সিলেট ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
News Title :
বকশীগঞ্জ খাদ্য গুদামে জলাবদ্ধতা: জলাবদ্ধতায় নাকাল শ্রমিক ও কর্মকর্তা ‎সিলেটে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ২ হোটেল সিলগালা, নারীসহ আটক ৬‎ ‎জামালপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজন শ্রীমঙ্গলে পর্দা নামলো তিন দিনব্যাপী হারমোনি ফেস্টিভ্যালের জমকালো আয়োজন পুলিশ-গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগে অপরাধ দমনের প্রত্যয় মধুপুরে মোবাইল কোর্টের অভিযানে ৩  মাদকসেবীকে কারাদণ্ড ও জরিমানা নারী নির্যাতন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মৌলভীবাজারে উঠান বৈঠক ‎শান্তিগঞ্জে জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা প্রদান ‎শান্তিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত ‎জামালপুরে জেসমিন (GESMIN) প্রকল্পের মিড-টার্ম রেজাল্ট শেয়ারিং এবং মোড়ক উন্মোচন কর্মশালা অনুষ্ঠিত
‎ছাতকে ডিজিটাল ভূমি জরিপ....

‎দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ২১ মৌজার মাট জরিপ কাজ।

ছাতকের বড়টিকা মৌজায় ডিজিটাল জরিপ কাজ পরিদর্শন করেন সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার গোলাম মোস্তফা লিটন সহ কর্মকর্তাবৃন্দ




‎সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় বহুল প্রতীক্ষিত ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলার ১৪১টি মৌজায় এই আধুনিক জরিপ পরিচালনার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে চলতি অর্থ বছরে আগাম বন্যা, হাওরাঞ্চলের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং মাঠপর্যায়ের নানা সংকটের কারণে জরিপ কাজের অগ্রগতি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে

‎সেটেলমেন্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে উপজেলার ২১টি মৌজায় ইলেকট্রনিক টোটাল স্টেশন (ইটিএস) এর মাধ্যমেে ডিজিটাল জরিপ কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

‎চলতি মৌসুমে আকস্মিক ও আগাম বন্যার কারণে উপজেলার অধিকাংশ মৌজার কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে। ২১টি মৌজার মধ্যে মাত্র ৪টি মৌজার ডিজিটাল জরিপের মাঠ নকশা (ম্যাপ) তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। তবে এই ৪টি মৌজায় ‘খানাপুরী কাম বুঝারত’ (মালিকানা যাচাই ও খতিয়ান প্রস্তুত) কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।

‎এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার গোলাম মোস্তফা লিটন জানান, ‎আমাদের প্রস্তুতি ছিল ৪টি মৌজার খানাপুরী কাম বুঝারত কাজ সম্পন্ন করার। কিন্তু মৌজাগুলো হাওরাঞ্চলে এবং নিচু এলাকায় হওয়ায় আগাম বন্যার পানিতে জমি তলিয়ে গেছে। ফলে কাজগুলো আপাতত শেষ করা যায়নি।

‎তিনি আরও জানান, বর্তমানে উপজেলার ভাতগাঁও ও দুলারবাজার—এই দুটি ইউনিয়নে ডিজিটাল জরিপের কাজ চলছে। অন্যান্য মৌজার কিস্তোয়ার (ভূখণ্ড পরিমাপ) কাজ চলমান থাকলেও পানি উঠে যাওয়ায় মাঠপর্যায়ের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে এর মধ্যেই ৭টি মৌজার কাজ সমাপ্তির পথে রয়েছে।

‎জরিপ কার্যক্রমের শুরুতে তীব্র জনবল সংকট থাকায় কাজের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। তবে পরবর্তীতে মৌসুমি কর্মচারী হিসেবে সার্ভে সহায়ক, সরদার আমিন, বদর আমিন ও চেইনম্যান নিয়োগ দেওয়ায় কাজে কিছুটা গতি ফিরেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

‎সিলেট বিভাগে ১৯৮৭-৮৮ সালে প্রথম ম্যানুয়াল (সনাতন) পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ কাজ শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৯ বছর ধরে চলমান এই প্রক্রিয়ায় বিভাগের ৫ হাজার ৪৫৭টি মৌজার কাজ ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। তবে এখনো ৬৪টি মৌজার কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

‎জরিপ সংশ্লিষ্টরা জানান, কিছু মৌজার খতিয়ান পাবলিকেশন (প্রকাশ) হওয়ার পরও উচ্চ আদালতে রিট মামলা থাকার কারণে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি ‘সিলেট মিউনিসিপালিটি’ মৌজার সমস্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি রিট মামলার দরুন চূড়ান্ত প্রিন্টিং বা ছাপানোর কাজে হাত দিতে পারছে না জরিপ কর্তৃপক্ষ।

‎ডিজিটাল জরিপ শুরুর প্রথম দিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ এটিকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়নি, কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে সনাতন বা ম্যানুয়াল জরিপ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত ছিল। তবে মাঠে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভূমি মালিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতন করায় এখন চিত্র বদলেছে। সাধারণ মানুষ এখন ডিজিটাল জরিপের সুফল বুঝতে পেরে এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। কর্মকর্তারা ভূমি মালিকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, এই পদ্ধতিতে কোনো ভুল বা জালিয়াতির সুযোগ নেই এবং এটি সম্পূর্ণ নির্ভুল।

‎তবে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে কর্মরত কর্মকর্তা ও জরিপ দলের সদস্যরা আবাসন সমস্যা এবং যাতায়াতের চরম প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। হাওরাঞ্চলের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ডিজিটাল যন্ত্রপাতি নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

‎ডিজিটাল জরিপের সার্বিক বিষয়ে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সোনিয়া সুলতানা জানান, শুরুর দিকে আমাদের জনবল সংকট ছিল এবং পরবর্তীতে আগাম বন্যার কারণে মাঠপর্যায়ের কাজের অগ্রগতি কিছুটা কম হয়েছে। তবে ডিজিটাল জরিপ সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সঠিক। এই জরিপ সম্পন্ন হলে ভূমি মালিকগণ তাদের জমির সঠিক মালিকানা পাবেন এবং দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধের অবসান ঘটবে।

‎সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বন্যার পানি নেমে গেলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে আসলে ছাতকের ডিজিটাল জরিপ কাজ আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস থেকে পুরোদমে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বকশীগঞ্জ খাদ্য গুদামে জলাবদ্ধতা: জলাবদ্ধতায় নাকাল শ্রমিক ও কর্মকর্তা

‎ছাতকে ডিজিটাল ভূমি জরিপ....

‎দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ২১ মৌজার মাট জরিপ কাজ।

সময় ০৩:১৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ছাতকের বড়টিকা মৌজায় ডিজিটাল জরিপ কাজ পরিদর্শন করেন সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার গোলাম মোস্তফা লিটন সহ কর্মকর্তাবৃন্দ




‎সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় বহুল প্রতীক্ষিত ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলার ১৪১টি মৌজায় এই আধুনিক জরিপ পরিচালনার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে চলতি অর্থ বছরে আগাম বন্যা, হাওরাঞ্চলের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং মাঠপর্যায়ের নানা সংকটের কারণে জরিপ কাজের অগ্রগতি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে

‎সেটেলমেন্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে উপজেলার ২১টি মৌজায় ইলেকট্রনিক টোটাল স্টেশন (ইটিএস) এর মাধ্যমেে ডিজিটাল জরিপ কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

‎চলতি মৌসুমে আকস্মিক ও আগাম বন্যার কারণে উপজেলার অধিকাংশ মৌজার কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে। ২১টি মৌজার মধ্যে মাত্র ৪টি মৌজার ডিজিটাল জরিপের মাঠ নকশা (ম্যাপ) তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। তবে এই ৪টি মৌজায় ‘খানাপুরী কাম বুঝারত’ (মালিকানা যাচাই ও খতিয়ান প্রস্তুত) কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।

