সিলেট ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
‎সিলেটে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত ও সুইচ গিয়ারসহ গ্রেফতার ২ ‎কোম্পানীগঞ্জে ৬৮ বোতল বিদেশী মদ ও এসকাফ সিরাপ সহ গ্রেফতার ২ ‎টাঙ্গাইলের মধুপুরে বসতঘর থেকে প্রায় ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার ‎সুন্দর, মানবিক ও আলোকিত সমাজ গঠনে সাহিত্যের কোনো বিকল্প নেইঃ ভিসি প্রফেসর ড. জহিরুল হক‎ মাধবপুরে বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫‎ ‘বীরাঙ্গনা মা’ ও ‘যুদ্ধ শিশু’ মেয়ের বাড়িঘর দখল চেষ্টার অভিযোগ চুনারুঘাটে মদ্যপান করে মাকে মারধর করার অভিযোগ যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড ‎ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ প্রদান উপলক্ষে আলোচনা সভা‎ সিলেটে উদ্ধার হওয়া ৫২টি হারানো মোবাইল গ্রাহকদের বুঝিয়ে দিল এসএমপি ‎সাতছড়ি চাকলাপুঞ্জিতে সিএনজি দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

‎অযত্ন-অবহেলায় বিলুপ্তির পথে জলসুখার আড়াইশ বছরের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি!

ঐতিহাসিক জলসুখা জমিদার বাড়ির জরাজীর্ণ অবস্থা।





‎হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রাম-এ অবস্থিত প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির অযত্ন-অবহেলায় ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা এখন ধ্বংসের মুখে।

‎কুশিয়ারা নদী-র তীরে অবস্থিত এই এলাকায় একসময় মোট ১৪টি জমিদার বাড়ি ছিল, যার মধ্যে ১৩টি হিন্দু ও ১টি মুসলিম জমিদারের বাড়ি বলে জানা যায়। বর্তমানে অধিকাংশ স্থাপনাই জরাজীর্ণ। অনেক ভবনের দেয়াল ও ছাদ ভেঙে পড়ছে, আর পুরনো কাঠ, পাটাতন ও আসবাব পত্রও চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর অধিকাংশ জমিদার পরিবার ভারতে চলে গেলে বাড়িগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দখলদারিত্বের কারণে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংসের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ‘আটচালা’ বৈঠকখানার চাল ঝড়-তুফানে ভেঙে পড়ে এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

‎এলাকাবাসীর দাবি, জলসুখার এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করা গেলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারত। তারা দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎এ বিষয়ে জলসুখা ইউনিয়ন ভূমি অফিস-এর উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. রাসেল মিয়া বলেন, ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় রয়েছে। ঝড়-তুফানে বৈঠকখানার চাল ভেঙে পড়ে আছে। জমিদার বাড়িটি তহসিল অফিসের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সংস্কারের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।

‎স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া না হলে জলসুখার এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো একসময় পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেটে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত ও সুইচ গিয়ারসহ গ্রেফতার ২

‎অযত্ন-অবহেলায় বিলুপ্তির পথে জলসুখার আড়াইশ বছরের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি!

সময় ০৯:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ঐতিহাসিক জলসুখা জমিদার বাড়ির জরাজীর্ণ অবস্থা।





‎হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রাম-এ অবস্থিত প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির অযত্ন-অবহেলায় ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা এখন ধ্বংসের মুখে।

‎কুশিয়ারা নদী-র তীরে অবস্থিত এই এলাকায় একসময় মোট ১৪টি জমিদার বাড়ি ছিল, যার মধ্যে ১৩টি হিন্দু ও ১টি মুসলিম জমিদারের বাড়ি বলে জানা যায়। বর্তমানে অধিকাংশ স্থাপনাই জরাজীর্ণ। অনেক ভবনের দেয়াল ও ছাদ ভেঙে পড়ছে, আর পুরনো কাঠ, পাটাতন ও আসবাব পত্রও চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর অধিকাংশ জমিদার পরিবার ভারতে চলে গেলে বাড়িগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দখলদারিত্বের কারণে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংসের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ‘আটচালা’ বৈঠকখানার চাল ঝড়-তুফানে ভেঙে পড়ে এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

‎এলাকাবাসীর দাবি, জলসুখার এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করা গেলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারত। তারা দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎এ বিষয়ে জলসুখা ইউনিয়ন ভূমি অফিস-এর উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. রাসেল মিয়া বলেন, ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় রয়েছে। ঝড়-তুফানে বৈঠকখানার চাল ভেঙে পড়ে আছে। জমিদার বাড়িটি তহসিল অফিসের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সংস্কারের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।

‎স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া না হলে জলসুখার এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো একসময় পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।