সিলেট ০৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
News Title :
বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎ ‎ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ‎নবীগঞ্জের একমাত্র আসামি তুহিন সিলেট থেকে গ্রেফতার ‎লাখাইয়ে কর্মকর্তা সাংবাদিক  মুক্তিযোদ্ধা সহ সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। ‎জামালপুরের দিগপাইতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্য!‎ ‎জামালপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে  পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা  ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রামু থেকে নিখোঁজ কলেজছাত্রী টাঙ্গাইলে উদ্ধার চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান: নারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা ‎সখিপুর পৌরসভায় ৩নং ওয়ার্ডে টানা বিদ্যুৎ বিপর্যয়: চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাঠ পর্যায়ের কৃষি উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন

‎অযত্ন-অবহেলায় বিলুপ্তির পথে জলসুখার আড়াইশ বছরের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি!

ঐতিহাসিক জলসুখা জমিদার বাড়ির জরাজীর্ণ অবস্থা।





‎হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রাম-এ অবস্থিত প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির অযত্ন-অবহেলায় ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা এখন ধ্বংসের মুখে।

‎কুশিয়ারা নদী-র তীরে অবস্থিত এই এলাকায় একসময় মোট ১৪টি জমিদার বাড়ি ছিল, যার মধ্যে ১৩টি হিন্দু ও ১টি মুসলিম জমিদারের বাড়ি বলে জানা যায়। বর্তমানে অধিকাংশ স্থাপনাই জরাজীর্ণ। অনেক ভবনের দেয়াল ও ছাদ ভেঙে পড়ছে, আর পুরনো কাঠ, পাটাতন ও আসবাব পত্রও চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর অধিকাংশ জমিদার পরিবার ভারতে চলে গেলে বাড়িগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দখলদারিত্বের কারণে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংসের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ‘আটচালা’ বৈঠকখানার চাল ঝড়-তুফানে ভেঙে পড়ে এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

‎এলাকাবাসীর দাবি, জলসুখার এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করা গেলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারত। তারা দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎এ বিষয়ে জলসুখা ইউনিয়ন ভূমি অফিস-এর উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. রাসেল মিয়া বলেন, ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় রয়েছে। ঝড়-তুফানে বৈঠকখানার চাল ভেঙে পড়ে আছে। জমিদার বাড়িটি তহসিল অফিসের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সংস্কারের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।

‎স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া না হলে জলসুখার এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো একসময় পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎

‎অযত্ন-অবহেলায় বিলুপ্তির পথে জলসুখার আড়াইশ বছরের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি!

সময় ০৯:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ঐতিহাসিক জলসুখা জমিদার বাড়ির জরাজীর্ণ অবস্থা।





‎হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রাম-এ অবস্থিত প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির অযত্ন-অবহেলায় ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা এখন ধ্বংসের মুখে।

‎কুশিয়ারা নদী-র তীরে অবস্থিত এই এলাকায় একসময় মোট ১৪টি জমিদার বাড়ি ছিল, যার মধ্যে ১৩টি হিন্দু ও ১টি মুসলিম জমিদারের বাড়ি বলে জানা যায়। বর্তমানে অধিকাংশ স্থাপনাই জরাজীর্ণ। অনেক ভবনের দেয়াল ও ছাদ ভেঙে পড়ছে, আর পুরনো কাঠ, পাটাতন ও আসবাব পত্রও চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর অধিকাংশ জমিদার পরিবার ভারতে চলে গেলে বাড়িগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দখলদারিত্বের কারণে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংসের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ‘আটচালা’ বৈঠকখানার চাল ঝড়-তুফানে ভেঙে পড়ে এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

‎এলাকাবাসীর দাবি, জলসুখার এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করা গেলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারত। তারা দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎এ বিষয়ে জলসুখা ইউনিয়ন ভূমি অফিস-এর উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. রাসেল মিয়া বলেন, ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, বৈঠকখানা ও ঘেটু নাট মন্দির বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় রয়েছে। ঝড়-তুফানে বৈঠকখানার চাল ভেঙে পড়ে আছে। জমিদার বাড়িটি তহসিল অফিসের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সংস্কারের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।

‎স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া না হলে জলসুখার এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো একসময় পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।