‎এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার গোলাম মোস্তফা লিটন জানান, ‎আমাদের প্রস্তুতি ছিল ৪টি মৌজার খানাপুরী কাম বুঝারত কাজ সম্পন্ন করার। কিন্তু মৌজাগুলো হাওরাঞ্চলে এবং নিচু এলাকায় হওয়ায় আগাম বন্যার পানিতে জমি তলিয়ে গেছে। ফলে কাজগুলো আপাতত শেষ করা যায়নি।

‎তিনি আরও জানান, বর্তমানে উপজেলার ভাতগাঁও ও দুলারবাজার—এই দুটি ইউনিয়নে ডিজিটাল জরিপের কাজ চলছে। অন্যান্য মৌজার কিস্তোয়ার (ভূখণ্ড পরিমাপ) কাজ চলমান থাকলেও পানি উঠে যাওয়ায় মাঠপর্যায়ের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে এর মধ্যেই ৭টি মৌজার কাজ সমাপ্তির পথে রয়েছে।

‎জরিপ কার্যক্রমের শুরুতে তীব্র জনবল সংকট থাকায় কাজের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। তবে পরবর্তীতে মৌসুমি কর্মচারী হিসেবে সার্ভে সহায়ক, সরদার আমিন, বদর আমিন ও চেইনম্যান নিয়োগ দেওয়ায় কাজে কিছুটা গতি ফিরেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

‎সিলেট বিভাগে ১৯৮৭-৮৮ সালে প্রথম ম্যানুয়াল (সনাতন) পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ কাজ শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৯ বছর ধরে চলমান এই প্রক্রিয়ায় বিভাগের ৫ হাজার ৪৫৭টি মৌজার কাজ ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। তবে এখনো ৬৪টি মৌজার কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

‎জরিপ সংশ্লিষ্টরা জানান, কিছু মৌজার খতিয়ান পাবলিকেশন (প্রকাশ) হওয়ার পরও উচ্চ আদালতে রিট মামলা থাকার কারণে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি ‘সিলেট মিউনিসিপালিটি’ মৌজার সমস্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি রিট মামলার দরুন চূড়ান্ত প্রিন্টিং বা ছাপানোর কাজে হাত দিতে পারছে না জরিপ কর্তৃপক্ষ।

‎ডিজিটাল জরিপ শুরুর প্রথম দিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ এটিকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়নি, কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে সনাতন বা ম্যানুয়াল জরিপ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত ছিল। তবে মাঠে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভূমি মালিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতন করায় এখন চিত্র বদলেছে। সাধারণ মানুষ এখন ডিজিটাল জরিপের সুফল বুঝতে পেরে এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। কর্মকর্তারা ভূমি মালিকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, এই পদ্ধতিতে কোনো ভুল বা জালিয়াতির সুযোগ নেই এবং এটি সম্পূর্ণ নির্ভুল।

‎তবে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে কর্মরত কর্মকর্তা ও জরিপ দলের সদস্যরা আবাসন সমস্যা এবং যাতায়াতের চরম প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। হাওরাঞ্চলের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ডিজিটাল যন্ত্রপাতি নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

‎ডিজিটাল জরিপের সার্বিক বিষয়ে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সোনিয়া সুলতানা জানান, শুরুর দিকে আমাদের জনবল সংকট ছিল এবং পরবর্তীতে আগাম বন্যার কারণে মাঠপর্যায়ের কাজের অগ্রগতি কিছুটা কম হয়েছে। তবে ডিজিটাল জরিপ সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সঠিক। এই জরিপ সম্পন্ন হলে ভূমি মালিকগণ তাদের জমির সঠিক মালিকানা পাবেন এবং দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধের অবসান ঘটবে।

‎সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বন্যার পানি নেমে গেলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে আসলে ছাতকের ডিজিটাল জরিপ কাজ আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস থেকে পুরোদমে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।