
সুনামগঞ্জের ছাতকে পারিবারিক বিরোধের জেরে আলোচিত ‘আছিয়া বেগম’ হত্যা মামলার প্রধান ও এজাহারনামীয় এক নম্বর পলাতক আসামি হাফিজুর রহমান (৩০)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত ২৭ জুন ২০২৬ খ্রি. তারিখ রাত আনুমানিক ৯:৩০ মিনিটে র্যাব-৯ এবং র্যাব-৬ এর একটি যৌথ দল যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত হাফিজুর রহমান সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার বনগাঁও এলাকার মোঃ নূর মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, নিহত আছিয়া বেগম সুনামগঞ্জের ছাতক থানার বনগাঁও এলাকার বাসিন্দা। ভিকটিম ও বিবাদীরা পরস্পর আত্মীয়। আছিয়া বেগমের মেয়ের জামাই প্রবাসী হওয়ায় প্রায়ই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়েকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া ও মারধর করত। ঘটনার কয়েকদিন আগেও মেয়েটিকে নির্যাতন করা হয়।
এই পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ৭ জুন সকালে একটি স্থানীয় সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সালিশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি আছিয়া বেগম এবং তার স্বামীও উপস্থিত ছিলেন।
সালিশ বৈঠক শেষে আছিয়া বেগম ও তার স্বামী নিজ বাড়িতে ফেরার পথে বিবাদী নূর মিয়ার বাড়ির দক্ষিণ পাশে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। নূর মিয়ার হুকুমে অন্য বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (রামদা, লোহার রড, শাবল, সুলফি, লাঠি, ইট ইত্যাদি) নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক সন্ধ্যা ৭:৫০ মিনিটে আছিয়া বেগম মৃত্যুবরণ করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহত আছিয়া বেগমের স্বামী বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৮, তারিখ-১১/০৬/২০২৬ খ্রি.)। মামলার পর থেকেই আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর থেকে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের চলমান অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 


















