সিলেট ০৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
News Title :
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও ওরিয়েন্টেশন উদযাপন ‎মৌলভীবাজারে মহিষ ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত সর্দারসহ গ্রেপ্তার ৫ ‎মাধবপুরে কাভার্ড ভ্যানসহ ১ কোটি ৮ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা ও মেহেদি জব্দ বালাগঞ্জে চাচা হত্যা মামলার ৩ আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ‎জামালপুরে দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’- পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ‎বড়লেখায় বাংলা কিউআর সম্প্রসারণ বিষয়ক সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত। মৌলভীবাজারে সাবেক এমপির ছেলে ও যুবলীগ নেতা নিক্সন গ্রেপ্তার‎ হবিগঞ্জে বসতবাড়ি থেকে ১৩৭টি বিষধর সাপ উদ্ধার, নিরাপদে অবমুক্তির প্রস্তুতি বন বিভাগের সিনেমাটিক স্টাইলে ছদ্মবেশে মাহফিলে অংশ নিলেন তাহেরী ওসমানীনগরে প্রেমিকার বাবার ছুরিকাঘাতে প্রেমিক নিহত, চার মাসের প্রেমের সম্পর্কের করুণ পরিণতি

‎মৌলভীবাজারে মহিষ ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত সর্দারসহ গ্রেপ্তার ৫

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রায়শ্রী এলাকায় চারটি মহিষসহ পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ও লুট হওয়া পিকআপটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
‎
‎গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মেহেদী হাসান মুন্না (২৬), জুমন মিয়া (২৬), নজরুল ইসলাম (২৬), রাহেল মিয়া (২৩) ও সম্রাট মিয়া (২৮)। তাঁরা সবাই মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
‎
‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ৬ নম্বর একাটুনা ইউনিয়নের রায়শ্রী এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বাসিন্দা মো. শহীদ মিয়া (৪২) কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার থেকে চারটি মহিষ কিনে পিকআপযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল ডাকাত পিকআপটির গতিরোধ করে। পরে নিজেদের পুলিশের পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
‎
‎এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শহীদ মিয়া মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে মামলা রুজু হয়। মামলাটি ১৯ অক্টোবর থানার মামলা নম্বর-২৪ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
‎
‎মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে মৌলভীবাজার পৌরসভার মনু ব্যারেজ এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া খালি পিকআপটি উদ্ধার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর সদর মডেল থানা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাউরঘড়িয়া (চানগাঁও) এলাকার মেহেদী হাসান মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দলের অন্য সদস্য নজরুল ইসলাম, রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়াকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
‎
‎প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, জুমন মিয়ার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্ন সময়ে গাড়ি, গরু-মহিষসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করত। ঘটনার দিন তিনটি মোটরসাইকেলে করে মহিষবাহী পিকআপটির পিছু নেয় তারা। পরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে গাড়িটি থামিয়ে চালক ও মালিককে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি নিয়ে যায়। এরপর বালিয়াকান্দি খেয়াঘাটসংলগ্ন একটি জঙ্গলে মহিষগুলো রেখে পরদিন সিলেটে নিয়ে বিক্রি করে। বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে তদন্তে জানা গেছে।
‎
‎গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়া ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।
‎
‎মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
‎
‎অভিযানে সদর মডেল থানার এসআই রিপটন পুরকায়স্থ, এসআই আশরাফুল আলম চৌধুরী, এসআই জয়ন্ত সরকার, এসআই আবু সাঈদ মোহাম্মদ তৌহিদ ও এএসআই রানা মিয়াসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল অংশ নেয়।
‎
‎এ ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও ওরিয়েন্টেশন উদযাপন

‎মৌলভীবাজারে মহিষ ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত সর্দারসহ গ্রেপ্তার ৫

সময় ০৮:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রায়শ্রী এলাকায় চারটি মহিষসহ পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ও লুট হওয়া পিকআপটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
‎
‎গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মেহেদী হাসান মুন্না (২৬), জুমন মিয়া (২৬), নজরুল ইসলাম (২৬), রাহেল মিয়া (২৩) ও সম্রাট মিয়া (২৮)। তাঁরা সবাই মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
‎
‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ৬ নম্বর একাটুনা ইউনিয়নের রায়শ্রী এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বাসিন্দা মো. শহীদ মিয়া (৪২) কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার থেকে চারটি মহিষ কিনে পিকআপযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল ডাকাত পিকআপটির গতিরোধ করে। পরে নিজেদের পুলিশের পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
‎
‎এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শহীদ মিয়া মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে মামলা রুজু হয়। মামলাটি ১৯ অক্টোবর থানার মামলা নম্বর-২৪ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
‎
‎মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে মৌলভীবাজার পৌরসভার মনু ব্যারেজ এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া খালি পিকআপটি উদ্ধার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর সদর মডেল থানা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাউরঘড়িয়া (চানগাঁও) এলাকার মেহেদী হাসান মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দলের অন্য সদস্য নজরুল ইসলাম, রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়াকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
‎
‎প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, জুমন মিয়ার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্ন সময়ে গাড়ি, গরু-মহিষসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করত। ঘটনার দিন তিনটি মোটরসাইকেলে করে মহিষবাহী পিকআপটির পিছু নেয় তারা। পরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে গাড়িটি থামিয়ে চালক ও মালিককে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি নিয়ে যায়। এরপর বালিয়াকান্দি খেয়াঘাটসংলগ্ন একটি জঙ্গলে মহিষগুলো রেখে পরদিন সিলেটে নিয়ে বিক্রি করে। বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে তদন্তে জানা গেছে।
‎
‎গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়া ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।
‎
‎মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
‎
‎অভিযানে সদর মডেল থানার এসআই রিপটন পুরকায়স্থ, এসআই আশরাফুল আলম চৌধুরী, এসআই জয়ন্ত সরকার, এসআই আবু সাঈদ মোহাম্মদ তৌহিদ ও এএসআই রানা মিয়াসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল অংশ নেয়।
‎
‎এ ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।