সিলেট ০৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
News Title :
‎সিলেটে হাইড্রোলিক হর্ন ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনে ১০ গাড়ির মালিককে জরিমানা নবীগঞ্জে আম গাছে থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার‎ ‘নেলসন ম্যান্ডেলা পিস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ পেলেন কাজী মোহাম্মদ জমিরুল ইসলাম মমতাজ‎ ‎৪৫০ শিক্ষার্থীর একমাত্র ভরসা গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়; পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস গ্রাম পুলিশের বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি জাতীয়করণের দাবি ‎শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভার অনুষ্ঠিত ‎সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৩ শ্রমিক দগ্ধ নবীগঞ্জে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করলেন পৌর প্রশাসক মো. রুহুল আমিন চুনারুঘাটে ১৫ কিলোমিটার ধাওয়া শেষে জনতার হাতে আটক ডাকাতি মামলার অভিযুক্ত, উদ্ধার প্রাইভেটকার মাদক দমনে পুলিশের বিশেষ উইং চান এমপি নাসের রহমান, তদবিরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিআইজি

বই পাঠে বিমূখতা তরুণদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছেঃ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক



‎মৌলভীবাজারের কুলাউড়া আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে ‘আদর্শ পাঠাগার বইপড়া উৎসব-২০২৬’ এর প্রতিযোগিতামূলক পাঠের জন্য দুই শতাধিক পাঠকের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়েছে।

‎১৮ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০ টায় কুলাউড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম এ বই উৎসব ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নিবন্ধিত ২শ’ পাঠকের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়। তারা ২০ দিন পর সে বই থেকে জ্ঞানমূলক ১০০ নম্বরের একটি পরীক্ষা নিবেন। নির্বাচিত সেরা পাঠকদের বিভিন্ন পরিমাণে নগদ শিক্ষাবৃত্তি, বই ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। ‎পাশাপাশি বইপড়ায় অংশ নেওয়া সকল পাঠককে আরও দু’টি করে বই উপহার দেওয়া হয়।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কুলাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ খুরশিদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।

‎আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ এমদাদুল ইসলাম ভুট্টো, বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ও লেখক এম এস আলী, তানভীর মাহতাব ফাহিম, রূপালি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন, তামান্না আক্তার তান্নি, প্রমূখ।

‎প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, মানুষের চিন্তা ও কল্পনাশক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে বই। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও মূল্যবোধ গড়ে দেয়। তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে বই সহজলভ্য হলেও আমাদের শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের বাইরে কোনো বই পড়তে চান না। অথচ নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে হতাশা থেকে মুক্তি দেয়; আত্মবিশ্বাসী করে। আমাদের তরুণ সমাজের মাঝে বই পাঠে বিমূখতা তাদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছে। বই পাঠে বিমূখ প্রজন্ম দিয়ে মানবিক ও যুক্তিবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে না।

‎উল্লেখ্য, বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ২০১৯ সালে ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন কুলাউড়া শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০ টি বইপড়া উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পাঠক আনুষ্ঠানিকভাবে বই পড়ায় অংশ নিয়েছেন। পাঠাগারের কোনো নিজস্ব তহবিল নেই।

‎আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও বিভিন্ন শিক্ষাণুরাগী প্রবাসী শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বই পড়ানোর উদ্যোগটি অব্যাহত রয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার দরুন এবারের আয়োজনে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী ও অশিক্ষার্থী পাঠককে এবারের বইপড়া উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি। যে কোনো ব্যক্তি কিংবা সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও বই সহযোগিতা পেলে এ আয়োজনটিকে আরও বেশি শিক্ষার্থীদের নাগালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেটে হাইড্রোলিক হর্ন ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনে ১০ গাড়ির মালিককে জরিমানা

বই পাঠে বিমূখতা তরুণদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছেঃ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক

সময় ১২:০২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬



‎মৌলভীবাজারের কুলাউড়া আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে ‘আদর্শ পাঠাগার বইপড়া উৎসব-২০২৬’ এর প্রতিযোগিতামূলক পাঠের জন্য দুই শতাধিক পাঠকের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়েছে।

‎১৮ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০ টায় কুলাউড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম এ বই উৎসব ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নিবন্ধিত ২শ’ পাঠকের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়। তারা ২০ দিন পর সে বই থেকে জ্ঞানমূলক ১০০ নম্বরের একটি পরীক্ষা নিবেন। নির্বাচিত সেরা পাঠকদের বিভিন্ন পরিমাণে নগদ শিক্ষাবৃত্তি, বই ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। ‎পাশাপাশি বইপড়ায় অংশ নেওয়া সকল পাঠককে আরও দু’টি করে বই উপহার দেওয়া হয়।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কুলাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ খুরশিদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।

‎আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ এমদাদুল ইসলাম ভুট্টো, বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ও লেখক এম এস আলী, তানভীর মাহতাব ফাহিম, রূপালি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন, তামান্না আক্তার তান্নি, প্রমূখ।

‎প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, মানুষের চিন্তা ও কল্পনাশক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে বই। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও মূল্যবোধ গড়ে দেয়। তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে বই সহজলভ্য হলেও আমাদের শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের বাইরে কোনো বই পড়তে চান না। অথচ নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে হতাশা থেকে মুক্তি দেয়; আত্মবিশ্বাসী করে। আমাদের তরুণ সমাজের মাঝে বই পাঠে বিমূখতা তাদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছে। বই পাঠে বিমূখ প্রজন্ম দিয়ে মানবিক ও যুক্তিবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে না।

‎উল্লেখ্য, বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ২০১৯ সালে ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন কুলাউড়া শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০ টি বইপড়া উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পাঠক আনুষ্ঠানিকভাবে বই পড়ায় অংশ নিয়েছেন। পাঠাগারের কোনো নিজস্ব তহবিল নেই।

‎আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও বিভিন্ন শিক্ষাণুরাগী প্রবাসী শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বই পড়ানোর উদ্যোগটি অব্যাহত রয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার দরুন এবারের আয়োজনে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী ও অশিক্ষার্থী পাঠককে এবারের বইপড়া উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি। যে কোনো ব্যক্তি কিংবা সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও বই সহযোগিতা পেলে এ আয়োজনটিকে আরও বেশি শিক্ষার্থীদের নাগালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো।