সিলেট ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
‎গোয়াইনঘাটে মেছোবিড়াল পিটিয়ে হত্যা, ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ হবিগঞ্জে বিক্ষোভের প্রস্তুতিকালে আটক, ২১ ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্ত মাহদীসহ তিনজন ‎নবীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের মৃত্যু, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন কুলাউড়ায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের মতবিনিময় ‎ছাতকে মোবাইল কোর্ট: চার প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা, পচা মাংস জব্দ জুড়ীতে হাকালুকি হাওরের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত‎ ‎আবু সালেহ আহমদ : শেকড় সন্ধানী এক নিভৃতচারী সাহিত্যসাধক। ‎মেধা ও পরিশ্রমে সাফল্য, এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস তুবার ‎জামালপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান,সরঞ্জাম জব্দ ও বিনষ্ট

টাঙ্গাইলে কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ অভিযোগ, বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস

‎টাঙ্গাইল শহরের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের এক নারী শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎জানা গেছে, সম্প্রতি অধ্যক্ষের সঙ্গে ওই শিক্ষিকার একটি ব্যক্তিগত কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কলেজজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। ফোনালাপের বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষের চারিত্রিক সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (২৯ মার্চ) সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন কলেজের অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাও। বিক্ষোভকারীরা অধ্যক্ষের অবিলম্বে বহিষ্কার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

‎বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বলেন,একজন আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে এমন নৈতিক স্খলন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক এবং শিক্ষার পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, এমন কলঙ্কজনক ঘটনার পর সাধারণ মানুষের সামনে মুখ দেখানো দায় হয়ে পড়েছে। তারা প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।তারা অভিযোগ করেন, প্রিন্সিপাল তিনি শিক্ষকদের সব সময় অসদাচরণ করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মেরও অভিযোগ তুলেন বিক্ষোভরত শিক্ষকরা। কলেজের সহকারী অধ্যাপক বলেন, ২০১৩ সাল থেকে তিনি এই কলেজে আছেন। তখন এই কলেজের শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিলে গর্ববোধ করতাম আর এখন পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করছি। কারন এটা একমাত্র প্রিন্সিপালের অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য।

‎প্রিন্সিপালের এহেন কর্মকাণ্ডের কারনে বিক্ষোভের কারণে কলেজ ক্যাম্পাসে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
‎তবে ফোনালাপ ফাঁস ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত অধ্যক্ষকে সরিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সম্মান ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎গোয়াইনঘাটে মেছোবিড়াল পিটিয়ে হত্যা, ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ

টাঙ্গাইলে কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ অভিযোগ, বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস

সময় ০৮:৪৪:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

‎টাঙ্গাইল শহরের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের এক নারী শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎জানা গেছে, সম্প্রতি অধ্যক্ষের সঙ্গে ওই শিক্ষিকার একটি ব্যক্তিগত কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কলেজজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। ফোনালাপের বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষের চারিত্রিক সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (২৯ মার্চ) সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন কলেজের অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাও। বিক্ষোভকারীরা অধ্যক্ষের অবিলম্বে বহিষ্কার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

‎বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বলেন,একজন আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে এমন নৈতিক স্খলন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক এবং শিক্ষার পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, এমন কলঙ্কজনক ঘটনার পর সাধারণ মানুষের সামনে মুখ দেখানো দায় হয়ে পড়েছে। তারা প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।তারা অভিযোগ করেন, প্রিন্সিপাল তিনি শিক্ষকদের সব সময় অসদাচরণ করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মেরও অভিযোগ তুলেন বিক্ষোভরত শিক্ষকরা। কলেজের সহকারী অধ্যাপক বলেন, ২০১৩ সাল থেকে তিনি এই কলেজে আছেন। তখন এই কলেজের শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিলে গর্ববোধ করতাম আর এখন পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করছি। কারন এটা একমাত্র প্রিন্সিপালের অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য।

‎প্রিন্সিপালের এহেন কর্মকাণ্ডের কারনে বিক্ষোভের কারণে কলেজ ক্যাম্পাসে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
‎তবে ফোনালাপ ফাঁস ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত অধ্যক্ষকে সরিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সম্মান ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।