সিলেট ০৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
‎মিষ্টির আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে যাচ্ছেন এলিজা জামান পদ্ম হাতে “তুমি আসবে বলেই তো অপেক্ষাটা এত সুন্দর” প্রধান শিক্ষক তন্নী রহমানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা‎ গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব সম্পাদক কে.এম. লিমনকে গ্রাম পুলিশের সংবর্ধনা ‎সিলেটের গোয়াইনঘাটে যুবদল নেতা বদরুল হত্যা: দিরাই থেকে ২ আসামি গ্রেফতার মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিতকরণের শুভ উদ্বোধন ‎সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত: জনবান্ধব পুলিশিংয়ের অঙ্গীকার লাখাইর করাব ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রদল নেতা জাকারিয়া চৌধুরী রতন বড়লেখায় জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত। ‎বালাগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় ভাতিজার হাতে খুন হয়েছেন চাচা হবিগঞ্জে মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, ভুয়া চিকিৎসক আরিফ আটক

বই পাঠে বিমূখতা তরুণদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছেঃ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক


‎

‎মৌলভীবাজারের কুলাউড়া আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে ‘আদর্শ পাঠাগার বইপড়া উৎসব-২০২৬’ এর প্রতিযোগিতামূলক পাঠের জন্য দুই শতাধিক পাঠকের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়েছে।

‎১৮ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০ টায় কুলাউড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম এ বই উৎসব ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নিবন্ধিত ২শ’ পাঠকের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়। তারা ২০ দিন পর সে বই থেকে জ্ঞানমূলক ১০০ নম্বরের একটি পরীক্ষা নিবেন। নির্বাচিত সেরা পাঠকদের বিভিন্ন পরিমাণে নগদ শিক্ষাবৃত্তি, বই ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। ‎পাশাপাশি বইপড়ায় অংশ নেওয়া সকল পাঠককে আরও দু’টি করে বই উপহার দেওয়া হয়।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কুলাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ খুরশিদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।

‎আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ এমদাদুল ইসলাম ভুট্টো, বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ও লেখক এম এস আলী, তানভীর মাহতাব ফাহিম, রূপালি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন, তামান্না আক্তার তান্নি, প্রমূখ।

‎প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, মানুষের চিন্তা ও কল্পনাশক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে বই। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও মূল্যবোধ গড়ে দেয়। তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে বই সহজলভ্য হলেও আমাদের শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের বাইরে কোনো বই পড়তে চান না। অথচ নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে হতাশা থেকে মুক্তি দেয়; আত্মবিশ্বাসী করে। আমাদের তরুণ সমাজের মাঝে বই পাঠে বিমূখতা তাদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছে। বই পাঠে বিমূখ প্রজন্ম দিয়ে মানবিক ও যুক্তিবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে না।

‎উল্লেখ্য, বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ২০১৯ সালে ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন কুলাউড়া শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০ টি বইপড়া উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পাঠক আনুষ্ঠানিকভাবে বই পড়ায় অংশ নিয়েছেন। পাঠাগারের কোনো নিজস্ব তহবিল নেই।

‎আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও বিভিন্ন শিক্ষাণুরাগী প্রবাসী শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বই পড়ানোর উদ্যোগটি অব্যাহত রয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার দরুন এবারের আয়োজনে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী ও অশিক্ষার্থী পাঠককে এবারের বইপড়া উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি। যে কোনো ব্যক্তি কিংবা সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও বই সহযোগিতা পেলে এ আয়োজনটিকে আরও বেশি শিক্ষার্থীদের নাগালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎মিষ্টির আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে যাচ্ছেন এলিজা জামান

বই পাঠে বিমূখতা তরুণদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছেঃ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক

সময় ১২:০২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


‎

‎মৌলভীবাজারের কুলাউড়া আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে ‘আদর্শ পাঠাগার বইপড়া উৎসব-২০২৬’ এর প্রতিযোগিতামূলক পাঠের জন্য দুই শতাধিক পাঠকের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়েছে।

‎১৮ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০ টায় কুলাউড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম এ বই উৎসব ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নিবন্ধিত ২শ’ পাঠকের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়। তারা ২০ দিন পর সে বই থেকে জ্ঞানমূলক ১০০ নম্বরের একটি পরীক্ষা নিবেন। নির্বাচিত সেরা পাঠকদের বিভিন্ন পরিমাণে নগদ শিক্ষাবৃত্তি, বই ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। ‎পাশাপাশি বইপড়ায় অংশ নেওয়া সকল পাঠককে আরও দু’টি করে বই উপহার দেওয়া হয়।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কুলাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ খুরশিদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।

‎আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ এমদাদুল ইসলাম ভুট্টো, বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ও লেখক এম এস আলী, তানভীর মাহতাব ফাহিম, রূপালি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন, তামান্না আক্তার তান্নি, প্রমূখ।

‎প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, মানুষের চিন্তা ও কল্পনাশক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে বই। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও মূল্যবোধ গড়ে দেয়। তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে বই সহজলভ্য হলেও আমাদের শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের বাইরে কোনো বই পড়তে চান না। অথচ নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে হতাশা থেকে মুক্তি দেয়; আত্মবিশ্বাসী করে। আমাদের তরুণ সমাজের মাঝে বই পাঠে বিমূখতা তাদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছে। বই পাঠে বিমূখ প্রজন্ম দিয়ে মানবিক ও যুক্তিবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে না।

‎উল্লেখ্য, বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ২০১৯ সালে ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন কুলাউড়া শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০ টি বইপড়া উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পাঠক আনুষ্ঠানিকভাবে বই পড়ায় অংশ নিয়েছেন। পাঠাগারের কোনো নিজস্ব তহবিল নেই।

‎আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও বিভিন্ন শিক্ষাণুরাগী প্রবাসী শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বই পড়ানোর উদ্যোগটি অব্যাহত রয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার দরুন এবারের আয়োজনে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী ও অশিক্ষার্থী পাঠককে এবারের বইপড়া উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি। যে কোনো ব্যক্তি কিংবা সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও বই সহযোগিতা পেলে এ আয়োজনটিকে আরও বেশি শিক্ষার্থীদের নাগালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো।