ্রামবাসী অভিযানে নামার প্রায় ৩০ মিনিট আগেও ওসি স্যারের নেতৃত্বে থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের সমন্বয়ে বড় পরিসরের অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু এর আগেই এলাকাবাসী তাকে আরও তিনজনসহ আটক করে। পরে আমি নিজেই বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছি।”

‎তিনি আরও বলেন, মাদকের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পুলিশকে জানান। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধেও অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্ত করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

‎এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ এবং পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এএসআইকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে বিভাগীয় তদন্ত চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং মাদক সিন্ডিকেট, তাদের পৃষ্ঠপোষক এবং অভিযোগে অভিযুক্ত যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শেরপুরসহ পুরো এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।