
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ৫০০ টাকার জন্য জয় মহাপাত্র (২০) নামের এক তরুণকে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যার ঘটনার একমাত্র এজাহারনামীয় পলাতক আসামি আমিরুল ইসলামকে (৫০) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬ খ্রি.) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:০৫ মিনিটে সিলেটের শাহপরাণ থানাধীন শিবগঞ্জ বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আমিরুল ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার বুরহানপুর গ্রামের মৃত হাজী মদরিছ মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানায় ১১ জানুয়ারি ২০২৬ সালের ৮ নাম্বার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলাটি ৩০২ ধারায় পেনাল কোড ১৮৬০ রুজুকৃত।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, প্রায় দেড় মাস আগে ভিকটিম জয় মহাপাত্র আসামি আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায় একটি পুরাতন মোবাইল কেনেন। জয় নগদ ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও ৫০০ টাকা বাকি ছিল।
গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. সকালে দিরাইয়ের ভাঙ্গাডহর এলাকার একটি কালভার্টের পাশে জয়ের কাছে বাকি ৫০০ টাকা চান আমিরুল। জয় তাৎক্ষণিক টাকা দিতে না পারায় আমিরুল মোবাইলটি ছিনিয়ে নেন এবং সিম কার্ড নেওয়ার জন্য বিকেলে তার মুদির দোকানে আসতে বলেন।
বিকেলে জয় সিম কার্ড আনতে গেলে আমিরুল দোকানের দরজা বন্ধ করে তাকে মারধর করেন এবং গ্লাসের পানিতে বিষ মিশিয়ে জোরপূর্বক খাইয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন বলে মামলায় অভিযোগ করেন। অসুস্থ অবস্থা বাড়িতে গিয়ে জয় বারবার বমি করতে থাকলে পরিবারের লোকজন তাকে প্রথমে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৯ জানুয়ারি সকালে জয়ের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর থেকেই আসামি আমিরুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। ঘটনার ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে অবশেষে গতকাল র্যাব-৯, সিপিসি-৩ (সুনামগঞ্জ) এবং সদর কোম্পানী (সিলেট)-এর একটি যৌথ দল তাকে সিলেটের শিবগঞ্জ বাজার থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট দিরাই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 
















