সিলেট ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
News Title :
‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বহু জ্ঞানী পণ্ডিতদের জন্ম দিয়েছে, এখন উদ্ভাবকদেরকেও জন্ম দিতে হবে।’ জিনবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও ওরিয়েন্টেশন উদযাপন ‎মৌলভীবাজারে মহিষ ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত সর্দারসহ গ্রেপ্তার ৫ ‎মাধবপুরে কাভার্ড ভ্যানসহ ১ কোটি ৮ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা ও মেহেদি জব্দ বালাগঞ্জে চাচা হত্যা মামলার ৩ আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ‎জামালপুরে দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’- পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ‎বড়লেখায় বাংলা কিউআর সম্প্রসারণ বিষয়ক সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত। মৌলভীবাজারে সাবেক এমপির ছেলে ও যুবলীগ নেতা নিক্সন গ্রেপ্তার‎ হবিগঞ্জে বসতবাড়ি থেকে ১৩৭টি বিষধর সাপ উদ্ধার, নিরাপদে অবমুক্তির প্রস্তুতি বন বিভাগের সিনেমাটিক স্টাইলে ছদ্মবেশে মাহফিলে অংশ নিলেন তাহেরী

‎মৌলভীবাজারে ৩০ লাখ টাকার ভারতীয় লজেন্স ও কসমেটিক জব্দ!


‎মৌলভীবাজারে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে সীমান্ত পথে ভারতীয় চোরাচালানের পণ্য। এবার মুরগির খাঁচার নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা হচ্ছিল প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় লজেন্স ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক সামগ্রী। পুলিশের অভিযানে এসব পণ্য জব্দ হলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন—এ ধরনের চালান কি শুধু একটি, নাকি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে বড় কোনো সিন্ডিকেট?

শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের ইসলামপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান আটক করে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ। পরে তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে অভিনব কৌশলে লুকানো বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য।

‎মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুমন চন্দ্র সরকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পিকআপ ভ্যানটি আটক করা হয়। গাড়িটি সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকা থেকে পণ্য নিয়ে মৌলভীবাজার শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসে বুকিং দিতে আসছিল।

পুলিশ জানায়, গাড়িতে উপরে রাখা ছিল মুরগির খাঁচা। নিচে গোপন স্থানে রাখা হয় ভারতীয় লজেন্স, ফেইসক্রিম, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন কসমেটিক সামগ্রী। প্রাথমিকভাবে জব্দকৃত পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিলেট অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকা বিশেষ করে জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ হয়ে ছোট ছোট চালানে নিয়মিত ভারতীয় পণ্য দেশে প্রবেশ করছে। পরে সেগুলো কুরিয়ার, পিকআপ বা যাত্রীবাহী যানবাহনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

‎জানা গেছে, চোরাকারবারিরা এখন আর একসঙ্গে বড় চালান পরিবহন করছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা ব্যবহার করছে মুরগির খাঁচা, সবজির ঝুড়ি কিংবা মাছ পরিবহনের গাড়ি। এতে বাহ্যিকভাবে গাড়িগুলো সাধারণ পণ্যবাহী মনে হলেও ভেতরে থাকে কোটি টাকার অবৈধ মালামাল।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধভাবে আসা ভারতীয় কসমেটিক ও খাদ্যপণ্য বাজার দখল করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বৈধ আমদানিকারক ও দেশীয় ব্যবসায়ীরা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য বাজারে আসায় সরকারও হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জব্দ হওয়া পণ্য মৌলভীবাজার শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অন্যত্র পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চোরাই পণ্য পরিবহনে কুরিয়ার নেটওয়ার্ক ব্যবহার নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

‎এ ঘটনায় গাড়িচালককে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে চোরাচালান চক্রের অন্য সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালান আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার না হলে এ ধরনের চোরাচালান বন্ধ করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে চোরাই পণ্য বিপণনে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে।


ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বহু জ্ঞানী পণ্ডিতদের জন্ম দিয়েছে, এখন উদ্ভাবকদেরকেও জন্ম দিতে হবে।’ জিনবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী

‎মৌলভীবাজারে ৩০ লাখ টাকার ভারতীয় লজেন্স ও কসমেটিক জব্দ!

সময় ০৬:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬


‎মৌলভীবাজারে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে সীমান্ত পথে ভারতীয় চোরাচালানের পণ্য। এবার মুরগির খাঁচার নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা হচ্ছিল প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় লজেন্স ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক সামগ্রী। পুলিশের অভিযানে এসব পণ্য জব্দ হলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন—এ ধরনের চালান কি শুধু একটি, নাকি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে বড় কোনো সিন্ডিকেট?

শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের ইসলামপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান আটক করে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ। পরে তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে অভিনব কৌশলে লুকানো বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য।

‎মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুমন চন্দ্র সরকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পিকআপ ভ্যানটি আটক করা হয়। গাড়িটি সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকা থেকে পণ্য নিয়ে মৌলভীবাজার শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসে বুকিং দিতে আসছিল।

পুলিশ জানায়, গাড়িতে উপরে রাখা ছিল মুরগির খাঁচা। নিচে গোপন স্থানে রাখা হয় ভারতীয় লজেন্স, ফেইসক্রিম, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন কসমেটিক সামগ্রী। প্রাথমিকভাবে জব্দকৃত পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিলেট অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকা বিশেষ করে জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ হয়ে ছোট ছোট চালানে নিয়মিত ভারতীয় পণ্য দেশে প্রবেশ করছে। পরে সেগুলো কুরিয়ার, পিকআপ বা যাত্রীবাহী যানবাহনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

‎জানা গেছে, চোরাকারবারিরা এখন আর একসঙ্গে বড় চালান পরিবহন করছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা ব্যবহার করছে মুরগির খাঁচা, সবজির ঝুড়ি কিংবা মাছ পরিবহনের গাড়ি। এতে বাহ্যিকভাবে গাড়িগুলো সাধারণ পণ্যবাহী মনে হলেও ভেতরে থাকে কোটি টাকার অবৈধ মালামাল।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধভাবে আসা ভারতীয় কসমেটিক ও খাদ্যপণ্য বাজার দখল করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বৈধ আমদানিকারক ও দেশীয় ব্যবসায়ীরা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য বাজারে আসায় সরকারও হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জব্দ হওয়া পণ্য মৌলভীবাজার শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অন্যত্র পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চোরাই পণ্য পরিবহনে কুরিয়ার নেটওয়ার্ক ব্যবহার নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

‎এ ঘটনায় গাড়িচালককে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে চোরাচালান চক্রের অন্য সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালান আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার না হলে এ ধরনের চোরাচালান বন্ধ করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে চোরাই পণ্য বিপণনে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে।