সিলেট ০৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
যুক্তরাজ্যে সিলেট বিভাগ গণদাবী পরিষদের প্রথম কমিটি ঘোষণা, সভাপতি শাহ মুনিম, সম্পাদক এম ইয়াওর উদ্দিন। ‎ময়মনসিংহ বিভাগেই কর্মরত থাকতে খাদ্যভবনে দৌড়, আটপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইমরান মাধবপুরে সাবেক মেয়র শাহ মো. মুসলিম গ্রেপ্তার‎ ‎মৃত্যুর সংবাদ শুনলেই ছুটে যান সরওয়ার আলম ‎জাফলংয়ে ১০ ড্রেজার-৬ এক্সকেভেটরসহ বিপুল সরঞ্জাম ধ্বংস‎ জামালপুরের মেলান্দহে ব্র্যাকের উদ্যোগে অতিদরিদ্রদের স্বাবলম্বী করতে কৃষি সহায়তা ও গরুর টিকাদান কর্মসূচি ‎গোলাপগঞ্জে পাহাড়ের জঙ্গলে মিলল ৪টি এয়ারগান, উদ্ধার করল র‌্যাব-৯ অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, স্মার্টফোন জব্দ ‎ইথারে মানসিক বিভ্রমের সংক্রমণ! সিলেটে বিরল “ফলি এ ডক্স” কেসে চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক সাফল্য ‎সিলেটে ২০ মামলার আসামি ও সাজাপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ী কাউছার গ্রেফতার

‎ময়মনসিংহ বিভাগেই কর্মরত থাকতে খাদ্যভবনে দৌড়, আটপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইমরান

খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো.ইমরান হোসেন (ফাইল ছবি)


‎বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর ও শেরপুর জেলায় বদলী হতে খাদ্যভবনে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন।
‎ওই খাদ্য কর্মকর্তা ইমরান হোসেন ইতোমধ্যেই বদলীর জন্য নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কার্যালয়সহ খাদ্যভবনে আবেদন দিয়েছে। আটপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, তিনি খাদ্য কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন পতিত সরকারের আমলে সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠজন পরিচয়ে দাপটের সঙ্গে চলছেন, ছুটি ভোগের ক্ষেত্রেও ছিল তার বিশাল প্রভাব!

‎খাদ্য কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বর্তমানে আটপাড়া উপজেলাসহ দুই উপজেলার দায়িত্বে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তাঁর নিজ কর্মস্থল এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করা বাধ্যতামূলক। অথচ নেত্রকোনার আটপাড়াসহ বাড়তি আরও একটি  উপজেলার দায়িত্বে থাকা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইমরান হোসেন ঢাকার সাভারে নিজ বাড়িতে বসবাস করেন এবং অনুমতি ছাড়া ছুটি ভোগ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটপাড়া খাদ্য বিভাগের  কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন প্রতি বৃহস্পতিবার দাপ্তরিক কাজ সেরে তাঁর সাভারের বাসায় চলে যান। আবার শনিবার রাতে ফেরেন। মাঝখানের কর্মদিবসে তিনি ডাকবাংলোয় অবস্থান করেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠায় দুই উপজেলায় চলমান গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

‎সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইমরান হোসেনের মূল পদায়ন আটপাড়ায়। পাশাপাশি তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পার্শ্ববর্তী জেলার আরও একটি উপজেলায় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

‎খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) চাল উত্তোলন ও বিতরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই প্রধান কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি হয়নি এবং ওএমএসের চাল বিতরণ নিয়ে অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল সম্প্রতিতে। এমনকি অনেক পয়েন্টে চাল ও আটা বিতরণ না করে আত্মসাতের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে উঠেছিল তখন।

‎এর আগে সরকারি অফিস খোলার পরও তিনি পুরো সপ্তাহ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে পরে তিনি কর্মস্থলে ফেরার তথ্যও আছে তার বিরুদ্ধে।

