সিলেট ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
News Title :
মাদক দমনে পুলিশের বিশেষ উইং চান এমপি নাসের রহমান, তদবিরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিআইজি ‎কনজিউমার রাইটস-ভোক্তা অধিকার (সিআরবি) সিলেট বিভাগীয় কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন‎‎ হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক সুবিপ্রবির উপ উপাচার্য পদে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার ‎জামালপুরের নবাব রেস্টুরেন্টে মোবাইল কোর্টের অভিযান, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ‎অপপ্রচার ঠেকাতে শান্তিগঞ্জে প্রশাসনের উদ্যোগ, তথ্য যাচাইয়ে জোর হবিগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ৮ কেজি গাঁজাসহ দুজন গ্রেপ্তার‎ ‎জামালপুরে ট্রাকচাপায় সাবেক শ্রমিক নেতাসহ দুজন নিহত, আহত ১ ‎জাতীয় উশুতে স্বর্ণজয় চুনারুঘাটের শামছুর রহমান আনাছের, গর্বিত ইয়াং জেনারেশন উশু ফাইটার্স একাডেমি ‎সিলেটের বিদায়ী পুলিশ কমিশনারকে ওসমানী বিমানবন্দরে বিদায় সংবর্ধনা

মাদক দমনে পুলিশের বিশেষ উইং চান এমপি নাসের রহমান, তদবিরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিআইজি


‎মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ‘ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট’ উইং গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি মাদকাসক্ত তরুণদের শুধু শাস্তি না দিয়ে দ্রুত শনাক্ত করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

‎সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা পুলিশের আয়োজনে ‘নাগরিকবৃন্দের সঙ্গে মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎এম নাসের রহমান বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট উইং গঠন করা প্রয়োজন, যা সমন্বিতভাবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

‎তিনি বলেন, মাদকাসক্ত তরুণদের কেবল অপরাধী হিসেবে দেখলে চলবে না। তাদের দ্রুত শনাক্ত করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠাতে হবে, যাতে তারা সমাজ ও পরিবারের ক্ষতির কারণ হওয়ার আগেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

‎তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে মানসম্মত খেলার মাঠ থাকলে তরুণরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকবে। এতে মাদক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি কমবে এবং অপরাধপ্রবণতাও হ্রাস পাবে।


‎সীমান্ত দিয়ে ফেন্সিডিল প্রবেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এমপি বলেন, মাদক চোরাচালান রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়ে পুলিশি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করারও আহ্বান জানান তিনি।

‎সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদকসেবনকারীর পক্ষে কোনো ধরনের তদবির বরদাস্ত করা হবে না। কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের তদবির পেলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জানাতে হবে।

‎রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে।” অপরাধীকে রক্ষা করতে যারা তদবির করেন, তারাও সমান অপরাধী।

‎কিশোর গ্যাং দমনের বিষয়ে ডিআইজি বলেন, কোনো এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। অপরাধী স্থানীয় হোক বা বহিরাগত—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

‎সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম। এতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ুন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা অংশ নেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক দমনে পুলিশের বিশেষ উইং চান এমপি নাসের রহমান, তদবিরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিআইজি

মাদক দমনে পুলিশের বিশেষ উইং চান এমপি নাসের রহমান, তদবিরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিআইজি

সময় ১০:২০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬


‎মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ‘ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট’ উইং গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি মাদকাসক্ত তরুণদের শুধু শাস্তি না দিয়ে দ্রুত শনাক্ত করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

‎সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা পুলিশের আয়োজনে ‘নাগরিকবৃন্দের সঙ্গে মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎এম নাসের রহমান বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট উইং গঠন করা প্রয়োজন, যা সমন্বিতভাবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

‎তিনি বলেন, মাদকাসক্ত তরুণদের কেবল অপরাধী হিসেবে দেখলে চলবে না। তাদের দ্রুত শনাক্ত করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠাতে হবে, যাতে তারা সমাজ ও পরিবারের ক্ষতির কারণ হওয়ার আগেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

‎তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে মানসম্মত খেলার মাঠ থাকলে তরুণরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকবে। এতে মাদক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি কমবে এবং অপরাধপ্রবণতাও হ্রাস পাবে।


‎সীমান্ত দিয়ে ফেন্সিডিল প্রবেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এমপি বলেন, মাদক চোরাচালান রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়ে পুলিশি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করারও আহ্বান জানান তিনি।

‎সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদকসেবনকারীর পক্ষে কোনো ধরনের তদবির বরদাস্ত করা হবে না। কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের তদবির পেলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জানাতে হবে।

‎রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে।” অপরাধীকে রক্ষা করতে যারা তদবির করেন, তারাও সমান অপরাধী।

‎কিশোর গ্যাং দমনের বিষয়ে ডিআইজি বলেন, কোনো এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। অপরাধী স্থানীয় হোক বা বহিরাগত—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

‎সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম। এতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ুন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা অংশ নেন।