

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন ১৯ মাইল এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী, এক কিশোরী ও এক শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির। তিনি আহতদের চিকিৎসা ব্যাপারে নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (রেজি. নং: ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২৫৬৩) এবং সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাস (রেজি. নং: ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫৯৮৭) কাশিকাপন এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা ৯-এ পৌঁছে।
নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা হলেন— কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট মহানগরের দক্ষিণ সুরমা থানার চণ্ডীপুর গ্রামের জাহাঙ্গীরের মেয়ে ফাইজা (৩), সিলেট নগরের সুবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রিতম (২২), কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার চণ্ডীবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউল সংগীতশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪)। নিহত অপর চারজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। আহত ১৬ জনকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
হাইওয়ে পুলিশের এসআই মো. জসিম উদ্দিন অনলাইন সিলেট -কে জানান, নিহত ৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে বাকীদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে তা স্বাভাবিক করা হয়।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, নিহতদের স্বজনরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
তবে এই দুর্ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকদের ক্লান্তি, যানবাহনের ফিটনেসের ঘাটতি এবং কার্যকর নজরদারির অভাব দীর্ঘদিন ধরেই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কাশিকাপুর এলাকার বাঁক ও ব্যস্ত যান চলাচলের কারণে অতীতেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—দুটি বাস কীভাবে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল? কোনো একটি বাস কি বিপরীত লেনে চলে গিয়েছিল, নাকি অতিরিক্ত গতিই ছিল দুর্ঘটনার মূল কারণ? চালকদের শারীরিক অবস্থা, যানবাহনের ফিটনেস, গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সড়কের নিরাপত্তা অবকাঠামো—সব বিষয়ই তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিটি বড় দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি, শোকবার্তা ও নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে একই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। তাই শুধু এ ঘটনার দায় নির্ধারণ নয়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা, যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি জোরদার করাই ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি কমানোর কার্যকর উপায় হতে পারে।
আব্দুস সামাদ আজাদ। 


















