
সিলেটের গোলাপগঞ্জে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা মূল্যের চোরাচালানের ভারতীয় শাড়ি ও বিপুল পরিমাণ ঔষধসহ রিয়াজ উদ্দিন (২৫) নামে এক চোরাচালানকারীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। এ সময় চোরাই কাজে ব্যবহৃত একটি নীল রঙের পিকআপ ভ্যানও জব্দ করা হয়।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে গোলাপগঞ্জ থানাধীন শাহপরান সেতু টোল প্লাজা সংলগ্ন বাইপাস এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রিয়াজ উদ্দিন সিলেট জেলার কানাইঘাট থানার গোরাকপুর গ্রামের মৃত শামছুল হকের ছেলে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে যে, সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা জাফলং থেকে একটি নীল রঙের পিকআপে করে চোরাচালানের মালামাল নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি সিলেট শহরের দিকে আসছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল শাহপরান সেতু টোল প্লাজা এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন পিকআপটিকে থামার সংকেত দিলে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে ৩ জন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে রিয়াজ উদ্দিনকে আটক করতে পারলেও বাকি ২ জন কৌশলে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে আটকে রাখা পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে চোরাই পথে আনা ভারতীয় ১২০৫ পিস শাড়ি, ৪ লক্ষ পিস সাইপ্রোহেপটাডিন (Cyproheptadine) ট্যাবলেট, ২ হাজার৩৮ পিস জাস্ট ডি-৩ (JUST D3.800) ড্রপ এবং ৩ হাজার৬০০ পিস ব্যাসিলাস ক্লসি (Bacillus Clausii) স্পোরস সাসপেনশন ঔষধ উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত এই মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা।
র্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রিয়াজ স্বীকার করেছে যে, সে এবং পলাতক আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে অবৈধ পথে এসব পণ্য বাংলাদেশে এনে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রাখছিল।
এই ঘটনায় রিয়াজ ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত আসামিকে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
স্টাফ রিপোর্টার 


