‎আটপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কয়েকজনের কাছ থেকে জানাযায়,‘স্যার (ইমরান হোসেন) গেল ঈদের পরের সপ্তাহে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে  ছুটিতে ছিলেন। মুলত স্যার ঢাকায় থাকেন। এখানে এসে ডাকবাংলোয় অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বৃহস্পতিবার চলে যান এবং শনিবার রাতে আবার আসেন।’
‎আটপাড়া খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন কর্মকর্তার পক্ষে ঢাকায় বসবাস করে নিয়মিতভাবে দুটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করা বাস্তবে কঠিন। ফলে অনেক সময় তাঁকে অফিসে পাওয়া যায় না।

‎আটপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

‎এ ব্যাপারে নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, বিষয়টি’র খোঁজখবর নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে সিলেট বিভাগ গণদাবী পরিষদের প্রথম কমিটি ঘোষণা, সভাপতি শাহ মুনিম, সম্পাদক এম ইয়াওর উদ্দিন।

‎ময়মনসিংহ বিভাগেই কর্মরত থাকতে খাদ্যভবনে দৌড়, আটপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইমরান

সময় ১১:২২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো.ইমরান হোসেন (ফাইল ছবি)


‎বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর ও শেরপুর জেলায় বদলী হতে খাদ্যভবনে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন।
‎ওই খাদ্য কর্মকর্তা ইমরান হোসেন ইতোমধ্যেই বদলীর জন্য নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কার্যালয়সহ খাদ্যভবনে আবেদন দিয়েছে। আটপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, তিনি খাদ্য কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন পতিত সরকারের আমলে সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠজন পরিচয়ে দাপটের সঙ্গে চলছেন, ছুটি ভোগের ক্ষেত্রেও ছিল তার বিশাল প্রভাব!

‎খাদ্য কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বর্তমানে আটপাড়া উপজেলাসহ দুই উপজেলার দায়িত্বে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তাঁর নিজ কর্মস্থল এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করা বাধ্যতামূলক। অথচ নেত্রকোনার আটপাড়াসহ বাড়তি আরও একটি  উপজেলার দায়িত্বে থাকা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইমরান হোসেন ঢাকার সাভারে নিজ বাড়িতে বসবাস করেন এবং অনুমতি ছাড়া ছুটি ভোগ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটপাড়া খাদ্য বিভাগের  কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন প্রতি বৃহস্পতিবার দাপ্তরিক কাজ সেরে তাঁর সাভারের বাসায় চলে যান। আবার শনিবার রাতে ফেরেন। মাঝখানের কর্মদিবসে তিনি ডাকবাংলোয় অবস্থান করেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠায় দুই উপজেলায় চলমান গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

‎সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইমরান হোসেনের মূল পদায়ন আটপাড়ায়। পাশাপাশি তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পার্শ্ববর্তী জেলার আরও একটি উপজেলায় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

‎খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) চাল উত্তোলন ও বিতরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই প্রধান কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি হয়নি এবং ওএমএসের চাল বিতরণ নিয়ে অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল সম্প্রতিতে। এমনকি অনেক পয়েন্টে চাল ও আটা বিতরণ না করে আত্মসাতের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে উঠেছিল তখন।

‎এর আগে সরকারি অফিস খোলার পরও তিনি পুরো সপ্তাহ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে পরে তিনি কর্মস্থলে ফেরার তথ্যও আছে তার বিরুদ্ধে।

‎আটপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কয়েকজনের কাছ থেকে জানাযায়,‘স্যার (ইমরান হোসেন) গেল ঈদের পরের সপ্তাহে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে  ছুটিতে ছিলেন। মুলত স্যার ঢাকায় থাকেন। এখানে এসে ডাকবাংলোয় অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বৃহস্পতিবার চলে যান এবং শনিবার রাতে আবার আসেন।’
‎আটপাড়া খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন কর্মকর্তার পক্ষে ঢাকায় বসবাস করে নিয়মিতভাবে দুটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করা বাস্তবে কঠিন। ফলে অনেক সময় তাঁকে অফিসে পাওয়া যায় না।

‎আটপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

‎এ ব্যাপারে নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, বিষয়টি’র খোঁজখবর নেওয়া হবে।