সিলেট ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
News Title :
‎সিলেটে হাইড্রোলিক হর্ন ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনে ১০ গাড়ির মালিককে জরিমানা নবীগঞ্জে আম গাছে থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার‎ ‘নেলসন ম্যান্ডেলা পিস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ পেলেন কাজী মোহাম্মদ জমিরুল ইসলাম মমতাজ‎ ‎৪৫০ শিক্ষার্থীর একমাত্র ভরসা গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়; পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস গ্রাম পুলিশের বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি জাতীয়করণের দাবি ‎শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভার অনুষ্ঠিত ‎সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৩ শ্রমিক দগ্ধ নবীগঞ্জে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করলেন পৌর প্রশাসক মো. রুহুল আমিন চুনারুঘাটে ১৫ কিলোমিটার ধাওয়া শেষে জনতার হাতে আটক ডাকাতি মামলার অভিযুক্ত, উদ্ধার প্রাইভেটকার মাদক দমনে পুলিশের বিশেষ উইং চান এমপি নাসের রহমান, তদবিরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিআইজি

‎অযত্ন-অবহেলায় বিলুপ্তির পথে জলসুখার আড়াইশ বছরের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি!

ঐতিহাসিক জলসুখা জমিদার বাড়ির জরাজীর্ণ অবস্থা।





‎হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রাম-এ অবস্থিত প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির অযত্ন-অবহেলায় ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা এখন ধ্বংসের মুখে।

‎কুশিয়ারা নদী-র তীরে অবস্থিত এই এলাকায় একসময় মোট ১৪টি জমিদার বাড়ি ছিল, যার মধ্যে ১৩টি হিন্দু ও ১টি মুসলিম জমিদারের বাড়ি বলে জানা যায়। বর্তমানে অধিকাংশ স্থাপনাই জরাজীর্ণ। অনেক ভবনের দেয়াল ও ছাদ ভেঙে পড়ছে, আর পুরনো কাঠ, পাটাতন ও আসবাব পত্রও চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর অধিকাংশ জমিদার পরিবার ভারতে চলে গেলে বাড়িগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দখলদারিত্বের কারণে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংসের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ‘আটচালা’ বৈঠকখানার চাল ঝড়-তুফানে ভেঙে পড়ে এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

‎এলাকাবাসীর দাবি, জলসুখার এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করা গেলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারত। তারা দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎এ বিষয়ে জলসুখা ইউনিয়ন ভূমি অফিস-এর উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. রাসেল মিয়া বলেন, ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় রয়েছে। ঝড়-তুফানে বৈঠকখানার চাল ভেঙে পড়ে আছে। জমিদার বাড়িটি তহসিল অফিসের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সংস্কারের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।

‎স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া না হলে জলসুখার এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো একসময় পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেটে হাইড্রোলিক হর্ন ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনে ১০ গাড়ির মালিককে জরিমানা

‎অযত্ন-অবহেলায় বিলুপ্তির পথে জলসুখার আড়াইশ বছরের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি!

সময় ০৯:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ঐতিহাসিক জলসুখা জমিদার বাড়ির জরাজীর্ণ অবস্থা।





‎হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রাম-এ অবস্থিত প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির অযত্ন-অবহেলায় ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা এখন ধ্বংসের মুখে।

‎কুশিয়ারা নদী-র তীরে অবস্থিত এই এলাকায় একসময় মোট ১৪টি জমিদার বাড়ি ছিল, যার মধ্যে ১৩টি হিন্দু ও ১টি মুসলিম জমিদারের বাড়ি বলে জানা যায়। বর্তমানে অধিকাংশ স্থাপনাই জরাজীর্ণ। অনেক ভবনের দেয়াল ও ছাদ ভেঙে পড়ছে, আর পুরনো কাঠ, পাটাতন ও আসবাব পত্রও চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর অধিকাংশ জমিদার পরিবার ভারতে চলে গেলে বাড়িগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দখলদারিত্বের কারণে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংসের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ‘আটচালা’ বৈঠকখানার চাল ঝড়-তুফানে ভেঙে পড়ে এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

‎এলাকাবাসীর দাবি, জলসুখার এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করা গেলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারত। তারা দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎এ বিষয়ে জলসুখা ইউনিয়ন ভূমি অফিস-এর উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. রাসেল মিয়া বলেন, ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় রয়েছে। ঝড়-তুফানে বৈঠকখানার চাল ভেঙে পড়ে আছে। জমিদার বাড়িটি তহসিল অফিসের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সংস্কারের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।

‎স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া না হলে জলসুখার এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো একসময় পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।