
ভাবগম্ভীর ও ধর্মীয় আবহে মৌলভীবাজারে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক জেলা ইজতেমা। প্রথম দিন শুক্রবার ৬ নভেম্বর জুমার নামাজে অংশ নিতে জেলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটে। মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতিতে ইজতেমা ময়দান পরিণত হয় এক বিশাল ধর্মীয় মিলনমেলায়।
শুক্রবার দুপুরে ইজতেমা ময়দানে জুমার নামাজ আদায় করেন মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আহমেদ রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও দূরদূরান্তের এলাকা থেকে মুসল্লিরা দলে দলে নির্ধারিত ইজতেমা ময়দানে সমবেত হতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো ইজতেমা ময়দান।

দুপুরে স্থানীয় ও আগত বিশিষ্ট আলেমরা ধর্মীয় বয়ান পেশ করেন। দুপুর ১টায় জুমার আজান দেওয়া হলে খুতবা শেষে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
ইজতেমায় অংশ নেওয়া বিশ্ব ইজতেমার প্রতিনিধি ও দেশীয় আলেমরা তাঁদের বয়ানে ঈমান-আমল, দাওয়াত ও তাবলিগ এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে উত্তম আখলাক গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান তাঁরা।
আয়োজকরা জানান, তিন দিনব্যাপী এ ইজতেমায় দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা ওয়ায়েজ ও মুরব্বিরা অংশ নিয়ে ধর্মীয় বয়ান পেশ করবেন। আগামী রবিবার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে।
এদিকে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং ওজু-গোসলসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী দলের সদস্যরা কাজ করছেন।
আয়োজকরা আরও জানান, প্রায় ১০০ বছর আগে ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দীন বাংলাওয়ালী মসজিদ থেকে হযরত মাওলানা ইলিয়াছ (রহ.) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও সাহাবিদের (রা.) আদর্শ অনুসরণে যে দাওয়াতি কাজ শুরু করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে দ্বীনি মূল্যবোধ জাগ্রত ও প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে।
আব্দুস সামাদ আজাদ, মৌলভীবাজার 


















