সিলেট ০৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
জুড়ীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধন‎ বানিয়াচংয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদ্বোধন।।‎ হবিগঞ্জের লাখাইয়ে জমি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫‎ বানিয়াচংয়ে পরিবহন সংকট নিরসনে ওলামায়ে কেরামের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ‎ওসমানীনগরে সীমানা প্রাচীরের ভেতর মিলল বন্দুকে ও কার্তুজ, র‍্যাব-৯ এর অভিযান। নবীগঞ্জে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে ২ বছরের শিশুর মৃত্যু‎ ‎‘এমবিবিএস’ পরিচয়ে চিকিৎসা, নবীগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ‎দিরাইয়ে বৃদ্ধার বসতঘরে আগুন দিল দুর্বৃত্তরা: থানায় মামলা দায়ের ‎লোকসংস্কৃতির অন্তরালে ভট্ট কবিতা ও সংগীত গোয়াইনঘাটে ভাইয়ের দা’র কোপে ভাই নিহত, পুলিশের সামনে হামলার অভিযোগ! আটক-১

জমিজমার বিরোধে ভাইকে অপহরণের পর হত্যা, মৌলভীবাজারে ৫ গ্রেপ্তার

‎মৌলভীবাজারে আলোচিত এক ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। জমিজমা-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আব্দুল মতিন (৫৮) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। এ ঘটনায় নিহতের আপন ভাইকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

‎গ্রেপ্তাররা হলেন নিহতের ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়েশা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‎পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগাবালা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতিন গত ২৮ জুন একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির পূর্ব পাশে একটি রাস্তার ঢালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

‎হত্যাকাণ্ডের পর মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার একটি বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে। তদন্তে উঠে আসে, নিহতের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল এবং এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলাও বিচারাধীন ছিল।

‎পুলিশের দাবি, আব্দুল মতিন আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন—এ তথ্য আগে থেকেই জানতেন তার ভাই আব্দুল মজিদ। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের নিয়ে তাকে অনুসরণ করা হয়। একপর্যায়ে নির্জন স্থানে তাকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

‎মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শিপু কুমার দাস বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুড়ীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধন‎

জমিজমার বিরোধে ভাইকে অপহরণের পর হত্যা, মৌলভীবাজারে ৫ গ্রেপ্তার

সময় ০৭:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

‎মৌলভীবাজারে আলোচিত এক ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। জমিজমা-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আব্দুল মতিন (৫৮) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। এ ঘটনায় নিহতের আপন ভাইকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

‎গ্রেপ্তাররা হলেন নিহতের ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়েশা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‎পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগাবালা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতিন গত ২৮ জুন একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির পূর্ব পাশে একটি রাস্তার ঢালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

‎হত্যাকাণ্ডের পর মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার একটি বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে। তদন্তে উঠে আসে, নিহতের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল এবং এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলাও বিচারাধীন ছিল।

‎পুলিশের দাবি, আব্দুল মতিন আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন—এ তথ্য আগে থেকেই জানতেন তার ভাই আব্দুল মজিদ। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের নিয়ে তাকে অনুসরণ করা হয়। একপর্যায়ে নির্জন স্থানে তাকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

‎মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শিপু কুমার দাস বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।