সিলেট ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
গোলাপগঞ্জে ২১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২, নগদ টাকা উদ্ধার ‎জৈন্তাপুর সীমান্তে ওয়াচ টাওয়ারে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ‎জামালপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত লাখাইয়ে নতুন ইউএনও তারেক হাসান, এর যোগদান ‎বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বানিয়াচংয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালী। ইয়াবা সেবনের দায়ে বাহুবলে এক ব্যক্তির ৬ মাসের কারাদণ্ড ‎স্পেনে বাইসাইকেল গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশীর তরুণে মৃত্যু বানিয়াচং জনাব আলী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক অনুপ রায় এর অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা ‎মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু: বানিয়াচংয়ের বিদায়ী ইউএনও কে সংবর্ধনা প্রদান। ‎গোয়াইনঘাটে নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

‎র‍্যাবের অভিযানে আছিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি হাফিজুর যশোর থেকে গ্রেফতার



‎সুনামগঞ্জের ছাতকে পারিবারিক বিরোধের জেরে আলোচিত ‘আছিয়া বেগম’ হত্যা মামলার প্রধান ও এজাহারনামীয় এক নম্বর পলাতক আসামি হাফিজুর রহমান (৩০)-কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গত ২৭ জুন ২০২৬ খ্রি. তারিখ রাত আনুমানিক ৯:৩০ মিনিটে র‍্যাব-৯ এবং র‍্যাব-৬ এর একটি যৌথ দল যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
‎গ্রেফতারকৃত হাফিজুর রহমান সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার বনগাঁও এলাকার মোঃ নূর মিয়ার ছেলে।

‎র‍্যাব জানায়, নিহত আছিয়া বেগম সুনামগঞ্জের ছাতক থানার বনগাঁও এলাকার বাসিন্দা। ভিকটিম ও বিবাদীরা পরস্পর আত্মীয়। আছিয়া বেগমের মেয়ের জামাই প্রবাসী হওয়ায় প্রায়ই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়েকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া ও মারধর করত। ঘটনার কয়েকদিন আগেও মেয়েটিকে নির্যাতন করা হয়।
‎এই পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ৭ জুন সকালে একটি স্থানীয় সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সালিশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি আছিয়া বেগম এবং তার স্বামীও উপস্থিত ছিলেন।

‎সালিশ বৈঠক শেষে আছিয়া বেগম ও তার স্বামী নিজ বাড়িতে ফেরার পথে বিবাদী নূর মিয়ার বাড়ির দক্ষিণ পাশে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। নূর মিয়ার হুকুমে অন্য বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (রামদা, লোহার রড, শাবল, সুলফি, লাঠি, ইট ইত্যাদি) নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়।
‎পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক সন্ধ্যা ৭:৫০ মিনিটে আছিয়া বেগম মৃত্যুবরণ করেন।

‎এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহত আছিয়া বেগমের স্বামী বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৮, তারিখ-১১/০৬/২০২৬ খ্রি.)। মামলার পর থেকেই আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর থেকে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাবের চলমান অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

গোলাপগঞ্জে ২১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২, নগদ টাকা উদ্ধার

‎র‍্যাবের অভিযানে আছিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি হাফিজুর যশোর থেকে গ্রেফতার

সময় ১২:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬



‎সুনামগঞ্জের ছাতকে পারিবারিক বিরোধের জেরে আলোচিত ‘আছিয়া বেগম’ হত্যা মামলার প্রধান ও এজাহারনামীয় এক নম্বর পলাতক আসামি হাফিজুর রহমান (৩০)-কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গত ২৭ জুন ২০২৬ খ্রি. তারিখ রাত আনুমানিক ৯:৩০ মিনিটে র‍্যাব-৯ এবং র‍্যাব-৬ এর একটি যৌথ দল যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
‎গ্রেফতারকৃত হাফিজুর রহমান সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার বনগাঁও এলাকার মোঃ নূর মিয়ার ছেলে।

‎র‍্যাব জানায়, নিহত আছিয়া বেগম সুনামগঞ্জের ছাতক থানার বনগাঁও এলাকার বাসিন্দা। ভিকটিম ও বিবাদীরা পরস্পর আত্মীয়। আছিয়া বেগমের মেয়ের জামাই প্রবাসী হওয়ায় প্রায়ই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়েকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া ও মারধর করত। ঘটনার কয়েকদিন আগেও মেয়েটিকে নির্যাতন করা হয়।
‎এই পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ৭ জুন সকালে একটি স্থানীয় সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সালিশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি আছিয়া বেগম এবং তার স্বামীও উপস্থিত ছিলেন।

‎সালিশ বৈঠক শেষে আছিয়া বেগম ও তার স্বামী নিজ বাড়িতে ফেরার পথে বিবাদী নূর মিয়ার বাড়ির দক্ষিণ পাশে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। নূর মিয়ার হুকুমে অন্য বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (রামদা, লোহার রড, শাবল, সুলফি, লাঠি, ইট ইত্যাদি) নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়।
‎পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক সন্ধ্যা ৭:৫০ মিনিটে আছিয়া বেগম মৃত্যুবরণ করেন।

‎এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহত আছিয়া বেগমের স্বামী বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৮, তারিখ-১১/০৬/২০২৬ খ্রি.)। মামলার পর থেকেই আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর থেকে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাবের চলমান অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।