
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নে এই প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে পবিত্র কুরআনের হাফেজদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সেবামূলক ও অরাজনৈতিক সংগঠন আল মুহাসানাহ ছাত্র পরিষদ–এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘হিফজ সম্মাননা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান–২০২৬’ উপলক্ষে সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত হেমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্বনির্ধারিত নিবন্ধনের মাধ্যমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে অংশ নেওয়া ১৪০ জন কৃতি হাফেজকে অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এক মঞ্চে এত সংখ্যক হাফেজকে সংবর্ধনা দেওয়ার ঘটনা এ অঞ্চলে এটিই প্রথম বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু হাফেজদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত মুসল্লিদের “মাশাআল্লাহ”,“জাযাকাল্লাহ” ও “মারহাবা” ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ মাহদী হাসান শিবলী বলেন, এ ধরনের সময়োপযোগী আয়োজন আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। অনেক বড়রা যা করতে পারেননি, তা তরুণরা করে দেখিয়েছে। ভবিষ্যতে এ উদ্যোগকে আরও বৃহৎ পরিসরে নেওয়া হবে এবং আমরা সবসময় পাশে থাকবো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উস্তাজুল হুফফাজ মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক (দা.বা.), গোহাটা গোপালপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব নাজীর সিদ্দিক, জামিয়া নিজামিয়া মজিদপুরের মুহাদ্দিস মাওলানা জয়নুল আবেদীনসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-খতিব, মাদরাসার শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সংগঠনের সহ-সভাপতি নাঈম আহমেদ বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই তাদের পথচলার মূল শক্তি। তিনি ভবিষ্যতেও সমাজ কল্যাণমূলক ও দ্বীনি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মাসুদ পারভেজ ও সংগঠনের উপদেষ্টা মুফতি শরিফ বিন নূর সাজেদী। তারা তরুণদের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে বৃহত্তর পরিসরে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রোজ তালুকদার ভিপিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকদের ভাষ্য কুরআনের হাফেজদের সম্মানিত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দ্বীনি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। স্থানীয়দের মতে, এমন আয়োজন সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
মো: সাজিদ পিয়াল গোপালপুর, টাংগাইল 



















