সিলেট ০৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
হবিগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে বিয়ে, দুই সপ্তাহ পরই চুরি-মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হবিগঞ্জে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার বাড়ি থেকে নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার চুরি ‎পূর্ববিরোধের জেরে বানিয়াচংয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে জামালপুরে রোটারী ক্লাবের বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র‍্যালি ‎শুধু দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ নয়, গোটা জামালপুর আমার: জামালপুর সমিতির সংবর্ধনায় মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ‎মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন তিন সাংবাদিক, কুলাউড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা ‎৮ মাসে ৯১৩ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ: জুড়ীতে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাফল্যের তথ্য জানালো ৫২ বিজিবি বালাগঞ্জে দিনব্যাপী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে সিলেটের জেলা প্রশাসক ওসমানীনগরে সাবেক মেম্বার আতিক হত্যা: বিশ্বনাথ থেকে এজাহারনামীয় আসামি গ্রেফতার করল এসআরবি-৯ ‎নবীগঞ্জে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনও সুলতানা জেরিন এর মতবিনিময়

মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই ক্লোজ!


সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক (ফাইল ছবি)

‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় এবং তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিককে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজ) করা হয়েছে।

‎পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে (স্মারক নং-২১৭৮/আরও) এ প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়। শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওবায়দুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর উপজেলার সরকার বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রকাশ্যে গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। একাধিকবার পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর অভিযান হয়নি। বরং অভিযুক্তরা পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই পুনরায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই সরকার বাজার এলাকায় মজনু মিয়া নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে স্থানীয় বাসিন্দারা হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পরে খবর পেয়ে মৌলভীবাজার সদর থানার একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে থানায় নিয়ে যায়।

‎প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ঘটনাস্থলেই উপস্থিত জনতা পুলিশের সামনে এএসআই শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ ওঠার পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়।

‎তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই শফিকুল ইসলাম শফিক। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, সোহাগ নামের এক ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ছড়াচ্ছেন। তার এক ভাইকে পূর্বে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

‎এদিকে স্থানীয়দের দাবি, কেবল একজন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সরকার বাজার ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চক্র, তাদের পৃষ্ঠপোষক এবং অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের মতে, অন্যথায় প্রশাসনিক বদলি হলেও মাদক বাণিজ্যের মূল নেটওয়ার্ক অক্ষত থেকে যাবে।

‎পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এএসআই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে বিয়ে, দুই সপ্তাহ পরই চুরি-মাদক মামলায় গ্রেপ্তার

মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই ক্লোজ!

সময় ১০:০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬


সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক (ফাইল ছবি)

‎মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় এবং তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিককে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজ) করা হয়েছে।

‎পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে (স্মারক নং-২১৭৮/আরও) এ প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়। শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওবায়দুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর উপজেলার সরকার বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রকাশ্যে গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। একাধিকবার পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর অভিযান হয়নি। বরং অভিযুক্তরা পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই পুনরায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই সরকার বাজার এলাকায় মজনু মিয়া নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে স্থানীয় বাসিন্দারা হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পরে খবর পেয়ে মৌলভীবাজার সদর থানার একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে থানায় নিয়ে যায়।

‎প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ঘটনাস্থলেই উপস্থিত জনতা পুলিশের সামনে এএসআই শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ ওঠার পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়।

‎তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই শফিকুল ইসলাম শফিক। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, সোহাগ নামের এক ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ছড়াচ্ছেন। তার এক ভাইকে পূর্বে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

‎এদিকে স্থানীয়দের দাবি, কেবল একজন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সরকার বাজার ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চক্র, তাদের পৃষ্ঠপোষক এবং অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের মতে, অন্যথায় প্রশাসনিক বদলি হলেও মাদক বাণিজ্যের মূল নেটওয়ার্ক অক্ষত থেকে যাবে।

‎পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এএসআই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।