
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ) এর সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ বলেছেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিগত ফ্যাসীবাদী সরকার লটারীর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার চরম ক্ষতিসাধন করেছে। আগামীতে দেশের ভালো স্কুলগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে পড়ালেখার সুযোগ পায় সরকার সেজন্য ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবীদের নির্বাচিত করার পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। স্কুলের ভালো ফলাফল নিশ্চিতে শিক্ষকদের আরও যত্নবান হতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকবে কিন্তু তাদের কাছে দলীয় লেজুরভিত্তিক রাজনীতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

গত ২৫ মার্চ বুধবার সকাল ১০ টায় হবিগঞ্জ শহরের যোগেন্দ্র কিশোর ও হরেন্দ্র কিশোর (জে কে এন্ড এইচ কে) হাইস্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও শিক্ষক শিক্ষার্থীর সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি একথাগুলো বলেন। স্কুল মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্কুলের শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় শায়েস্তানগর ও মোহনপুরের পঞ্চায়েতের সর্দারগণসহ এলাকার বিশিষ্ঠ ব্যক্তিরা অংশ নেন।
জে কে এন্ড এইচ কে হাইস্কুল এন্ড কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক এর সভাপতিত্বে ও স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব এম জি মাওলা। বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক শাহ মোঃ আবুল হাসান, শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব প্রাক্তন কাউন্সিলর সফিকুর রহমান সিতু, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ আব্দুস শহিদ মামুন, শায়েস্তানগরের পঞ্চায়েত সর্দার সহিদুর রহমান লাল, মোহনপুরের পঞ্চায়েত সর্দার মঈনুল ইসলাম, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার নূরুল ইসলাম, এম জি মোহিত, শফিকুল ইসলাম, প্রমূখ।

জে কে এন্ড এইচ কে হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হুইপ আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ এমপি আরও বলেন, জে কে এন্ড এইচ কে হাইস্কুলের ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। আগামীতে ফলাফল ভালো করতে হবে। আমি জে কে স্কুলকে এমন স্থানে দেখতে চাই যেখানে জেলার সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করবে। স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। স্কুলের সুমান বিনষ্ট হয় এমন কিছু বরদাশত করা হবে না। শিক্ষকদের আরও যত্নবান হতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রীকে এ স্কুলে যেকোনো সময় নিয়ে আসবো।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ৫ একর জায়গা নিয়ে জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হাইস্কুলটিকে একটি মহাপরিকল্পনার আওতায় এনে প্রতিথযশা কোনো স্থাপত্যবিদকে দিয়ে নকশা করে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এলোমেলো ভবন নির্মাণ করে স্কুলের সৌন্দর্য বিনষ্ট করা হয়েছে। স্কুলের খেলার মাঠ, পুকুর ও জলাশয় সংস্কার করতে হবে। স্কুলের শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সত্যিকারের শিক্ষানুরাগীদের নিয়ে স্কুলের পরিচালনা কমিটি গঠন করতে তিনি এলাকার সংসদ সদস্য হুইপ আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জে কে এন্ড এইচ কে হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ নির্বাচিত হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এছাড়া স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যাচের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। হুইপ আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ স্কুলে পৌঁছলে স্কাউট দল অভিবাদন জানান ও ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেন।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 



















