
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কৃতি সন্তান এবং ইয়াং জেনারেশন উশু ফাইটার্স একাডেমি-এর মেধাবী উশু খেলোয়াড় শামছুর রহমান আনাছ জাতীয় পর্যায়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ জেলা ও সমগ্র সিলেট বিভাগের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর জাতীয় পর্যায়ের উশু প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি -৪৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক লাভ করেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করে তাঁর এই অর্জন নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
শামছুর রহমান আনাছ দীর্ঘদিন ধরে ইয়াং জেনারেশন উশু ফাইটার্স একাডেমি-তে নিয়মিত অনুশীলন করে আসছেন। তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং দক্ষ প্রশিক্ষণের সমন্বয়।
তাঁর প্রশিক্ষক মোঃ আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী একজন জাতীয় পদকপ্রাপ্ত উশু খেলোয়াড়, বিকেএসপি থেকে সনদধারী উশু কোচ এবং ইয়াং জেনারেশন উশু ফাইটার্স একাডেমি-এর প্রতিষ্ঠাতা,পরিচালক ও প্রধান প্রশিক্ষক। তিনি বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও খেলোয়াড়দের স্বপ্ন পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, একাডেমিটিতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ উপকরণ ও খেলাধুলার সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। প্রয়োজনীয় সান্দা ম্যাট, কিক প্যাড, পাঞ্চিং প্যাড, গ্লাভস, হেডগার্ড, বডি প্রটেক্টরসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সামগ্রী না থাকায় খেলোয়াড়দের নিয়মিত ও মানসম্মত অনুশীলনে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করে প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে সীমিত সুযোগেও বড় অর্জন সম্ভব।
একাডেমির পক্ষ থেকে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ক্রীড়াপ্রেমী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে—যদি কেউ প্রশিক্ষণ উপকরণ বা ক্রীড়া সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে খেলোয়াড়রা আরও উন্নত পরিবেশে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাবে। এতে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বেশি পদক এনে দেশের সুনাম অর্জন করা সম্ভব হবে।
শামছুর রহমান আনাছের এই স্বর্ণজয় শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি চুনারুঘাট উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক গর্বের অধ্যায়। তাঁর এই সাফল্যে একাডেমির সকল খেলোয়াড়, অভিভাবক, শুভানুধ্যায়ী এবং স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।
সকলেই বিশ্বাস করেন, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ নিশ্চিত করা গেলে ইয়াং জেনারেশন উশু ফাইটার্স একাডেমি থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও অনেক চ্যাম্পিয়ন উঠে আসবে।
বিল্লাল আহমেদ। 


















