
যশোরের বাঘারপাড়ায় ১০ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদকে (২০) সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। একই অভিযানে অপহৃত ওই স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (০২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮ টা ৫ মিনিটে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন শাহজালাল মাজার গেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল্লাহ ইফাদ হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার উত্তর বাজার এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, অপহৃত ভিকটিম যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানাধীন চণ্ডীপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভিকটিম বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। পরবর্তীতে জানা যায়, চণ্ডীপুর মাদ্রাসার মোড়ে পৌঁছামাত্র পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদ তার আরও ২-৩ জন সহযোগীকে নিয়ে ভিকটিমকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১৯, তারিখ: ২৬/০৭/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা: ৭/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, সংশোধনী-২০০৩)। ঘটনাটি জানার পর র্যাব আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সদর কোম্পানী (সিলেট)-র একটি চৌকস অভিযানিক দল সিলেট কোতোয়ালী থানাধীন শাহজালাল মাজার গেট এলাকায় সফল অভিযান পরিচালনা করে মূল আসামিকে গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বাঘারপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্টাফ রিপোর্টার 
















