সিলেট ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
News Title :
দলিল নেই, তবুও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা পাতন বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ সম্পন্ন ‎সিলেটে হাইড্রোলিক হর্ন ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনে ১০ গাড়ির মালিককে জরিমানা নবীগঞ্জে আম গাছে থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার‎ ‘নেলসন ম্যান্ডেলা পিস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ পেলেন কাজী মোহাম্মদ জমিরুল ইসলাম মমতাজ‎ ‎৪৫০ শিক্ষার্থীর একমাত্র ভরসা গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়; পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস গ্রাম পুলিশের বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি জাতীয়করণের দাবি ‎শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভার অনুষ্ঠিত ‎সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৩ শ্রমিক দগ্ধ নবীগঞ্জে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করলেন পৌর প্রশাসক মো. রুহুল আমিন

‎৪৫০ শিক্ষার্থীর একমাত্র ভরসা গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়; পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস


‎সিলেটের সীমান্তবর্তী জাফলংয়ের উদয়ন গুচ্ছগ্রামে অবস্থিত যুবসমাজ পরিচালিত ‘গুচ্ছগ্রাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, অবকাঠামোগত সংকট ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। এবার বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ায় বিদ্যালয়টির সরকারীকরণের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।

‎মঙ্গলবার ২৮ জুলাই দুপুরে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। তিনি শ্রেণিকক্ষ, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক শিক্ষা পরিবেশ ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

‎পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এলাকায় আলোর দ্যুতি ছড়াচ্ছে গুচ্ছগ্রাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানকার শিশুদের শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং শিক্ষকদের আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে বিদ্যালয়টি অনন্য ভূমিকা পালন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।


‎জানা গেছে, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর গড়ে ওঠা উদয়ন গুচ্ছগ্রামে দীর্ঘদিন কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে স্থানীয় শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ২০১১ সালে এলাকার যুবসমাজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘গুচ্ছগ্রাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে দুটি জরাজীর্ণ টিনশেড কক্ষে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনা বেতনে লেখাপড়া করছে। মাত্র ৮ জন শিক্ষক নামমাত্র সম্মানী, আর অনেক সময় ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

‎অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষক সংকট ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর প্রাথমিক সমাপনী (পিএসসি), বৃত্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে। এখান থেকে লেখাপড়া শেষ করে অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অধ্যয়ন করছে। আবার অনেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির মাধ্যমে নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে আনছেন।

‎বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. করিম মাহমুদ লিমন বলেন, বিদ্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত জমি থাকলেও সরকারীকরণ না হওয়ায় একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত বেঞ্চ সরবরাহ, শিক্ষকদের সম্মানী এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পরও সরকারীকরণ না হওয়ায় বিদ্যালয়টি পিছিয়ে পড়ছে। এতে ভবিষ্যতে শত শত শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাতীয় স্বার্থে সীমান্তবর্তী এ বিদ্যালয়টি দ্রুত সরকারীকরণের জন্য সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ কামনা করছি।

‎বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার বলেন, পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নামমাত্র সম্মানীতে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই পাঠদান করে যাচ্ছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার মান ধরে রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সরকারীকরণ হলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্থায়ী ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

‎অভিভাবক প্রতিনিধি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, এই বিদ্যালয়টি না থাকলে আমাদের গ্রামের অনেক শিশু হয়তো কখনোই স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেত না। ভবন সংকট, বেঞ্চের অভাব ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। সরকার দ্রুত বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করলে সীমান্ত এলাকার হাজারো শিশুর ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ হবে।

‎স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চলের এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। বিভিন্ন সময় মন্ত্রী, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সফরের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। সর্বশেষ প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সরেজমিন পরিদর্শন ও সহযোগিতার আশ্বাসে বিদ্যালয়টির সরকারীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের বিশ্বাস, সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাফলংয়ের গুচ্ছগ্রাম, রসুলপুর, সোনাটিলা, রহমতপুর, বাবুলের জুম ও মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের হাজারো শ্রমজীবী পরিবারের সন্তানদের জন্য একটি স্থায়ী ও মানসম্মত শিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হবে।

‎এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুল আলিম, সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম সাইফুল হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নূর আলম, গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. ওমর ফারুকসহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দলিল নেই, তবুও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা

‎৪৫০ শিক্ষার্থীর একমাত্র ভরসা গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়; পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস

সময় ০৬:৩৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


‎সিলেটের সীমান্তবর্তী জাফলংয়ের উদয়ন গুচ্ছগ্রামে অবস্থিত যুবসমাজ পরিচালিত ‘গুচ্ছগ্রাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, অবকাঠামোগত সংকট ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। এবার বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ায় বিদ্যালয়টির সরকারীকরণের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।

‎মঙ্গলবার ২৮ জুলাই দুপুরে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। তিনি শ্রেণিকক্ষ, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক শিক্ষা পরিবেশ ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

‎পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এলাকায় আলোর দ্যুতি ছড়াচ্ছে গুচ্ছগ্রাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানকার শিশুদের শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং শিক্ষকদের আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে বিদ্যালয়টি অনন্য ভূমিকা পালন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।


‎জানা গেছে, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর গড়ে ওঠা উদয়ন গুচ্ছগ্রামে দীর্ঘদিন কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে স্থানীয় শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ২০১১ সালে এলাকার যুবসমাজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘গুচ্ছগ্রাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে দুটি জরাজীর্ণ টিনশেড কক্ষে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনা বেতনে লেখাপড়া করছে। মাত্র ৮ জন শিক্ষক নামমাত্র সম্মানী, আর অনেক সময় ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

‎অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষক সংকট ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর প্রাথমিক সমাপনী (পিএসসি), বৃত্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে। এখান থেকে লেখাপড়া শেষ করে অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অধ্যয়ন করছে। আবার অনেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির মাধ্যমে নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে আনছেন।

‎বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. করিম মাহমুদ লিমন বলেন, বিদ্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত জমি থাকলেও সরকারীকরণ না হওয়ায় একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত বেঞ্চ সরবরাহ, শিক্ষকদের সম্মানী এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পরও সরকারীকরণ না হওয়ায় বিদ্যালয়টি পিছিয়ে পড়ছে। এতে ভবিষ্যতে শত শত শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাতীয় স্বার্থে সীমান্তবর্তী এ বিদ্যালয়টি দ্রুত সরকারীকরণের জন্য সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ কামনা করছি।

‎বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার বলেন, পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নামমাত্র সম্মানীতে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই পাঠদান করে যাচ্ছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার মান ধরে রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সরকারীকরণ হলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্থায়ী ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

‎অভিভাবক প্রতিনিধি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, এই বিদ্যালয়টি না থাকলে আমাদের গ্রামের অনেক শিশু হয়তো কখনোই স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেত না। ভবন সংকট, বেঞ্চের অভাব ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। সরকার দ্রুত বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করলে সীমান্ত এলাকার হাজারো শিশুর ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ হবে।

‎স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চলের এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। বিভিন্ন সময় মন্ত্রী, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সফরের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। সর্বশেষ প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সরেজমিন পরিদর্শন ও সহযোগিতার আশ্বাসে বিদ্যালয়টির সরকারীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের বিশ্বাস, সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাফলংয়ের গুচ্ছগ্রাম, রসুলপুর, সোনাটিলা, রহমতপুর, বাবুলের জুম ও মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের হাজারো শ্রমজীবী পরিবারের সন্তানদের জন্য একটি স্থায়ী ও মানসম্মত শিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হবে।

‎এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুল আলিম, সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম সাইফুল হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নূর আলম, গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. ওমর ফারুকসহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।