
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক গ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাচ্চু মিয়া (৭৯) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার (১৯ জুন) হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহতের পরিবারের দাবি—পূর্বের মারামারির আঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও স্থানীয়দের দাবি—হার্টের সমস্যা গোপন করে ভুল চিকিৎসা দেওয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত বাচ্চু মিয়া উপজেলার করাব ইউনিয়নের সিংহগ্রামের মৃত কাছন আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুড়িয়াউক গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত ২ জুন মুড়িয়াউক গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই মারামারিতে বাচ্চু মিয়া গুরুতর আহত হন এবং সেই আঘাতের কারণেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয় একটি সূত্রের মতে, বার্ধক্যজনিত কারণে কিংবা হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এই বিষয়ে লাখাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলাম জানান, গত ২ জুনের মারামারির পর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁরা বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। গত ১৪ জুন (রবিবার) মুড়িয়াউক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ-বিচার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি নিজেই সভাপতিত্ব করেন।
তিনি জানান বিচারে বাচ্চু মিয়ার পক্ষের ২০ হাজার টাকা এবং অপরপক্ষ বাবুল মিয়ার পক্ষের ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হয়। যারা বাচ্চু মিয়াকে আঘাত করেছিল, তারা বিচারে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলে বাচ্চু মিয়া খুশি মনে তা মেনে নেন। এমনকি ঘটনার আগের দিন (১৮ জুন, বৃহস্পতিবার) বাচ্চু মিয়া তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে বুল্লা বাজারে গিয়ে কাঁঠালও কিনেছেন।
অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলাম আরও দাবি করেন ১৮ জুন রাত ৮টার দিকে বাচ্চু মিয়া অসুস্থ হলে তাঁকে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালের সাধারণ খাতায় মারামারির কোনো উল্লেখ (অ্যাসাল্ট) ছিল না। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর বুকে ব্যথা ছিল এবং অক্সিজেন লেভেল ৮০-এর নিচে নেমে গিয়েছিল।
হাসপাতালের আরএমও ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, এটি মূলত কার্ডিও বা হার্টের সমস্যা ছিল, যার ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত আছে বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান বাচ্চু মিয়ার আত্মীয়রা তাঁকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে হার্টের সমস্যার কথা গোপন করেন এবং পূর্বের মারামারির কথা বলে ‘অ্যাসাল্ট’ লিখিয়ে ভর্তি করান। ফলে তাঁর হার্টের কোনো চিকিৎসা হয়নি। মূলত ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং এর জন্য তাঁর আত্মীয়রাই দায়ী।
দীর্ঘ ২৬ বছর ওকালতির অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন,বিচারের সময় বাচ্চু মিয়ার শুধু হাতে আঘাত দেখেছি, অন্য কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। হাতের এমন সামান্য আঘাতে কেউ মৃত্যুবরণ করতে পারে বলে আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। মামলা দায়ের হলে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লাখাই প্রতিনিধি। 


















