সিলেট ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
বই পাঠে বিমূখতা তরুণদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছেঃ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক ভাতকুড়া-নলুয়া ফোরলেন প্রকল্পের ঘোষণা দিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী- আযম খান তেলিয়াপাড়া চা বাগানে শ্রমিক দ্বন্দ্বের অবসান, সমঝোতায় ফিরলো স্বাভাবিক উৎপাদন বানিয়াচংয়ে আজমান লস্কর হত্যা মামলা: র‍্যাবের হাতে আরও ২ ভাই গ্রেফতার, মোট আটক ৪ ‎দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই: এমপি কয়ছর আহমদ ‎বিয়ানীবাজার থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ১শ’ ব্যারেল কনডেনসেট পেট্রোল-অকটেন!‎ ‎ওসমানীনগরে পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি সাকিব গ্রেফতার; র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান ‎সিলেটের গোয়াইনঘাটে ২৬ বোতল ইসকফসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার‎ ‎মাধবপুরের শাহপুরে রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ৪ ‎মাধবপুরে রাতের আঁধারে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, এলাকায় উত্তেজনা

বই পাঠে বিমূখতা তরুণদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছেঃ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক



‎মৌলভীবাজারের কুলাউড়া আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে ‘আদর্শ পাঠাগার বইপড়া উৎসব-২০২৬’ এর প্রতিযোগিতামূলক পাঠের জন্য দুই শতাধিক পাঠকের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়েছে।

‎১৮ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০ টায় কুলাউড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম এ বই উৎসব ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নিবন্ধিত ২শ’ পাঠকের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়। তারা ২০ দিন পর সে বই থেকে জ্ঞানমূলক ১০০ নম্বরের একটি পরীক্ষা নিবেন। নির্বাচিত সেরা পাঠকদের বিভিন্ন পরিমাণে নগদ শিক্ষাবৃত্তি, বই ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। ‎পাশাপাশি বইপড়ায় অংশ নেওয়া সকল পাঠককে আরও দু’টি করে বই উপহার দেওয়া হয়।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কুলাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ খুরশিদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।

‎আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ এমদাদুল ইসলাম ভুট্টো, বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ও লেখক এম এস আলী, তানভীর মাহতাব ফাহিম, রূপালি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন, তামান্না আক্তার তান্নি, প্রমূখ।

‎প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, মানুষের চিন্তা ও কল্পনাশক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে বই। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও মূল্যবোধ গড়ে দেয়। তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে বই সহজলভ্য হলেও আমাদের শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের বাইরে কোনো বই পড়তে চান না। অথচ নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে হতাশা থেকে মুক্তি দেয়; আত্মবিশ্বাসী করে। আমাদের তরুণ সমাজের মাঝে বই পাঠে বিমূখতা তাদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছে। বই পাঠে বিমূখ প্রজন্ম দিয়ে মানবিক ও যুক্তিবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে না।

‎উল্লেখ্য, বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ২০১৯ সালে ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন কুলাউড়া শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০ টি বইপড়া উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পাঠক আনুষ্ঠানিকভাবে বই পড়ায় অংশ নিয়েছেন। পাঠাগারের কোনো নিজস্ব তহবিল নেই।

‎আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও বিভিন্ন শিক্ষাণুরাগী প্রবাসী শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বই পড়ানোর উদ্যোগটি অব্যাহত রয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার দরুন এবারের আয়োজনে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী ও অশিক্ষার্থী পাঠককে এবারের বইপড়া উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি। যে কোনো ব্যক্তি কিংবা সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও বই সহযোগিতা পেলে এ আয়োজনটিকে আরও বেশি শিক্ষার্থীদের নাগালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বই পাঠে বিমূখতা তরুণদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছেঃ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক

বই পাঠে বিমূখতা তরুণদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছেঃ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক

সময় ১২:০২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬



‎মৌলভীবাজারের কুলাউড়া আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে ‘আদর্শ পাঠাগার বইপড়া উৎসব-২০২৬’ এর প্রতিযোগিতামূলক পাঠের জন্য দুই শতাধিক পাঠকের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়েছে।

‎১৮ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০ টায় কুলাউড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম এ বই উৎসব ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নিবন্ধিত ২শ’ পাঠকের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়। তারা ২০ দিন পর সে বই থেকে জ্ঞানমূলক ১০০ নম্বরের একটি পরীক্ষা নিবেন। নির্বাচিত সেরা পাঠকদের বিভিন্ন পরিমাণে নগদ শিক্ষাবৃত্তি, বই ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। ‎পাশাপাশি বইপড়ায় অংশ নেওয়া সকল পাঠককে আরও দু’টি করে বই উপহার দেওয়া হয়।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কুলাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ খুরশিদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।

‎আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ এমদাদুল ইসলাম ভুট্টো, বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ও লেখক এম এস আলী, তানভীর মাহতাব ফাহিম, রূপালি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন, তামান্না আক্তার তান্নি, প্রমূখ।

‎প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, মানুষের চিন্তা ও কল্পনাশক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে বই। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও মূল্যবোধ গড়ে দেয়। তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে বই সহজলভ্য হলেও আমাদের শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের বাইরে কোনো বই পড়তে চান না। অথচ নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে হতাশা থেকে মুক্তি দেয়; আত্মবিশ্বাসী করে। আমাদের তরুণ সমাজের মাঝে বই পাঠে বিমূখতা তাদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছে। বই পাঠে বিমূখ প্রজন্ম দিয়ে মানবিক ও যুক্তিবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে না।

‎উল্লেখ্য, বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ২০১৯ সালে ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন কুলাউড়া শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০ টি বইপড়া উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পাঠক আনুষ্ঠানিকভাবে বই পড়ায় অংশ নিয়েছেন। পাঠাগারের কোনো নিজস্ব তহবিল নেই।

‎আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও বিভিন্ন শিক্ষাণুরাগী প্রবাসী শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বই পড়ানোর উদ্যোগটি অব্যাহত রয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার দরুন এবারের আয়োজনে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী ও অশিক্ষার্থী পাঠককে এবারের বইপড়া উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি। যে কোনো ব্যক্তি কিংবা সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও বই সহযোগিতা পেলে এ আয়োজনটিকে আরও বেশি শিক্ষার্থীদের নাগালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো।